সম্পাদকীয়-১
ভয়াবহ নীরব দুরারোগ কিডনী রোগ একদিকে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা, অপরদিকে বাড়ছে চিকিৎসা ব্যায় সরকারকে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এক্ষুনি ইনশাআল্লাহ
, ১৬ই রবিউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১০ খমীছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৯ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রি:, ২৫ আশ্বিন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) সম্পাদকীয়
সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
দেশে কিডনি রোগ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। দৈনিক আল ইহসান শরীফে প্রকাশিত খবর থেকে জানা গেছে, দেশে প্রায় তিন কোটি ৮০ লাখ লোক কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার কিডনি রোগী ডায়ালিসিসের ওপর নির্ভরশীল হয়। শহর ও গ্রামাঞ্চলে সমানভাবে এই রোগ বাড়ছে।
জানা গেছে, দেশের অন্তত ৫০ লাখ শিশু কিডনি রোগে ভুগছে। এরমধ্যে পাঁচ শতাংশ অর্থাৎ অন্তত আড়াই লাখ শিশু ভুগছে ক্রনিক কিডনি রোগে। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের বহির্বিভাগের রোগীদের মধ্যে ৪ থেকে ৫ শতাংশ শিশু কিডনির সমস্যা নিয়ে আসে।
দারিদ্র্য, অসচেতনতা, চিকিৎসাসেবার অপ্রতুলতা ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এই সমস্যাকে আরো বাড়িয়ে তুলছে। এই রোগ বাংলাদেশের জন্য একটি বড় অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যগত সমস্যা। পক্ষান্তরে, কিডনি রোগের ব্যাপকতা, ভয়াবহতা, পরিণতি ও কারণ সম্পর্কে সচেতন থাকলে এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবন যাপন করলে ৬০-৭০ ভাগ ক্ষেত্রে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। কিডনি রোগকে ‘নীরব দুর্যোগ’ বলে আখ্যায়িত করা হয়।
দেশে কিডনী রোগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেফ্রোলজিস্ট আছেন মাত্র ৩৬০ জন। আর ডায়ালাইসিস সেন্টারের সংখ্যা ২৫০ থেকে ২৬০টি। অপ্রতুলতা চিকিৎসাব্যবস্থা ও চিকিৎসা ব্যয় বেশি হওয়ায় মোট কিডনি রোগীর ৯০ শতাংশই থাকছেন চিকিৎসাসেবার বাইরে। দেশে এ বিপুলসংখ্যক মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত হলেও কিডনি চিকিৎসার নাজেহাল অবস্থা।
কিডনি বিকলকে একজন ব্যক্তি বা একটি পরিবারের সমস্যা হিসাবে দেখার উপায় নেই। বৈজ্ঞানিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, জনগণের প্রতি ১০ জনের মধ্যে ১ জনের আগামীতে কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি আছে এবং এদের ১০ শতাংশের আগামী দশ বছরের মধ্যে কিডনি বিকল হওয়ার আশঙ্কা শতকরা ১০ ভাগ। কী ভয়ানক তথ্য! তাই এখনই সমন্বিত কাজ শুরু করতে হবে। সমন্বিত কাজ হবে তথ্য ও তত্ত্ব ভিত্তিক। মনগড়া বা বিক্ষিপ্তভাবে নয়। দুর্ভোগের কারণগুলো যথাযথ বিশ্লেষণ করে তা সমাধানের জন্য রোড ম্যাপ নির্ধারণ করতে হবে।
প্রতিবছর রোগী বাড়লেও সে হারে সেবার পরিধি সেভাবে বাড়ছে না। সবচেয়ে কষ্টের মধ্যে আছে প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষেরা।
রংপুরের পীরগাছা উপজেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দা মনোয়ারা বেগমের সাত মাস আগে কিডনি রোগ ধরা পড়ে। ততক্ষণে তার দুটো কিডনি প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছে। এখন প্রতি সপ্তাহে তাকে চিকিৎসার জন্য রংপুর যাওয়া আসা করতে হয়।
“আমার চিকিৎসায় রংপুর যাওয়া লাগে। যাইতে আসতে তিনশ টাকা ভাড়া, এর পরে ইনজেকশন, টেস্ট, ওষুধ মিলায় প্রত্যেক সপ্তাহে পাঁচ থেকে সাত হাজার খরচ যায়। আমি গরিব মানুষ, এতো টাকা কই পাবো। নিজের সব জমি বিক্রি করে দিসি, এখন আমার কিছু নেই। বিছানায় পড়ে যেতে হবে,” আক্ষেপের সুরে বলেন ৩৮ বছর বয়সী এই নারী।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন প্রাথমিক অবস্থায় কিডনি রোগ ধরা পড়লে ওষুধ ও নিয়ম শৃঙ্খলার মাধ্যমে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
তবে কিডনি যদি অকেজো হয়ে যায় তাহলে কিডনি প্রতিস্থাপন ও ডায়ালিসিস ছাড়া বাঁচার উপায় থাকে না, বলছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু এই দুটি চিকিৎসা পদ্ধতি অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
কিন্তু বড় শহরেও ডায়ালাইসিস সেন্টারের সংখ্যা সীমিত। এতে রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং অনেকে সময়মতো চিকিৎসা পান না। চসিক নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চায়, তাই আমরা চাই নগরীতে ডায়ালাইসিস সেন্টারের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হোক।
সরকারি হাসপাতালগুলোতে কম খরচে বা বিনামূল্যে ডায়ালাইসিস সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে অনেক রোগী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। চিকিৎসার ব্যয়ভার অধিকাংশ মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই কিডনি চিকিৎসা সহজলভ্য করা উচিত। এক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পক্ষের কার্যকর উদ্যোগের সমন্বয় প্রয়োজন।
ছহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ উনার বিরোধিতাকারীরা গুমরাহ ও উলামায়ে ‘সূ’র অন্তর্ভুক্ত। এদেরকে পরিহার করা ফরয-ওয়াজিব।
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত সিবত্বতু রসূল আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস।
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছ থেকে শুধু পরকালীন শাফায়াত ই একমাত্র চাওয়া পাওয়া নয়;
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সংস্পর্শে নাগরিকদের সংশোধনের জন্য পাঠাতে হবে
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
যা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়াহ আশার আলাইহাস সালাম উনার নিসবাতুল আযীম শরীফ দিবস।
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
“মুসলিম বিশ্ব যদি ডলারের পরিবর্তে নিজেদের মধ্যে ‘ইসলামী দিনার’ চালু করে, তবে তা পশ্চিমাদের জন্য পারমাণবিক বোমার চেয়েও বড় ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।”
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর জুলাই সনদের ৮ নং অনুচ্ছেদ খএইঞছ এর পরিপূর্ণ প্রতিফলন। তারপরেও ঈমান বিক্রী করে, ইসলামের ধ্বংস ডেকে তথাকথিত ইসলামী দল কী করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলনের ঘোষণা দিতে পারে? জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বি.এন.পির নির্বাচনী ইশতেহারে এর সাথে সাংঘর্ষিক। ইসলামী অনুভূতির প্রতি সহযোগী মনোভাবের চরম খেলাফ।
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমান মায়েরা কেন সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াতে গাফলতি করবে?
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মূল্যবৃদ্ধির চাপে পিষ্ট জনগণ উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, শুধুমাত্র মধ্যস্বত্য ভোগী, তথা সিন্ডিকেট নির্মূলেই দ্রব্যমূল্য সুলভ করা সম্ভব।
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ বছরে সাশ্রয় করতে পারে ১ বিলিয়ন ডলার।
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ব্যাংক শোষণের কারণে শুধু একজন মালিকই নয় বা লাখ লাখ শ্রমিকই নয় বরং গোটা আর্থ-সামাজিক খাত হয় ক্ষত-বিক্ষত, বিপর্যস্ত, লা’নতগ্রস্ত, বেকারত্বে জর্জরিত।
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মালদ্বীপের ৬১তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে বাংলাদেশের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ।
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












