মুসলিম শাসকদের বদান্যতায় শুধু প্রাচীন বাংলাতেই লাখ লাখ মাদরাসা এবং বিশ্বমানের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেনি। বরং বাংলার মুসলিম শাসকরা পবিত্র মক্কা শরীফ, পবিত্র মদীনা শরীফেও আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় তৈরী করেছিলেন।
অপরদিকে ব্রিটিশরা এসে বাংলার ৮০ ভাগ মাদরাসা ধ্বংস করলো। মাদরাসা ধ্বংস ও বন্ধের ব্রিটিশ ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা বর্তমানে শুধু ভারতেই নয় এ ষড়যন্ত্রীরা তথা প্রথম আলো-ডেইলি ষ্টার গং ও খোদ শিক্ষা বোর্ড এবং কুশীলবরা এখন বাংলাদেশেই মাদরাসা বন্ধের বহুমুখী ষড়যন্ত্রে কঠোরভাবে লিপ্ত। (২য় পর্ব)
, ২৩ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৬ সাদিস, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৪ নভেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ১৯ কার্তিক, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) বিশেষ প্রতিবেদন
এ বিষয়টি সম্পর্কে দেশবাসীর বিস্তারিত কোনো ধারণা ছিল না। তবে ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে উইকিলিক্স-এর ফাঁস করা তথ্যে সর্বপ্রথম দেশবাসী জানতে পারে যে, সন্ত্রাসবিরোধী কৌশলের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের মাদরাসা শিক্ষার পাঠক্রম পরিবর্তনে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশ সরকার যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
উইকিলিক্সের তথ্যে বলা হয়, মাদরাসার পাঠক্রম পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ব্রিটেনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ডিএফআইডি) এক সাথে কাজ করছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত মরিয়ার্টি যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাস বিরোধী কৌশলের বিষয়টি উল্লেখ করে মাদরাসাগুলোর জন্য একটি পাঠক্রম তৈরি ও প্রয়োগের প্রস্তাব পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রদানের কথা উল্লেখ করেছে।
এতে আরও বলা হয়েছে যে, মাদরাসা পাঠক্রম উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির দেয়া এক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বস্তুত এই উদ্যোগটি বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটেন কিংবা ডিএফআইডি ও ইউএসএআইডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
এই উদ্যোগকে বহুমুখী করার লক্ষ্য হিসেবে আরও বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থাকেও মাদরাসাবিরোধী তৎপরতার সাথে যুক্ত করা হয়েছে।
এর মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও (এডিবি) বিশ্বব্যাংক উল্লেখযোগ্য। ঐ সময়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বাংলাদেশের মাদরাসাসমূহের পাঠক্রম পরিবর্তনের লক্ষ্যে একটি ধারণাপত্র তৈরি করেছে।
এই ধারণাপত্রে দেশের মাদরাসাগুলোকে জঙ্গি সন্ত্রাসীদের বড় ধরনের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে অভিহিত করে বলা হয়েছে যে, সেখানকার শিক্ষাব্যবস্থা সময় উপযোগী নয়।
এই ধারণাপত্রে কওমী মাদরাসা সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এর শিক্ষাক্রম সার্বজনীন নয়। বলাবাহুল্য, ২০০৯ সালে “মাদরাসা শিক্ষা উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন কৌশল সহায়ক প্রকল্প” শিরোনামে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে একটি প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়। এই প্রকল্পটির ব্যয় বরাদ্দের পরিমাণ হচ্ছে ৮১ কোটি টাকা এবং এই প্রকল্পের সামগ্রিক তৎপরতার দিকনির্দেশনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হচ্ছে এডিবির সমীক্ষা টীমের প্রধান ব্রিটিশ নাগরিক ড. ক্রিস্টোফার কুমিং। ইসলাম বা ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা, মাদরাসা শিক্ষার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, ঐতিহাসিক পটভূমি অথবা পবিত্র কুরআন শরীফ-পবিত্র সুন্নাহ শরীফ ও ফিক্হ-উসুল সম্পর্কে এই লোকের কোন ধারণাই ছিলো না। আবার সমীক্ষা দলে বাংলাদেশ অথবা অন্য কোন দেশের খ্যাতনামা কোন আলেমকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ২০১১ সালের ৩০ মার্চ রাজধানীর একটি হোটেলে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক আয়োজিত এক কর্মশালার প্রকল্প কর্তৃপক্ষ এর একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। এই প্রতিবেদনে বলা হয়, “ব্যাপকভাবে ধারণা রয়েছে যে, মাদরাসাগুলো জঙ্গি সন্ত্রাসীদের বড় ধরনের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। সেখানকার শিক্ষাব্যবস্থা সময়োপযোগী নয়।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের পাশাপাশি আওয়ামী সরকার বিশ্বব্যাংকের ন্যায় প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকেও মাদরাসাবিরোধী তৎপরতার সাথে যুক্ত করেছে। এর লক্ষ্য একটাই, মাদরাসার বিদ্যমান পাঠক্রম পরিবর্তন করে এমনভাবে ঢালাই করা যাতে মাদরাসা থেকে দ্বীনের প্রকৃত জ্ঞান ও শিক্ষা নিয়ে কোন আলেম তৈরি হতে না পারে।
আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় আসার পর পতিত আওয়ামী আমলে বিশ্বব্যাংকের ঝড়ঁঃয অংরধ জবমরড়হ-এর ঐঁসধহ উবাবষড়ঢ়সবহঃ ঝবপঃড়ৎ থেকে ২০০৯ সালে “ঝবপড়হফধৎু ঝপযড়ড়ষ, গধফৎধংধং রহ ইধহমষধফবংয : ওহপরফবহপব, ছঁধষরঃু ধহফ ওসঢ়ষরপধঃরড়হং ভড়ৎ জবভড়ৎস” শীর্ষক একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংকের তরফ থেকে এই রিপোর্ট প্রণয়নে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিভাগ এবং রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের নিয়াজ আসাদুল্লাহ, বিশ্বব্যাংকের দু’জন কর্মকর্তা যথাক্রমে নাজমুল চৌধুরী ও সৈয়দ রাশেদ আল জায়েদ জোশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। তারা বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য যাদের কাছ থেকে সহযোগিতা গ্রহণ করেছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি হচ্ছে মার্কাস গোল্ড স্টেইন, মাইকেল রিবাউড ও হেলসি রজার্স নামক তিনজন ইহুদী।
বিশ্ব ব্যাংকের দৃষ্টিতে তিনটি কারণে মাদরাসা শিক্ষা বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কারণগুলো হচ্ছে তাদের ভাষায় :
অর্থাৎ- ১. মাদরাসা শিক্ষা ও এই প্রতিষ্ঠানসমূহে প্রদত্ত দক্ষতা ও কর্মকৌশলতা আধুনিক অর্থনীতি বিকাশের অনুকূল নয়। এটা সাধারণ ধারণা হচ্ছে মাদরাসা শিক্ষার মান সাধারণ শিক্ষার মানের তুলনায় নিকৃষ্ট। এর ফলে মাদরাসা থেকে ডিগ্রীপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক কর্মকা- পরিচালনায় ব্যর্থ হয় এবং এই প্রেক্ষিতে শিক্ষিত বেকারদের সংখ্যা বৃদ্ধিতে তারা সহায়তা করে। বিদ্যা সাধনার বিদ্যমান অবস্থায় তাদের অর্জিত যৎসামান্য জ্ঞান ভবিষ্যৎ দারিদ্র্যের অভিশাপ ও মাত্রাকেই বৃদ্ধি করে মাত্র।
২. একটি গণতান্ত্রিক সমাজ পরিচালনায় নাগরিক মুল্যবোধ হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মাদরাসা শিক্ষায় এই নাগরিক মূল্যবোধ বিকশিত হয় না। ফলে শিক্ষা এবং নাগরিকত্বের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরিতে আগ্রহী নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে মাদরাসা শিক্ষা দুর্ভাবনার সৃষ্টি করে।
৩. ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের একটি বিশাল অংশ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকায় তাদের পাঠ্যসূচি নিয়ন্ত্রণ ও শিক্ষা-প্রশিক্ষণ পদ্ধতির উন্নয়ন অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশ্ব ব্যাংকের রিপোর্ট অনুযায়ী উপরোক্ত তিনটি কারণে ইসলামপন্থী পরিচালিত বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা এবং মাদরাসাসমূহের ব্যাপ্তি ও সম্প্রসারণ মৌলবাদের উপকরণ হিসেবে কাজ করছে রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্বায়নের এই যুগে বাংলাদেশের জন্য এটা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। কেননা অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের সাথে তাকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে হচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে শিক্ষাব্যবস্থার কাজ শুধু দক্ষ জনশক্তি তৈরিই নয় বরং সামাজিক মেরুকরণ ও বিভক্তি রোধ করাও যাতে করে দেশে একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশের গ্যারাণ্টি থাকে।
বিশ্ব ব্যাংকের রিপোর্টে মাদরাসাশিক্ষাকে এই গ্যারাণ্টির পরিপন্থি বলেই গণ্য করা হয়েছে।
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুসলিম শাসকদের বদান্যতায় শুধু প্রাচীন বাংলায়ই লাখ লাখ মাদরাসা এবং বিশ্বমানের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেনি। বরং বাংলার মুসলিম শাসকরা পবিত্র মক্কা শরীফ, পবিত্র মদীনা শরীফেও আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় তৈরী করেছিলেন।
০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
এখন জাপানের অর্থায়নে মাতারবাড়ীতে যে সমুদ্র বন্দর হচ্ছে তার সুফল-সমৃদ্ধি নিবে ভারত।
০২ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
কুরবানির রক্তে পরিবেশ দূষণের রব, পূজার মূর্তি ফেলা নিয়ে পরিবেশবাদীদের নীরবতা কেন?
০১ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
শিক্ষানীতির পরিবর্তন ছাড়া মুসলমানদের অধিকার কখনোই প্রতিষ্ঠিত হবে না
৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশ্বে ৩০০ কোটিরও বেশী মুসলমান থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তা পরিষদে পঞ্চ শক্তিতে কোনো মুসলিম দেশ নেই। ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া কিংবা সিরিয়ার মতো দেশগুলোতে মার্কিন হস্তক্ষেপ মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে, অথচ জাতিসংঘ সেই আগ্রাসন রুখতে ব্যর্থ হয়েছে মার্কিন ভেটোর ভয়ে। আর ফিলিস্তিনে ইসরাইলি বর্বরতায় যখন বিশ্ববিবেক থমকে দাঁড়ায়, তখন যুক্তরাষ্ট্র নির্লজ্জভাবে তা সমর্থন করে বা নীরব থেকে জাতিসংঘের অবস্থানকেও প্রভাবিত করে।
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুসলমানরা কি তাদের ক্বিবলা পরিবর্তন করে ফেললো!!
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মাদরাসা শিক্ষার উপর ভিত্তি করেই ছড়িয়েছে জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলো।
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ডিপি ওয়ার্ল্ড চুক্তিতে দেশের স্বার্থ যেভাবে বিকিয়ে দেয়া হয়েছে (৪)
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ডিপি ওয়ার্ল্ড চুক্তিতে দেশের স্বার্থ যেভাবে বিকিয়ে দেয়া হয়েছে (৩)
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
* আমার অভিভাবক তো আল্লাহ পাক, যিনি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তিনিই সৎকর্ম পরায়ণদের অভিভাবকত্ব করে থাকেন। আল্লাহ পাক ব্যতীত তোমরা যাকে আহবান করো তারা তো তোমাদেরকে সাহায্য করতে পারে না এবং তাদের নিজেদেরকেও না। যদি তাদেরকে সৎপথে আহ্বান করেন তবে তারা শ্রবণ করবে না এবং আপনি দেখতে পাবেন যে, তারা আপনার দিকে তাকিয়ে আছে কিন্তু তারা দেখে না’। (পবিত্র সূরা আ’রাফ শরীফ : ৭/১৯৪-১৯৮)।
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
জনঅসন্তোষের আগুনে ঘি ঢালার শামিল
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ধর্মব্যবসায়ী ও বিধর্মীদেরকে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো থেকে অপসারণ জরুরী
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












