পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকে
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনাকে মুহব্বত করার, ইত্তেবা করার এবং প্রচার-প্রসার করার কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ ফযীলত মুবারক (২)
, ১৫ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ৩০ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ১৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
২) দুনিয়া ও আখিরাতের সর্বপ্রকার ফিতনা (আযাব-গযব থেকে) ও পথভ্রষ্ট হওয়া থেকে মুক্তি লাভ করা যায়।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالـٰى قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلَاثَةٌ لَا تَمَسُّهُمْ فِتْنَةُ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ: الْمُقِرُّ بِالْقَدَرِ، وَالَّذِي لَا يَنْظُرُ فِي النُّجُومِ، وَالْمُتَمَسِّكُ بِسُنَّتِي.
অর্থ : হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তিন প্রকার ব্যক্তি উনাদেরকে দুনিয়া এবং আখিরাতের কোন ফিতনা (আযাব-গযব) স্পর্শ করবে না। ১. যাঁরা সম্মানিত কুদরত মুবারক উনার উপর বিশ্বাস করেন, ২. যাঁরা তারকা দেখেন না অর্থাৎ নক্ষত্রের প্রভাব বিশ্বাস করেন না এবং ৩. যাঁরা আমার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে থাকবেন। সুবহানাল্লাহ! (জামি‘উল আহাদীছ ১১/৪৮০, জাম‘উল জাওয়ামি’ ১/১১৩৭৮, আল ফিরদাউস ২/৯৬ ইত্যাদি)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ مَالِكِ بْنِ اَنَسٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ مُرْسَلًا قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَرَكْتُ فِيْكُمْ أَمْرَيْنِ لَنْ تَضِلُّوْا مَا تَمَسَّكْتُمْ بِهِمَا: كِتَابَ اللَّهِ وَسُنَّةَ رَسُوْلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: “হযরত মালিক ইবনে আনাস রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি তোমাদের মধ্যে দু’টি নিয়ামত মুবারক রেখে যাচ্ছি। যতক্ষণ তোমরা সে দু’টি নিয়ামত মুবারক আঁকড়ে ধরে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত পথভ্রষ্ট হবে না- মহান আল্লাহ্ পাক উনার সম্মানিত কিতাব মুবারক এবং উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক।” (মুওয়াত্তায়ে মালিক)
অর্থাৎ দুনিয়া-আখিরাতের সর্বপ্রকার আপদ-বিপদ, বালা-মুসীবত, ফিতনা-ফাসাদ, আযাব-গযব থেকে বাঁচতে হলে, অবশ্যই অবশ্যই মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার ইত্তিবা, অনুসরণ-অনুকরণ মুবারক করতে হবে। যখনই কেউ মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক থেকে গাফিল হবে, ইত্তেবা মুবারক করবে না; তখন সে গোমরাহীর মধ্যে নিমজ্জিত হবে। আর যে গোমরাহীর মধ্যে নিমজ্জিত হবে, সে বিভিন্ন প্রকার আপদ-বিপদ, বালা-মুসীবত, আযাব-গযবে পতিত হবে। নাউযুবিল্লাহ!
৩) সম্মানিত হিদায়াত মুবারক লাভ করা যায়।
কেউ যদি সম্মানিত হিদায়াত মুবারক লাভ করতে চায়, সম্মানিত হিদায়াত মুবারক উনার উপর ইস্তিক্বামত থাকতে চায়, তাহলে অবশ্যই মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী সকল আমল করতে হবে। কেননা, এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَإِنْ تُطِيْعُوْهُ تَهْتَدُوْا
অর্থ : যদি তোমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ইত্তিবা মুবারক, অনুসরণ-অনুকরণ মুবারক করো, তাহলেই তোমরা সম্মানিত হিদায়াত মুবারক লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা নূর শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৪)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
فَمَنْ أَخَذَ بِسُنَّتِيْ فَقَدِ اهْتَدَى، وَمَنْ تَرَكَهَا ضَلَّ
অর্থ : সুতরাং যে ব্যক্তি আমার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার ইত্তিবা মুবারক করবেন, অনুসরণ-অনুকরণ মুবারক করবেন, তিনি অবশ্যই সম্মানিত হিদায়াত মুবারক লাভ করবেন। সুবহানাল্লাহ! আর যে ব্যক্তি মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক তরক করবে, ছেড়ে দিবে, সে গোমরাহীতে নিমজ্জিত হয়ে যাবে, পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। নাউযুবিল্লাহ! (মু’জামুল কাবীর লিত্ ত্ববরানী ৭/২৫২, মাজমা‘উঝ ঝাওয়াইদ ২/৩০৭ ইত্যাদি)
অর্থাৎ মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী আমলকারী ব্যক্তি সর্বদাই হক্বের উপর, সম্মানিত হিদায়াত উনার উপর ইস্তিক্বামত থাকবেন। আর যে ব্যক্তি সম্মানিত সুন্নত মুবারক তরক করবে, ছেড়ে দিবে সে অবশ্যই গোমরাহ হয়ে যাবে।
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং বিভিন্ন ভেষজ গুণে সমৃদ্ধ “তীন” (ডুমুর) ফল।
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২৩)
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পছন্দনীয় খাবার মুবারক “মাখন”
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নতী খাবার হারীসাহ
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নতী খাবার হাইস
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নতী খাবার সাওয়ীক্ব (ছাতু)
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার মাঠা (লাবান)
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র জুমুয়াহ শরীফ দিনের মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক
০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সুস্বাস্থ্যের জন্য মহাসম্মানিত সুন্নতী খাদ্য কিছ্ছা অত্যন্ত উপকারী
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২২)
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গোসল করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (৫)
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












