প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন ও কৌশলগত স্বনির্ভরতা:
বাংলাদেশের ৫০ লক্ষ পদাতিক বাহিনীর জন্য ৩য় প্রজন্মের এটিজিএম রোডম্যাপ (পর্ব ৮)
, ০৯ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৬ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৫ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) আপনাদের মতামত
কি পরিমান প্রয়োজন :
৫০ লক্ষ (৫ মিলিয়ন) সৈন্যের একটি বিশাল বাহিনীর জন্য অ্যান্টি-ট্যাংক গাইডেড মিসাইল ও লঞ্চারের প্রয়োজনীয়তা হিসাব করতে হবে আন্তর্জাতিক সামরিক মতবাদ (মিলিটারী ডকট্রিন) এবং পদাতিক ব্যাটালিয়নের স্ট্যান্ডার্ড কাঠামো অনুযায়ী।
সাধারণত, আধুনিক সামরিক বাহিনীতে প্রতি ৮০০ থেকে ১,০০০ জন সৈন্য নিয়ে একটি পদাতিক ব্যাটালিয়ন গঠিত হয়। সেই হিসাবে, ৫০ লক্ষ বাহিনীর মধ্যে যদি আনুমানিক ৬০% সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রের পদাতিক বা কমব্যাট ফোর্স হয়, তবে মোট ব্যাটালিয়নের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৩,০০০ থেকে ৩,৫০০টি।
একটি স্ট্যান্ডার্ড থার্ড-জেনারেশন এটিজিএম প্লাটুনে প্রতি ব্যাটালিয়নে ৪ থেকে ৬টি লঞ্চার থাকে। এই আন্তর্জাতিক সমীকরণ অনুযায়ী ৫০ লক্ষ বাহিনীর জন্য কি পরিমাণ লজিস্টিকস লাগবে, তার একটি প্রযুক্তিগত হিসাব নিচে দেওয়া হলো:
১. এটিজিএম লঞ্চার :
প্রতিটি ব্যাটালিয়নের মূল প্রতিরক্ষা এবং কাউন্টার-অ্যাটাক সক্ষমতার জন্য লঞ্চার অপরিহার্য।
- ন্যূনতম প্রয়োজনীয়তা: প্রতি ব্যাটালিয়নে গড়ে ৪টি করে লঞ্চার হিসাব করলেও ৩,০০০ ব্যাটালিয়নের জন্য সরাসরি ফ্রন্টলাইনে ১২,০০০টি লঞ্চার প্রয়োজন।
- রিজার্ভ ও লজিস্টিকস ব্যাকআপ: যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রশিক্ষণের জন্য আরও ২০% অতিরিক্ত লঞ্চার রিজার্ভে রাখতে হয়। সেই হিসাবে মোট ১৪,৪০০ থেকে ১৫,০০০টি এটিজিএম লঞ্চার প্রয়োজন হবে।
২. মিসাইল বা গোলাবারুদের মজুদ :
থার্ড-জেনারেশন এটিজিএম (যেমন তুরস্কের ওমটাস্ক, কারাওক বা ইরানের আল-মাস) অত্যন্ত নিখুঁত হওয়ায় একটি মিসাইল দিয়ে একটি ট্যাংক ধ্বংসের হার প্রায় ৯০% এর ওপরে। তবুও একটি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের তীব্রতা মাথায় রেখে মিসাইলের মজুদ গড়ে তুলতে হয়।
- লঞ্চার প্রতি মিসাইল বরাদ্দ: আন্তর্জাতিক সামরিক মানদ- অনুযায়ী, প্রতিটি সক্রিয় লঞ্চারের বিপরীতে যুদ্ধকালীন মজুদে ন্যূনতম ১৫ থেকে ২০টি মিসাইল থাকা আবশ্যক।
- মোট মিসাইলের পরিমাণ: ১২,০০০টি সক্রিয় লঞ্চারের জন্য (১২,০০০ দ্ধ ২০) অর্থাৎ প্রায় ২,৪০,০০০ (দুই লক্ষ চল্লিশ হাজার) মিসাইল প্রয়োজন।
- প্রশিক্ষণ ও কৌশলগত রিজার্ভ: বাৎসরিক লাইভ-ফায়ার ট্রেনিং এবং কৌশলগত বাঙ্কার মজুদের জন্য আরও ১০% যুক্ত করলে ৫০ লক্ষ বাহিনীর জন্য মোট ২,৬৪,০০০টির মতো মিসাইলের বিশাল স্টকপাইল প্রয়োজন হবে।
কৌশলগত ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ :
৫০ লক্ষ সৈন্যের বিশাল বাহিনীর জন্য এই পরিমাণ থার্ড-জেনারেশন ফায়ার-অ্যান্ড-ফরগেট এটিজিএম সংগ্রহ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা যেকোনো দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বিরাট ফিকিরের বিষয়।
- ব্যয় সংকোচন ও যৌথ উৎপাদন : বাজারমূল্য অনুযায়ী একটি আধুনিক থার্ড-জেনারেশন এটিজিএম মিসাইলের দাম প্রায় ৮০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। ফলে আড়াই লক্ষের বেশি মিসাইল সরাসরি আমদানি করা অসম্ভব। এই ক্ষেত্রে ইরান, তুরস্ক বা পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর কাছ থেকে প্রযুক্তির হস্তান্তর (টিওটি) চুক্তি করে নিজেদের সমরাস্ত্র কারখানায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা ছাড়া কোনো বিকল্প থাকবে না।
- লজিস্টিকস চেইন: এত বিপুল পরিমাণ সংবেদনশীল গাইডেড মিসাইল এবং তাদের ইনফ্রারেড ইমেজিং সিকার (এইচআর) ব্যাটারি ও কন্ট্রোল ইউনিটগুলো সচল রাখার জন্য একটি বিশাল সেন্ট্রাল লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক এবং তাপমাত্রা-নিয়ন্ত্রিত আধুনিক অস্ত্রাগার গড়ে তুলতে হবে।
- মুহম্মদ শামসিত তাবরিজ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
১০০০ নতুন সেনাক্যাম্প স্থাপনের কৌশলগত অপরিহার্যতা (২)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১২)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
একবিংশ শতাব্দীর কৌশলগত প্রতিরক্ষা রূপরেখা (২)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
একবিংশ শতাব্দীর কৌশলগত প্রতিরক্ষা রূপরেখা (১)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
জান্নাতের টিকিট বিক্রিকারী জামাতীরা কী মনে করে? বেহেশতে- যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবেই দুনিয়াতেই হারাম মদের সাথে সম্পৃক্ত থাকা উচিত! নাউযুবিল্লাহ। বিএনপির ভাষায় জামাত মুনাফেক। জাহান্নামের নি¤œস্তরের বাসিন্দা মুনাফিকরা- ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে তারা যে সত্যিই বড় মুনাফেক, তাই প্রমাণ করছে। মাতালদের পক্ষেই সম্ভব ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের টিকিট বেচা।
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সার্বভৌমত্বের বিনিময়ে কী পাচ্ছি আমরা? - আকসা ও জিসোমিয়া চুক্তি প্রত্যাখ্যান করুন
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের ইজারা দিলে বাংলাদেশ যে সমস্ত গুরুতর হুমকিতে পড়বে
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
উত্তরাঞ্চলে এক ভয়ংকর চক্রান্ত ও আলেম সমাজের নীরবতা
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পুরোনো স্মার্টফোন বিক্রির আগে যে কাজ না করলে বিপদ
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পেগাসাসের জাল বিস্তার বাংলাদেশেও। সবাই সাবধান।
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
৫০ লক্ষের বাহিনী ও ভবিষ্যতের সাইবার যুদ্ধক্ষেত্রের মহাপ্রস্তুতি (পর্ব-৩)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বিজিবির দায়িত্ব সচেতনতা ও আন্তর্জাতিক আইনের বিজয়
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












