মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আশূরা শরীফ উনার আক্বীদাহ্ (৩)
, ১৫ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১২ ছানী, ১৩৯৩ শামসী সন , ১১ জুলাই, ২০২৫ খ্রি:, ২৭ আষাঢ়, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
৩. হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিষয়ে বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্:
হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকই মা’ছূম বা নিষ্পাপ। উনারা ছগীরা-কবীরা, কুফরী-শিরকী; এমনকি যাবতীয় অপছন্দনীয় কাজ থেকেও পূত-পবিত্র। উনারা দায়িমীভাবে ২৪ ঘণ্টা মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সম্মানিত ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। উনাদের খাওয়া-দাওয়া, উঠা-বসা, চাল-চলন, কথা-বার্তা মুবারক সমস্ত কিছুই সম্মানিত ওহী মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত; এমনকি উনাদের স্বপ্ন মুবারকও সম্মানিত ওহী মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, نُوْحِىْ اِلَيْهِمْ “আমি (হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের) প্রতি সম্মানিত ওহী মুবারক প্রেরণ করতাম। ” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ইউসূফ শরীফ : সম্মানিত ও আয়াত শরীফ ১০৯)
তাই আক্বাইদের কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন,
اَلْاَنْۢبِيَاءُ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ كُلُّهُمْ مَعْصُوْمُوْنَ
অর্থ: “সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা মা’ছূম অর্থাৎ নিষ্পাপ। ” সুবহানাল্লাহ!
আক্বাইদের কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছেন,
اَلْاَنْۢبِيَاءُ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ كُلُّهُمْ مُنَزَّهُوْنَ عَنِ الصَّغَائِرِ وَالْكَبَائِرِ وَالْكُفْرِ وَالْقَبَائِحِ
অর্থ: “সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ছগীরা-কবীরা, কুফরী-শিরকী; এমনকি যাবতীয় অপছন্দনীয় কাজ থেকেও পূত-পবিত্র। ” সুবহানাল্লাহ!
কাজেই হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে যদি ভুল বা গুনাহের বিষয়টি সম্পৃক্ত করা হয়, তাহলে একইসাথে এটাও সম্পৃক্ত হয়ে যায় যে, মহান আল্লাহ পাক তিনিই সম্মানিত ওহী মুবারক নাযিলে ভুল করেছেন এবং তিনিই উনাদের দ্বারা গুনাহ করিয়েছেন। না‘ঊযুবিল্লাহ! যা চিন্তা-কল্পনা করাও কাট্টা কুফরী ও চির জাহান্নামী হওয়ার কারণ। না‘ঊযুবিল্লাহ!
হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে কতটুকু আদব রক্ষা করতে হবে, এ প্রসঙ্গে কিতাবে ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীকত হযরত ইমাম সাররি সাকতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ঘটনা উল্লেখ করা হয়- যিনি উনার যামানায় মহান আল্লাহ পাক উনার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ ছিলেন। যিনি হচ্ছেন ইমামুশ্ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত। তিনি একবার মহান আল্লাহ পাক উনার নবী এবং রসূল হযরত ইয়া’কূব আলাইহিস সালাম উনাকে স্বপ্নে দেখেন। তখন তিনি পরিপূর্ণ আদবের সাথে প্রশ্ন করেছিলেন, হে মহান আল্লাহ পাক উনার নবী এবং রসূল হযরত ইয়া’কূব আলাইহিস সালাম! আপনার অন্তরে মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত মুবারক অবশ্যই পরিপূর্ণ রয়েছেন। তা সত্বেও আপনি কেন আপনার সম্মানিত আওলাদ (ছেলে) হযরত ইঊসুফ আলাইহিস সালাম উনার জুদায়ীর কারণে উনার মুহব্বতে চল্লিশ বছর যাবৎ কেঁঁদে কেঁদে আপনার চক্ষু মুবারক নষ্ট করেছিলেন? একথা বলার সাথে সাথে গায়েবী নেদা হলো, ‘হে সাররি সাকতী! হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান মুবারকে আদবের সাথে কথা বলুন। ’ এরপর হযরত ইঊসুফ আলাইহিস সালাম উনাকে উনার সামনে পেশ করা হলে তিনি বেহুঁশ হয়ে পড়ে যান এবং এভাবে একাধারা ১৩ দিন ১৩ রাত বেহুঁশ থাকার পর হুঁশ ফিরে পান। তখন পুনরায় গায়েবী নেদা হলো, ‘মহান আল্লাহ পাক উনার হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান মুবারকে এভাবে কথা বললে এরূপ অবস্থাই হয়ে থাকে। ’ না‘ঊযুবিল্লাহ! (তাযকিরাতুল আউলিয়া)
উল্লেখ্য যে, হযরত ইমাম সাররি সাকতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত এবং মহান আল্লাহ পাক উনার লক্ষ্যস্থল ওলী হওয়া সত্বেও উনার যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি কি পরিমাণ আদব রক্ষা করতে হবে তা এখান থেকে দিবালোকের ন্যায় অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়। সুবহানাল্লাহ!
যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে এ কথা কি করে বলা যেতে পারে যে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ভুল করেছেন, গুনাহ-খতা করেছেন? না‘ঊযুবিল্লাহ! যারা এরূপ বলবে বা এরূপ আক্বীদাহ্ পোষণ করবে, তারা কাট্টা কাফির এবং চির জাহান্নামী হবে। না‘ঊযুবিল্লাহ!
-মুহাদ্দিছ মুহম্মদ আবূ আহমাদ ছিদ্দীক্বাহ্।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক اَحْمَدُ (আহমদ) ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যকার ‘মীম’ হরফ বা অক্ষর মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত শান মুবারক-এ চূ-চেরা, ক্বীলও ক্বাল করার কারণে, হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করার কারণে কাফেরদের বিরুদ্ধে সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট বিচার চাওয়া প্রসঙ্গে
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যস্থতা মুবারক-এ হাক্বীক্বী দীদার মুবারক লাভরে বশিষে র্বণনা মুবারক
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে নিসবত মুবারক স্থাপন করতে পারলে, মূল সব নিয়ামত পরিপূর্ণটা হাছিল সম্ভব। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথেই আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সরাসরি মহাসম্মানিত নিসবত মুবারক
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘এক নাম্বার আক্বীদাহ্ হচ্ছে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সৃষ্টির কারো মতো নন’
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত বুছা মুবারক দেয়া
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে ঊলা বা প্রথমা, কুবরা বা মূল, বড়, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মূল এবং সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনারও মূল
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের দায়েমীভাবে এমন মহাসম্মানিত নিসবত মুবারক রয়েছেন যেখানে সৃষ্টির কারো কোনো স্থান সঙ্কুলান হয় না
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












