মহিলা ও পুরুষদের চোখের দৃষ্টির পর্দা সম্পর্কে জানার কিছু বিষয় (২)
, ১৭ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৮ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ২৩ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) মহিলাদের পাতা
পবিত্র হাদীছ শরীফে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
“ক্বিয়ামতের দিন প্রত্যেক চোখই কাঁদবে। শুধু ঐ চোখ কাঁদবে না, যে চোখ মহান আল্লাহ পাক উনার হারামকৃত জিনিস দেখা থেকে সংযত থেকেছে। আর ঐ সমস্ত চোখ যা মহান আল্লাহ পাক উনার পথে রাত্রি জেগেছে এবং ঐ সমস্ত চোখ যে মহান আল্লাহ পাক উনার ভয়ে কেঁদে অশ্রু বের করেছে। যদিও চোখের অশ্রু মাছির মাথার সমান হয়।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে ইবনে কাছীর ৩য় জি:)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত আছে, ইমাম জাছছাছ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, চক্ষু নিম্নগামী করার নির্দেশ আমাদের জন্য যাদেরকে দেখা হারাম তাদের সম্পর্কেই। হযরত মুহম্মদ বিন ইসহাক রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত মুহম্মদ বিন ইবরাহীম রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে, তিনি হযরত সালামা ইবনে আবূ তুফাইল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে, তিনি হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
“হে আলী আলাইহিস সালাম! নিশ্চয়ই আপনার জন্য জান্নাতে বিশেষ ধনভান্ডার রয়েছে, আর আপনিই সেই ধনভান্ডারের মালিক। আপনি প্রথম দৃষ্টির পর পুনরায় দৃষ্টি দিবেন না। কেননা আপনার প্রথম দৃষ্টি ক্ষমা করা হবে, কিন্তু দ্বিতীয় দৃষ্টি ক্ষমা করা হবে না।” হযরত আবূ যুরায়া রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত জারীর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণনা করেন। তিনি হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হঠাৎ পড়ে যাওয়া দৃষ্টি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন, “তিনি আমাকে নির্দেশ দেন যে, আমি যেন সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেই।” সুবহানাল্লাহ! (আহকামুল কুরআন লিশ্ শফী ওয়াত থানুবী ৩য় জি:)
মহান আল্লাহ পাক তিনি মু’মিন পুরুষ ও মহিলাগণকে যা হালাল নয় এমন কিছু থেকে চোখকে ফিরিয়ে রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। কোন পুরুষের জন্য বেগানা নারীর প্রতি তাকানো হালাল বা জায়িয নয়। অনুরূপভাবে কোন মহিলার জন্যও পর পুরুষের দিকে তাকানো জায়িয বা হালাল নয়।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো কয়েকটা বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে।
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, “কোন পুরুষ অন্য কোনো পুরুষের ছতরের দিকে তাকাবে না, অনুরূপভাবে কোনো মহিলা অন্য কোন মহিলার ছতরের দিকে তাকাবে না। কোনো পুরুষ অপর কোনো পুরুষের সাথে একই চাদরের নীচে যেন না শোয়, অনুরূপভাবে একজন মহিলা অপর মহিলার সাথে যেন একই চাদরের নীচে না শোয়।” (মুসলিম শরীফ, শরহুন নববী, ফতহুল মুলহিম)
এখানে যে ছতরের কথা বলা হয়েছে, তা হলো নাভী থেকে হাটুর নীচ পর্যন্ত।
মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদের সকলকে হাক্বীক্বী পর্দা সম্পর্কে জানার এবং ইখলাছের সাথে আমল করার তাওফিক দান করেন। (আমীন)
-আহমদ উম্মু হাসান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশ্তে প্রবেশ করবে না
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মেহমানদারী করার মাধ্যমে উদযাপনে শাফায়াত মুবারক লাভ
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কারবালার ঘটনার জন্য মালউন ইয়াযিদ লানতুল্লাহি আলাইহি দায়ী এবং সে কাট্টা কাফির (১)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (২০)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাশরের ময়দানে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককেই দিতে হবে
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত এবং পবিত্র ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












