ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত
ব্রিটিশ গুপ্তচরের স্বীকারোক্তি এবং ওহাবী মতবাদের নেপথ্যে ব্রিটিশ ভূমিকা (৪২)
, ২৮ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২১ সাবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ০৫ পৌষ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) ইতিহাস
শয়তান যে মানুষকে নেক সুরতে ধোঁকা দেয়, এ বিষয়টি ভালভাবে অনুধাবন করেছিল শয়তানের অনুচর ইহুদী এবং খ্রিষ্টানরা। মুসলমানদের সোনালী যুগ এসেছিল শুধু ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসরণের ফলে। শয়তানের চর ইহুদী খ্রিষ্টানরা বুঝতে পেরেছিল মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ, অনৈক্য, সংঘাত সৃষ্টি করতে পারলেই ইসলামের জাগরণ এবং বিশ্বশক্তি হিসেবে মুসলমানদের উত্থান ঠেকানো যাবে। আর তা করতে হবে ইসলামের মধ্যে ইসলামের নামে নতুন মতবাদ প্রবেশ করিয়ে। শুরু হয় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা; যার মূলে থাকে খ্রিষ্টীয় ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ। জন্ম হয় ওহাবী মতবাদের। ওহাবী মতবাদ সৃষ্টির মূলে থাকে একজন ব্রিটিশ গুপ্তচর হেমপার। মিশর, ইরাক, ইরান, হেজাজ ও তুরস্কে তার গোয়েন্দা তৎপরতা চালায় মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার জন্য “Confession of British Spy and British enmity against Islam” গ্রন্থ হচ্ছে হেমপারের স্বীকারোক্তি মূলক রচনা। যা মূল গ্রন্থ থেকে ধারাবাহিকভাবে অনুবাদ প্রকাশ করা হবে। ইনশাআল্লাহ!
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
মক্কা শরীফের শরীফ বংশীয় লোকদের এবং ইস্তাম্বুলের শাসকদের ওহাবী নজদী সবসময় ভয় পেতো। সে বলতো আমরা যদি এ দু’টি কাজ করি তবে শক্তিশালী আর্মি দ্বারা আমাদের আঘাত করা হবে। আমি তার মতকে সমর্থন করেছিলাম কেননা সে সঠিক ছিলো কারণ পরিস্থিতি আমাদের অনুকূলে ছিলো না। কয়েক বছর পর, কমনওয়েলথ মন্ত্রণালয়, দেরিয়ার আমির বিন সউদকে আমাদের পথে নিয়ে আসতে সক্ষম হই। তারা আমার কাছে বার্তা পাঠায় আমি যেন এই দু’ব্যক্তি (ওহাবী নজদী এবং বিন সউদ) এর মধ্যে পারস্পরিক মমতা এবং সমঝোতা প্রতিষ্ঠা করি। মুসলমানদের হৃদয় জয় করার উদ্দেশ্যে আমরা ওহাবী নজদীকে ধর্মীয়ভাবে এবং বিন সউদকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাই।
এটা ঐতিহাসিক সত্য যে, ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং প্রায়োগিক প্রচেষ্টায় বেশী শক্তিশালী হয়ে থাকে।
সবকিছুই ভালভাবে চলতে থাকে। প্রতিদিন আমাদের অবস্থান দৃঢ় হতে থাকে। কোন বিপর্যয় না ঘটলে আমরা আমাদের রচিত পথেই সাফল্যে পৌঁছবো। কেননা আমরা জানি আমাদের যা প্রয়োজন সেভাবেই বীজ বপন করেছি।
সতর্কতা:
এই বইটি যিনি মনোযোগ দিয়ে পড়বেন, তিনি উপলব্ধি করতে পারবেন ব্রিটিশরাই দ্বীন ইসলামের চরম শত্রু এবং ভালভাবে জানতে পারবেন যে ওহাবী ফিরক্বা সারা দুনিয়াব্যাপী সুন্নী মুসলমানদের উপর আক্রমণ চালিয়ে আসছে। ওহাবীরা ব্রিটিশদের দ্বারা সৃষ্ট এবং ক্রমাগত ব্রিটিশদের সমর্থন পেয়ে আসছে। এই বইটি প্রমাণ করে দ্বীন ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করার মানসেই ব্রিটিশরা ওহাবীদের সৃষ্টি করে। আমরা জানি খারিজী ওহাবীরা প্রতি দেশেই ওহাবী মতবাদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। কেউ কেউ বলে হেমপারের জবানবন্দী কারো লিখিত কাল্পনিক গল্পমাত্র। কিন্তু তারা এ দাবির সমর্থনে কোন প্রমাণ পেশ করতে পারেনি। যারা ওহাবীদের রচিত বই পড়বে তারা নিশ্চয়ই উপলব্ধি করতে পারবে যে, এই জবানবন্দী কত সত্য। ওহাবীরা দ্বীন ইসলাম ধ্বংসের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু তারা যতই চেষ্টা করুক আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের সত্যিকার মুসলমানদের কখনো নিশ্চিহ্ন করতে পারবে না। বরং তারাই নিশ্চিহ্ন হবে। কারণ মহান আল্লাহ পাক কুরআন শরীফ উনার সূরা ইসরা শরীফের ৮১নং আয়াত শরীফে সুসংবাদ দিয়েছেন “বলুন, সত্য এসেছে আর মিথ্যা ধ্বংস হয়েছে। নিশ্চয়ই মিথ্যা ধ্বংস হওয়ারই যোগ্য।”
ব্রিটিশ গুপ্তচর হেমপারের স্বীকারোক্তি ও বর্তমানে পবিত্র হজ্জ উনার সামগ্রিক অবস্থা:
সম্প্রসারণবাদী ব্রিটেন তাদের উপনিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার ক্ষতি সাধনের লক্ষ্যে ওহাবী মতবাদ প্রতিষ্ঠার সূচনা লগ্নে যে কর্মসূচি তৈরি করে, তার ২য় বিষয়টি যা ছিলো তা হলো: “......পবিত্র হজ্জ পালনের মতো ইবাদত-বন্দেগী নষ্ট করার লক্ষ্যে বিভিন্ন গোত্রের হাজীদের উপর চড়াও হয়ে তাদের মালামাল লুণ্ঠন এবং কতল করতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।”
" Confession of British Spy and British enmity against Islam " নামক ব্রিটিশ গুপ্তচর হেমপারের স্বীকারোক্তিমূলক গ্রন্থটি হতে আরো জানা যায় যে, তাদের বক্তব্য হলো: “...........এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমাদের কর্তব্য হচ্ছে ইসলামকে ধ্বংস করে দেয়ার বীজ বপন করা। পরবর্তী প্রজন্ম এসে বাকি কাজ শেষ করবে। ব্রিটিশ সরকার ধাপে ধাপে এগুতে চায়.......।”
মূলত, তাদের ধাপে ধাপে এগুতে থাকা ওই কূটকৌশলের ধারাবাহিক প্রতিফলন হচ্ছে সউদী ওহাবী সরকার কর্তৃক নিরাপত্তার অজুহাতে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা ও সিসিটিভি স্থাপন, বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের সমস্ত ব্যাংকে পবিত্র হজ্জ উনার সুদী স্কিম চালু, চাঁদ না দেখে পবিত্র হজ্জ উনার তারিখ ঘোষণা ইত্যাদিসহ ইসলামবিরোধী কুফরীমূলক সকল কর্মকা-। নাউযুবিল্লাহ! (সমাপ্ত)
ভাষান্তর : আবুল বাশার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হাজিব আল মানসুর: যে সেনাপতি পরাজিত হননি কোনো যুদ্ধে
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র আযানের জন্য ২২ জন মুসলমানের শহীদ হওয়ার ঈমানদীপ্ত ঘটনা
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাহাদুর শাহ জাফর: ব্রিটিশবিরোধী শেষ মোঘল শাসক
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পিরি রইস: বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ মানচিত্র অঙ্কনকারী উসমানীয় এডমিরাল
০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বঙ্গ, বাংলা, বাঙ্গালী শব্দের উৎপত্তি মুসলমানদের মাধ্যম দিয়েই (৬)
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তাতার বিরোধী যুদ্ধে হযরত আমীর খসরু দেহলভী চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুসা বিন আবী গাসসান: হার না মানা এক অকুতোভয় মুসলিম সিপাহী
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙ্গুলের ছাপ শরীয়তসম্মত, নিখুঁত, ব্যবহারে সহজ এবং রহমত, বরকত, সাকীনা লাভের কারণ (৭)
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আফগানিস্তানেও উগ্রতাবাদী ওহাবী-সালাফীদের অনুপ্রবেশের অপচেষ্টা
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বঙ্গ, বাংলা, বাঙ্গালী শব্দের উৎপত্তি মুসলমানদের মাধ্যম দিয়েই (৪)
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে মুহব্বত করা পবিত্র ঈমানের অন্তর্ভুক্ত
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের বিচার ব্যবস্থা চুরি করেই গড়ে উঠেছে ব্রিটিশ, গ্রীক ও রোমানদের আইন ব্যবস্থা
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












