ইযহারু হাক্বীক্বতিল কুদ্রত আউওয়ালা র্মারাতিন ফী তারীখি খ্বালক্বিল্লাহ্ ‘আলা লিসানি সাইয়্যিদিনা সুলত্বানিন নাছীর মামদূহ্ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলাহ্ আলাইহিস সালাম
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ২৬
, ১০ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৯ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ১৬ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
পবিত্র কুদরত মুবারক উনার কাইফিয়্যাত মুবারক সম্পর্কে কল্পনাতীত বেমেছাল খোদায়ী ইলিম মুবারক বিতরণ:
আমার বলার উদ্দেশ্য ছিলো যে, পবিত্র কুদরত মুবারক দুই ভাগ।
একটা হলো- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নিয়ন্ত্রণ, যিয়ারত, ছোহবত ও দীদার মুবারক-এ আছেন।
আরেকটা হলো- এখন এগুলি তো আসলে মেছাল দেওয়াও কঠিন ব্যাপার। মেছাল দেওয়াও কঠিন। মহান আল্লাহ পাক তিনি আছেন। তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি কিভাবে আছেন? মহান আল্লাহ পাক তিনি কুদরতময়। এটা মানুষের চিন্তা-কল্পনার বাইরে। আসলে ঠিক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনিও এভাবেই আছেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) বুঝতেছো আমার কথা মুবারকগুলি? এটা ফিকির না করলে বুঝা যাবে না। এটা তো কঠিন বিষয়। এটা দুই ভাগ।
একজনের সুওয়াল: পার্থক্যটা কি?
জওয়াব মুবারক: পার্থক্য হলো- মহান আল্লাহ পাক উনি হলেন সব কিছুর মালিক, আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এই পার্থক্য।
সুওয়াল: মহান আল্লাহ পাক তিনি কি হিসেবে আছেন?
জওয়াব মুবারক: মহান আল্লাহ পাক উনি মহান আল্লাহ পাক হিসেবে আছেন। কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি মহাসম্মানিত নূর মুবারক হিসেবে যে আছেন, মহাসম্মানিত নূর মুবারক হিসেবে থাকবেন কোথায়? কিছু নেই। মহাসম্মানিত নূর মুবারক হিসেবে থাকবেন কিভাবে?
আরযী: পবিত্র কুদরত মুবারক উনার মধ্যেই আছেন।
জওয়াব মুবারক: হ্যাঁ; আছেন। একটা বাতি জ্বালালে এটার একটা স্থান, কাল, পাত্রের প্রয়োজন। এটা একটা স্থান, কাল, পাত্রের সাথে সম্পর্ক। একটা স্থান, কাল, পাত্রের সাথে সম্পর্ক না? আমার বলার বিষয় হচ্ছে যে, পবিত্র কুদরত মুবারক উনার মধ্যেই আছেন। এখন পবিত্র কুদরত মুবারক দুই ভাগে বিভক্ত।
এক. মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উনার মাহবূব, মুরাদ ও সমগ্র কায়িনাতের মালিক হিসেবে সমস্ত নিয়ামত মুবারক হাদিয়া মুবারক করে, সমস্ত কিছু দিয়ে পবিত্র নূরুল ইযহার মুবারক করায়ে (সৃষ্টি মুবারক করে) উনাকে উনার সাথে সংযুক্ত করেছেন এবং উনার পবিত্র কুদরত মুবারক অর্থাৎ উনার নিয়ন্ত্রণ, যিয়ারত, ছোহবত, দীদার মুবারক-এ উনাকে রেখেছেন। অর্থাৎ ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল যাবৎ থাকবেন।
সংক্ষেপে- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নিয়ন্ত্রণ, যিয়ারত, ছোহবত, দীদার মুবারক-এ আছেন। অর্থাৎ ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল যাবৎ থাকবেন।
দুই. মহান আল্লাহ পাক উনি যেভাবে আছেন; নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি ঠিক ঐভাবেই আছেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)
তাহলে উনার সাথে কারো তুলনা হবে কি করে? তাহলে উনাকে মানুষ বুঝবে কি করে? মহান আল্লাহ পাক উনাকে যেমন বুঝতে পারে না; ঠিক একইভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেও বুঝতে পারবে না। বুঝতেছো কি আমার কথা মুবারক? এটা কিন্তু কঠিন একটা বিষয়।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
كُلُّ مَنْ عَلَيْهَا فَانٍ. وَيَبْقٰى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلٰلِ وَالْاِكْرَامِ
“সারা কায়িনাতের সমস্ত কিছু ফানা বা ধ্বংস হয়ে যাবে। একমাত্র আপনার মহামহিম ও মহানুভব রব তা‘য়ালা মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র ওজূদ মুবারক বাক্বা বা স্থায়ী থাকবেন।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আর রহমান শরীফ: ২৬-২৭)
এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফখানা উনার ব্যাখ্যাটা মানুষ ভুল করে। যারা তাফসীর করেছে সবাই তো ওলীআল্লাহ না। আর রূহানিয়াতও সবার সে রকম নেই।
‘সারা কায়িনাতের সমস্ত কিছু ফানা বা ধ্বংস হয়ে যাবে। একমাত্র আপনার মহামহিম ও মহানুভব রব তা‘য়ালা মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র ওজূদ মুবারক বাক্বা বা স্থায়ী থাকবেন।’
তাহলে কি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি ধ্বংস হয়ে যাবেন? না‘ঊযুবিল্লাহ!
উনি ছামান-আসবাবের ঊর্ধ্বে, সমস্ত সৃষ্টির ঊর্ধ্বে। সমস্ত কিছু সৃষ্টির পূর্বেই মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পবিত্র নূরুল ইযহার মুবারক (সৃষ্টি মুবারক) করেছেন।
কাজেই, পরে যেগুলি সৃষ্টি হয়েছে, ঐগুলি ধ্বংস হবে। এর মধ্যে ৯টি বিষয় প্রথমে ধ্বংস হবে না। পরে কিছুক্ষণের জন্য ধ্বংস হয়ে আবার আসবে। সেগুলো হলো- (১) আরশ, (২) কুরসী, (৩) লওহো, (৪) কলম, (৫) বেহেশত, (৬) দোযখ, (৭) শিংগা, (৮) আমলনামা এবং (৯) রূহ।
তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিষয়টা কি? এটাই মানুষ বুঝে না। মহান আল্লাহ পাক তিনি ছিলেন, কিছুই ছিলো না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি যাহির হলেন, তখনও কিছুই ছিলো না। তাহলে উনি কিভাবে ছিলেন? মহান আল্লাহ পাক তিনি যেভাবে ছিলেন, আছেন; ঠিক এভাবেই ছিলেন, আছেন, থাকবেন। এটাই মানুষ বুঝে না। আমার বলার বিষয় হলো সেটাই। এই বিষয়টাই মানুষ বুঝে না। না বুঝার কারণে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান-মান মুবারক মানুষ বুঝতে পারে না।
-মুহাদ্দিছ মুহম্মদ আল আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ২৫
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (৮)
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ক্বওল শরীফ
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র রওযা শরীফ উনার বেমেছাল শান-মান, মর্যাদা মুবারক
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ২৪
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ২৩
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ক্বওল শরীফ
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ২২
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান বুলন্দী শান মুবারক প্রকাশ: ‘উম্মী’ শব্দ নিয়ে বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচারের চূড়ান্ত জবাব (৯)
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












