মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ওই ব্যক্তি কামিয়াব হয়েছে যে ব্যক্তি তাযকিয়া বা আত্মশুদ্ধি লাভ করেছে। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- প্রত্যেক মুসলমান জিন-ইনসান, পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যই তাযকিয়া বা আত্মশুদ্ধি লাভ করা ফরয। সুবহানাল্লাহ! আর সেজন্য একজন হক্কানী রব্বানী শায়েখ বা মুরশিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত গ্রহণ করে ইলমে তাছাউফ অর্জন করাও ফরয। সুবহানাল্লাহ!
তাই প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ মহিলা সকলকেই তাযকিয়া বা আত্মশুদ্ধি লাভ করার জন্য একজন হক্কানী রব্বানী শায়েখ বা মুরশিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত গ্রহণ করতে হবে। যা মহাসম্মানিত শরীয়ত উনারই নির্দেশ মুবারক।
, ০৮ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৩ সাবি’, ১৩৯২ শামসী সন , ১১ ডিসেম্বর, ২০২৪ খ্রি:, ২৬ অগ্রহায়ণ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-১
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, হযরত মুফাসসিরীনে কিরাম উনারা يزكيهم অর্থাৎ তাযকিয়া করবেন এ কথার ব্যাখ্যায় প্রসিদ্ধ তাফসীর উনার কিতাব যেমন- তাফসীরে জালালাইন শরীফ, কামালাইন শরীফ, বায়হাক্বী শরীফ, কুরতুবী শরীফ, তাবারী শরীফ, কবীর শরীফ, খাযিন শরীফ, বাগবী শরীফ, ইবনে কাছীর শরীফ, দুররে মনছূর শরীফ, আবী সউদ শরীফ, মাযহারী শরীফ, রুহুল বয়ান শরীফ, রুহুল মায়ানী শরীফসহ আরো অনেক প্রসিদ্ধ তাফসীরগ্রন্থে “তাযকিয়ায়ে ক্বলব” বা অন্তর পরিশুদ্ধ করাকে ফরয বলেছেন এবং তজ্জন্য পবিত্র ইলমে তাছাউফ অর্জন করাকেও ফরয বলেছেন।
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, অনুসরণীয় ইমাম-মুজতাহিদ ও ওলীআল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেন, পবিত্র ইলমে তাছাউফ অর্থাৎ অন্তর বা ক্বলব ইছলাহ করতে হলে মুহলিকাতগুলি দূর করে মুনজিয়াতগুলি হাছিল করতে হবে। এ প্রসঙ্গে “মুছাল্লামুছ ছুবূত” নামক কিতাবের মুক্বাদ্দিমায় উল্লেখ আছে যে- “মুহলিকাত” অর্থাৎ ক্বলব বা আত্মার ধ্বংস সাধনকারী বদ খাছলত এবং “মুনজিয়াত” অর্থাৎ অন্তরকে মুক্তিদানকারী নেক খাছলত সম্পর্কিত পবিত্র ইলম উনাকেই পবিত্র ইলমে তরীক্বত বা পবিত্র ইলমে তাছাউফ বলে। মূলত অন্তর থেকে বদ খাছলতসমূহ দূর করে দিয়ে পবিত্র নেক খাছলতসমূহ পয়দা করার মাধ্যমেই হাক্বীক্বী ইছলাহ বা পরিশুদ্ধতা লাভ করা সম্ভব। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মানব শরীরে এক টুকরা গোশত রয়েছে, তা পরিশুদ্ধ হলে গোটা শরীর পরিশুদ্ধ হবে এবং তা বিনষ্ট বা ধ্বংস হলে গোটা শরীর ধ্বংস হবে। সাবধান! উক্ত গোশতের টুকরাটি হলো ক্বলব বা অন্তর।”
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, তাই সম্মানিত ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে প্রত্যেক মুসলমান জ্বিন-ইনসান পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যই ফরয হচ্ছে ইলমে তাছাউফ অর্জন করার মাধ্যেমে অন্তর থেকে মুহলিকাত দূর করে মুনজিয়াত অর্জন করা। আর সেজন্যে একজন হক্কানী রব্বানী শায়েখ বা মুরশিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত গ্রহণ করাও ফরয। কেননা হক্কানী-রব্বানী শায়েখ বা মুরশিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত হওয়া ব্যতীত কস্মিনকালেও ইলমে তাছাউফ অর্জন করা সম্ভব নয়। আর ইলমে তাছাউফ ব্যতিত আত্মশুদ্ধি লাভ করাও সম্ভব নয়।
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
আজ ঐতিহাসিক স্বাধীনতা দিবস। মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য যে সকল মুসলমান প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের জন্য সম্মানিত শরয়ী তর্য-তরীক্বা মুতাবিক, যেমন- পবিত্র কুরআন শরীফ খতম, পবিত্র মীলাদ শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ পাঠ এবং তওবা-ইস্তিগফার করে দোয়া-মুনাজাতের মাধ্যমে তাঁদের রূহে ছওয়াব বখশিয়ে দেয়া সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
২৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তাক্বওয়া হাছিল বা মুত্তাক্বী হওয়াই পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার মূল শিক্ষা। পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার মাধ্যমে অর্জিত তাক্বওয়া পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার পরবর্তী মাসগুলোতেও বজায় রাখতে হবে। অর্থাৎ পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার পরবর্তী মাসগুলিতেও ইসলামী শরীয়ত উনার বিরোধী সর্বপ্রকার অশ্লীল-অশালীন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সুমহান পবিত্র বরকতময় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১লা শাওওয়াল শরীফ। সুবহানাল্লাহ! আখাছছুল খাছ আহলু বাইত শরীফ ও আওলাদে রসূল সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ! তাই উনার সুমহান পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবসে ঈদ বা খুশি প্রকাশ করা, উনার প্রতি সর্বোচ্চ হুসনে যন পোষণ করা এবং উনার মুবারক গোলামীতে যথাযথ আঞ্জাম দেয়া সকলের জন্যই ফরয। যা রহমত, বরকত, নিয়ামত, সাকীনা ও নাজাত লাভেরও কারণ।
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র ঈদের নামায ঈদগাহে পড়া, পবিত্র ঈদের নামাযের পর পরস্পর কোলাকুলি করা, মুছাফাহা করা খাছ সুন্নত মুবারক উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার বিরোধিতা করা, অবজ্ঞা করা ও সুন্নত মুবারক পালনে বাধা দেয়া কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। নাউযুবিল্লাহ!
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আজ সুমহান বরকতময় পবিত্র ২৬শে রমাদ্বান শরীফ। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত নিসবাতুল আযীমাহ শরীফ দিবস। সুবহানাল্লাহ! পাশাপাশি আজ দিবাগত রাতটিই হচ্ছেন পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার ২৭ তারিখ রাত। যে রাতে বিশেষভাবে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর শরীফ তালাশ করার নির্দেশ মুবারক দেয়া হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আজ সুমহান বরকতময় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২৫শে রমাদ্বান শরীফ। সুবহানাল্লাহ! মালিকাতুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল ‘আশিরাহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ! তাই সকলের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে, বরকতময় এই আইয়্যামুল্লাহ শরীফ যথাযথ তা’যীম-তাকরীমের সাথে উদযাপন করা।
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বাংলাদেশে পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাস উনার চাঁদ তালাশ করতে হবে- আগামী ২৯শে রমাদ্বান শরীফ ১৪৪৭ হিজরী মুতাবিক ১৯শে আশির ১৩৯৩ শামসী, ১৯শে মার্চ ২০২৬ খৃঃ, ইয়াওমুল খমীস (বৃহস্পতিবার) দিবাগত সন্ধ্যায়। পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাস উনার ১, ৪, ৭, ১২, ১৪, ১৮, ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪ ও ২৫ তারিখ সম্মানিত আইয়্যামুল্লাহ শরীফ উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সউদী ওহাবী, ইহুদী সরকার এবং তাদের অনুসারীরা যুগ যুগ ধরে চাঁদ না দেখে আরবী মাস শুরু করে মুসলমানদের পবিত্র ঈমান-আমল অর্থাৎ পবিত্র রোযা, পবিত্র ঈদ, পবিত্র হজ্জ ইত্যাদি নষ্ট করে যাচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ!
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আজ সুমহান বরকতময় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২৩শে রমাদ্বান শরীফ। সুবহানাল্লাহ! যা মালিকাতুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল আ’শিরাহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ! এ মহান দিবস উপলক্ষে সকলের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- উনার মহাপবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক আলোচনা করার লক্ষ্যে মাহফিল করা এবং পবিত্র মীলাদ শরীফের আয়োজন করা।
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সম্মানিত হানাফী মাযহাব উনার ফতওয়া অনুযায়ী- ছদকাতুল ফিতরের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে কেবল গম অথবা আটার মূল্যে। সর্বাধিক বিশুদ্ধ মতে, অর্ধ সা’ হচ্ছে ১ সের সাড়ে ১২ ছটাক বা ১৬৫৭ গ্রাম। এ বছর ঢাকা শহরে ভালো আটা ৭০ টাকা কেজি হিসেবে ছদকাতুল ফিতর হলো প্রায় ১১৬ টাকা। এর কম দেয়া যাবে না। তবে ইচ্ছা করলে বেশি দিতে পারবে। দেশের প্রধান খাদ্য দিয়ে ছদকাতুল ফিতর আদায় করা- এটা মূলত বাতিল ফিরক্বা লা-মাযহাবীদের মত।
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আজ সুমহান ও বরকতময় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২১শে রমাদ্বান শরীফ। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছামিন মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ! এই মহাসম্মানিত দিবস উপলক্ষে সকলের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক আলোচনা করার লক্ষ্যে মাহফিল করা এবং পবিত্র মীলাদ শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ করা।
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ব্যক্তি পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর থেকে মাহরুম হবে, সে সমস্ত ভালাই অর্থাৎ খায়ের বরকত থেকেই মাহরুম হবে। নাঊযুবিল্লাহ! প্রত্যেক বান্দা-বান্দী ও উম্মতের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার শেষ দশ দিনের বেজোড় রাত্রিগুলোতে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করার লক্ষ্যে ইবাদত-বন্দেগী ও খালিছ তওবা-ইস্তিগফার ও দোয়া-মুনাজাত করা। যা প্রত্যেকের জন্যই ইহকাল ও পরকালে নাযাত লাভের কারণ হবে। সুবহানাল্লাহ!
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার শেষ দশ দিন প্রত্যেক জামে মসজিদে ই’তিকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদায়ে কিফায়া। সুবহানাল্লাহ! এ বছর অর্থাৎ ১৪৪৭ হিজরী সনের ই’তিকাফের জন্য পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার বিশ তারিখ অর্থাৎ আগামীকাল ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) সূর্য ডুবার পূর্বেই মসজিদে প্রবেশ করতে হবে এবং পবিত্র শাওয়াল শরীফ মাস উনার চাঁদ উঠার সংবাদ পাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত মসজিদে অবস্থান করতে হবে।
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












