মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ বিজয় (৮)
, ২৫ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ০১ খ্বমিস , ১৩৯২ শামসী সন , ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ খ্রি:, ১৪ আশ্বিন, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) আইন ও জিহাদ
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের বিশাল সৈন্যবাহিনী এবং উনাদের শান-জৌলুশ, শক্তি-সামর্থ্য, রণকৌশল, রণসজ্জা, সুশৃঙ্খলতা, কাতারবদ্ধতা, অপরাজেয় বীরত্বপূর্ণ মনোবল মুবারক:
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আওক্বাত শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছুবহে ছাদিক্ব শরীফ) শুরু হওয়ার সাথে সাথেই মরু উপত্যকা সম্মানিত আযান উনার সুমধুর ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠলো। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা সম্মানিত ছলাতুল ফজর আদায় করলেন। সম্মানিত ছলাত উনার পর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ-এ প্রবেশ করার উদ্দেশ্যে রওয়ানা মুবারক হওয়ার পূর্বে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ সুফিয়ান আলাইহিস সালাম উনাকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের বিশাল সৈন্যবাহিনী উনাদের শান-জৌলুশ, শক্তি-সামর্থ্য, রণকৌশল, রণসঞ্জা, সুশৃঙ্খলতা, কাতারবদ্ধতা, বীরত্বপূর্ণ মনোবল মুবারক ইত্যাদি দেখানোর লক্ষ্যে সাইয়্যিদুনা হযরত খ্বাতিমুল মুহাজিরীন আলাইহিস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নির্দেশ মুবারক দিলেন তিনি যেন সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ সুফিয়ান আলাইহিস সালাম উনাকে নিয়ে ‘মাররুয যাহরান’-এর গিরিপথে দাঁড়িয়ে থাকেন। সাইয়্যিদুনা হযরত খ্বাতিমুল মুহাজিরীন আলাইহিস সালাম তিনি তাই করলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ সুফিয়ান আলাইহিস সালাম উনার সামনে দিয়ে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের বিশাল সৈন্যবাহিনী রণসাজে সুসজ্জিত অবস্থায় সুশৃঙ্খলভাবে কাতারবদ্ধ হয়ে অপরাজেয় মনোবল মুবারক নিয়ে চলতে থাকেন। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের বিশাল সৈন্যবাহিনী এবং উনাদের শান-জৌলুশ, শক্তি-সামর্থ্য, রণকৌশল, রণসজ্জা, সুশৃঙ্খলতা, কাতারবদ্ধতা, অপরাজেয় বীরত্বপূর্ণ মনোবল মুবারক দেখে সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ সুফিয়ান আলাইহিস সালাম তিনি নিশ্চিত হন যে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের শক্তি আজ চির অপরাজেয়। উনাদের মুকাবিলা করার মতো কুরাইশদের কোনো শক্তি সামর্থ্যই নেই।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সরাসরি তত্ত্বাবধান এবং পরিচালনা মুবারক-এ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের বিশাল সৈন্যবাহিনী ৪ ভাগে বিভক্ত হয়ে পর্যাক্রমে ‘মাররুয যাহরান’-এর গিরিপথ পার হয়ে যান। এ সময় সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ সুফিয়ান আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত খ্বাতিমুল মুহাজিরীন আলাইহিস সালাম উনাকে লক্ষ্য করে বললেন, মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! আজ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এক বিরাট ক্ষমতার মালিক। সুবহানাল্লাহ! তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘অবশ্যই আজ মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ উনাকে মর্যাদা দান করবেন। অবশ্যই আজ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ উনাকে গিলাফ মুবারক পরানো হবে। ’ সুবহানাল্লাহ!
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের বিশাল সৈন্যবাহিনী এবং উনাদের শান-জৌলুশ, শক্তি-সামর্থ্য, রণকৌশল, রণসজ্জা, সুশৃঙ্খলতা, কাতারবদ্ধতা, অপরাজেয় বীরত্বপূর্ণ মনোবল মুবারক এবং ইনসাফ মুবারক (ন্যায়-নীতি) ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করার পর সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ সুফিয়ান আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ-এ প্রবেশ করে কুরাইশদেরকে সতর্ক করে বলেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আজ এমন এক বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে এসেছেন, যার মুকাবিলা ও প্রতিরোধ করার ক্ষমতা তোমাদের নেই। এরপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে নিরাপত্তার বিষয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঘোষণা মুবারক দিয়েছেন- ‘যে ব্যক্তি সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ সুফিয়ান আলাইহিস সালাম উনার বাড়িতে প্রবেশ করবে, সে ব্যক্তি নিরাপত্তা লাভ করবে। যে ব্যক্তি আত্মসমর্পণ করবে, সে ব্যক্তি নিরাপত্তা লাভ করবে। যে ব্যক্তি নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করবে, সে ব্যক্তি নিরাপত্তা লাভ করবে। যে ব্যক্তি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদে হারাম শরীফ অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ উনার মধ্যে আশ্রয় নিবে, সে ব্যক্তিও নিরাপত্তা লাভ করবে। ’ সুবহানাল্লাহ! সেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঘোষণা মুবারক সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ সুফিয়ান আলাইহিস সালাম তিনি কুরাইশদেরকে শুনিয়ে দিলেন।
-মুহম্মদ ইবনে ছিদ্দীকুর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৭)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৭)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়:(১৫তম পর্ব)
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৬)
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৬)
২০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৪তম পর্ব)
১৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৫)
১৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৫)
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৩তম পর্ব)
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৪)
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১২তম পর্ব)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৩)
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












