পবিত্র জুমুয়াহ শরীফ দিনের মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক
, ২৮ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১১ খ্বমিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১০ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রি:, ২৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَذَكِّرْهُمْ بِاَيَّامِ اللهِ اِنَّ فِـىْ ذٰلِكَ لَاٰيٰتٍ لِّكُلِّ صَبَّارٍ شَكُوْرٍ
অর্থ: “আর আপনি তাদেরকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফ অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিশেষ বিশেষ দিন মুবারক সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দিন, জানিয়ে দিন। নিশ্চয়ই এই বিশেষ বিশেষ দিন মুবারকসমূহ উনাদের মধ্যে প্রত্যেক ধৈর্যশীল ও শুকুরগুজার বান্দা-বান্দী, উম্মত উনাদের জন্য সম্মানিত আয়াত শরীফ অর্থাৎ নিদর্শন মুবারক, উপদেশ মুবারক, মুহব্বত-মা’রিফাত, নিসবত-কুরবত মুবারক, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক নিহিত রয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা ইবরাহীম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ - ৫)
পবিত্র জুমুয়াহ শরীফও মহাসম্মানিত আইয়্যামুল্লাহ শরীফ উনার অন্তর্ভুক্ত। পবিত্র জুমুয়াহ শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত মুবারক অন্যান্য দিনের থেকে ফযীলতপূর্ণ। যার কারণে এই দিবসকে সাইয়্যিদুল আইয়্যাম বা সকল দিবসের শ্রেষ্ঠ দিবস বলা হয়। আর পবিত্র ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ দিবস মুবারক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সম্পৃক্ত, নিছবতযুক্ত হওয়ার কারণে উক্ত দিবস মুবারক উনাকে পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ বলা হয়। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، وَتَطَهَّرَ بِمَا اسْتَطَاعَ مِنْ طُهْرٍ، ثُمَّ ادَّهَنَ أَوْ مَسَّ مِنْ طِيْبٍ، ثُمَّ رَاحَ فَلَمْ يُفَرِّقْ بَيْنَ اثْنَيْنِ، فَصَلّٰى مَا كُتِبَ لَهٗ، ثُمَّ إِذَا خَرَجَ الْإِمَامُ أَنْصَتَ، غُفِرَ لَهٗ مَا بَيْنَهٗ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ الْأُخْرٰى.
অর্থ: হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি পবিত্র জুমুয়ার দিন গোসল করে এবং যথাসম্ভব উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, অতঃপর তেল মেখে নেয় অথবা সুগন্ধি ব্যবহার করে, অতঃপর (সম্মানিত মসজিদে) যায়, আর দু’জনের মধ্যে ফাঁক করে না এবং তার ভাগ্যে নির্ধারিত পরিমাণ নামায আদায় করে। আর ইমাম যখন (খুতবার জন্য) বের হন তখন চুপ থাকে। তার এ জুমুয়ার এবং পরবর্তী জুমুয়ার মধ্যবর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। (বুখারী শরীফ: ৯১০)
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, পবিত্র জুমুয়ার দিন যথাসম্ভব তোমরা সুগন্ধি ব্যবহার করো। (নাসায়ী শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং- ১৩৫৮)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
مَنْ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَلَبِسَ مِنْ أَحْسَنِ ثِيَابِهِ وَمَسّ مِنْ طِيبٍ إِنْ كَانَ عِنْدَهُ، ثُمّ أَتَى الْجُمُعَةَ فَلَمْ يَتَخَطّ أَعْنَاقَ النّاسِ ثُمّ صَلّى مَا كَتَبَ اللهُ لَهُ ثُمّ أَنْصَتَ إِذَا خَرَجَ إِمَامُهُ حَتّى يَفْرُغَ مِنْ صَلَاتِهِ كَانَتْ كَفّارَةً لِمَا بَيْنَهَا وَبَيْنَ جُمُعَتِهِ الّتِي قَبْلَهَا.
অর্থ: যে ব্যক্তি জুমুয়ার দিন গোসল করল, তার কাছে থাকা সুন্দরতম জামাটি পরিধান করল এবং সংগ্রহে থাকলে সুগন্ধি ব্যবহার করল, এরপর জুমুয়াতে উপস্থিত হল, কারো কাঁধ ডিঙ্গিয়ে গেল না, তারপর মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত তাওফীক্ব মুবারক অনুযায়ী পবিত্র সুন্নত-নফল নামায পড়ল, অতঃপর খতীব (খুতবার জন্য) বের হওয়া থেকে নামায শেষ করা পর্যন্ত নিশ্চুপ থাকল, তার এই নামায এ জুমুয়াহ থেকে সামনের জুমুয়াহ পর্যন্ত (গুনাহের) কাফ্ফারা হবে। (আবূ দাউদ শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং: ৩৪৩; মুসনাদে আহমাদ শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং: ১১৭৬৮; ইবনে হিব্বান শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং: ২৭৭৮; মুস্তাদরাক লিল হাকিম, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং: ১০৪৬৫)
উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ সমূহ থেকে সুস্পষ্ট হয় যে, পবিত্র জুমুয়াহ শরীফে বিশেষভাবে প্রস্তুতি নেয়া আবশ্যক এবং মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত।
নি¤েœ পবিত্র জুমুয়াহ শরীফ দিবস মুবারকের মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো -
১) হাত-পায়ের নখ ও চুল, গোফ, ইত্যাদি কাটা।
২) গোসল করা।
৩) পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন, উত্তম কাপড় অর্থাৎ পবিত্র সুন্নতী লিবাস পরিধান করা।
৪) সুগন্ধি/ আতর ব্যবহার করা।
৫) যতসম্ভব তাড়াতাড়ি মসজিদে উপস্থিত হওয়া।
৬) মুসল্লীদেরকে ডিঙ্গিয়ে সামনের কাতারে না যাওয়া।
৭) অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে খুতবা শ্রবণ করা।
৮) বেশি বেশি পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ, পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ করা।
৯) বেশি বেশি ইস্তেগফার ও দোয়া-মুনাজাত করা। ইত্যাদি
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার মাঠা (লাবান)
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সুস্বাস্থ্যের জন্য মহাসম্মানিত সুন্নতী খাদ্য কিছ্ছা অত্যন্ত উপকারী
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২২)
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গোসল করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (৫)
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গোসল করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (৩)
০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
গোসল করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (২)
০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
গোসল করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (১)
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নেককাজে দাওয়াত দেয়ার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ (৩)
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২১)
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নেক কাজে দাওয়াত দেয়ার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ (২)
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নেক কাজে দাওয়াত দেয়ার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ (১)
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












