সুওয়াল-জাওয়াব:
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (১১)
, ১৮ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০১ খ্বমিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ১৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) শিক্ষামূলক জিজ্ঞাসা
সুওয়াল:
এক মুনাফিক কিছু বাতিল ও মনগড়া দলীল জোগাড় করে মূর্তিকে জায়িয প্রমাণ করার অপচেষ্টা করেছে। তার মূল বক্তব্য হচ্ছে, যে মূর্তিকে পূজা, আরাধনা, ইবাদত করা হয়, যেটা মানুষকে মুশরিক বানায়; সেটা নিষেধ। কিন্তু যে মূর্তিকে আরাধনা ইবাদত করা হয় না বরং যে মূর্তি সৌন্দর্য বাড়ায়, সুসজ্জিত করে সেটা নিষেধ নয়।
অতএব, উক্ত ব্যক্তির এ ধরণের যুক্তি কতটুকু ইসলামসম্মত? দলীলসহ জাওয়াব দিয়ে বিভ্রান্তি নিরসন করবেন।
জাওয়াব (১১ম অংশ):
(পূর্বে প্রকাশিতের পর)
অন্য বর্ণনায় রয়েছে-
لَيْسَ وَرَاءَ ذَلِكَ مِنَ الإِيمَانِ حَبَّة خَرْدَلٍ
অর্থ: এরপরে সম্মানিত ঈমান উনার আর কোনো স্তর নেই। (আল আহকামুশ শরইয়্যাহ লিল ইশিবীলী ৩/২১৬)
অর্থাৎ হারাম কাজ দেখে বাধা না দেয়ার কারণে এবং সেখানে অবস্থান করার কারণে তাদের ঈমানের আর কোনো স্তর বাকী থাকলো না। তারা বেঈমান হিসেবেই সাব্যস্ত হলো। তারা মূলত মুশরিকই হয়ে গেলো। নাঊযুবিল্লাহ!
কোনো স্থানে মহান আল্লাহ পাক উনার আয়াত শরীফ বা নিদর্শন মুবারক উনাকে অস্বীকার করতে বা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতে দেখলে সে স্থান ত্যাগ করতে বলা হয়েছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَقَدْ نَزَّلَ عَلَيْكُمْ فِي الْكِتَابِ أَنْ إِذَا سَمِعْتُمْ آَيَاتِ اللَّهِ يُكْفَرُ بِهَا وَيُسْتَهْزَأُ بِهَا فَلَا تَقْعُدُوا مَعَهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ إِنَّكُمْ إِذًا مِثْلُهُمْ إِنَّ اللَّهَ جَامِعُ الْمُنَافِقِينَ وَالْكَافِرِينَ فِي جَهَنَّمَ جَمِيعًا
অর্থ: আর নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি কিতাবে নাযিল করেছেন যে, যখন তোমরা শুনবে (কোনো স্থানে বা মজলিসে) মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র আয়াতসমূহ অস্বীকার করা হচ্ছে ও সেগুলোকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা হচ্ছে তখন তোমরা তাদের সঙ্গে বসে থেকো না, যে পর্যন্ত না তারা অন্য কোনো প্রসঙ্গে যায় (বা এটা থেকে বিরত থাকে), (যদি তোমরা সেখানে বসে থাকো) নিঃসন্দেহে তাহলে তোমরাও তাদের মতোই হয়ে যাবে। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি মুনাফিক ও কাফিরদেরকে সম্মিলিতভাবে জাহান্নামে একত্রিত করবেন। (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৪০)
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফে উনার সাথে শরীক করতে নিষেধ করেছেন। আর পূজার মধ্যে সরাসরি এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার বিরুদ্ধাচরণ করা হয়। এর চেয়ে আর বড় ঠাট্টা-বিদ্রুপের স্থান যমীনের কোথাও হতে পারে না। আর নামধারী উলামায়ে সূ’রা সেই পূজার ম-প পাহারা দেয়ার ঠিকাদারী নিয়েছে এবং পাহারা দিচ্ছে। নাঊযুবিল্লাহ!
উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হচ্ছে- এরা হলো মুসলমান নামধারী মুনাফিক। মহান আল্লাহ পাক তিনি এদেরকে কাফিরদের সাথে জাহান্নামে একত্রিত করবেন। নাঊযুবিল্লাহ!
সম্মানিত শরীয়ত উনার উছূল হচ্ছে-
الرِّضَا بِالْكُفْرِ كُفْرٌ
অর্থ: কুফরী কাজে সন্তুষ্ট হওয়া, খুশি প্রকাশ করা কুফরী। (লাওয়ামিউল আনওয়ার ১/৩৬৩)
কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এই উলামায়ে সূ’রা এবং তাদের অনুসারীরা মন্দির পাহারা দিয়ে সেটা আবার প্রচার করছে এবং গর্ববোধ করছে। নাঊযুবিল্লাহ! অর্থাৎ তারা বড় অপরাধ করে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে, খুশি প্রকাশ করছে। নাঊযুবিল্লাহ! সম্মানিত শরীয়ত উনার উছুল অনুযায়ী তাদের ঈমান নষ্ট হয়ে গেছে, তারা বেঈমান, মুরতাদ হয়ে গেছে। নাঊযুবিল্লাহ!
আর শরীয়তে মুরতাদের ফায়ছালা হচ্ছে- তাদেরকে তওবা করার জন্য তিনদিন সময় দেয়া হবে, তিনদিনের মধ্যে তওবা না করলে তাদের একমাত্র শরঈ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদ-। তারা হজ্জ করলে হজ্জ বাতিল হয়ে যাবে, বিবাহ করলে বিবাহ ফাসেদ হয়ে যাবে, তাদের জীবনের সমস্ত আমল বরবাদ হয়ে যাবে। তাদেরকে মুসলমানদের কোনো কবরস্থানে দাফন করা যাবে না। কুকুর-শৃগালের মতো গর্তে পুতে রাখতে হবে। কেউ যদি তাদের গোসল, কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করে তার উপরও একই হুকুম বর্তাবে। নাঊযুবিল্লাহ! এখন যদি সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক থাকতো তাহলে তাদের সবার উপর এই হুকুম কায়িম করা হতো। তবে তারা ইহকালে বাঁচলেও পরকালে অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট তাদেরকে কঠিন জবাবদিহি করতে হবে এবং তারা কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে।
তাদের এই কাজগুলো করার মূল কারণ:
তারা সম্মানিত ইসলাম উনার নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটার জন্যই মূলত এই কাজগুলো করে যাচ্ছে। তারা বহিঃবিশ্বের কাফিরদের কাছে প্রমাণ করতে চায় বাংলাদেশে অন্য ধর্মের মানুষ নিরাপদ, তারা তাদের ধর্ম নির্বিঘেœ পালন করতে পারছে। আর এর জন্য এই উলামায়ে সূ’রা মূল ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। যাতে করে তাদেরকে যেন একটু ক্ষমতায় বসানো হয়। তারা হাক্বীক্বত দ্বীন ইসলাম চায় না। যদি চাইতো তাহলে কাফিরদের উপর ভরসা না করে, মহান আল্লাহ পাক উনার উপর ভরসা করতো।
কিন্তু তারা এতোটাই বোকা এই বুঝটাও তাদের নেই যে, কাফিররা কখনোই চায় না কোনো দেশে ইসলাম জারী হোক, মুসলমানরা কর্তৃত্ব করুক। কারণ দুনিয়ার সমস্ত কাফিররাই ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী। মুসলমানদের বিরুদ্ধে তারা একদল।
একটি ধোঁকা:
তাদেরকে এই মন্দির পাহারা দেয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তারা বলে ‘সমস্ত ধর্মের লোকদের নিরাপত্তা দেয়া না কি দ্বীন ইসলাম উনার দায়িত্ব।’ নাঊযুবিল্লাহ! তারা এটা বলে সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দেয়ার চেষ্টা করছে। এখানে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, বর্তমানে আমাদের দেশে যেই রাষ্ট্র ব্যবস্থা এটা কোনো ইসলামী ব্যবস্থা না। এটা গণতান্ত্রিক একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থা। গণতন্ত্রের সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে; তার জনগণকে নিরাপত্তা দেয়া। এখন এখানে প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে মুশরিকদের তারা তাদের মন্দির পাহারা দিবে। এরপর যদি আরো কিছু প্রয়োজন হয় সেটা দেশের প্রশাসন দেখবে। এটা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার কোনো দায়িত্ব না। কারণ দ্বীন ইসলাম কাউকে কোনো অন্যায় কাজে সাহায্য করার অনুমতি দেয়নি।
হ্যাঁ, কোনো এলাকায় যদি সম্মানিত খিলাফত ব্যবস্থা থাকে এবং সেখানকার বিধর্মীরা জিযিয়া কর দেয়। তাহলে এই শর্তে তখন তাদেরকে নিরাপত্তা দেয়া হবে। তবে তারা তাদের নির্দিষ্ট জায়গায় তাদের ধর্ম পালন করবে। তাদের ধর্মের কোনো প্রচার-প্রসার করতে পারবে না। নতুন করে কোনো মন্দির বানাতে পারবে না। (এ বিষয়ে জানতে খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার খিলাফত পরিচালনার ইতিহাস দেখা যেতে পারে।)
মহান আল্লাহ পাক তিনি দুনিয়ার সমস্ত মুসলমানদেরকে এই সমস্ত উলামায়ে সূ’দের ধোঁকা থেকে বেঁচে থাকার এবং এদের হাক্বীক্বত জেনে সেটা প্রকাশ করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন।
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রসঙ্গ: মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করার শরয়ী হুকুম
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
প্রসঙ্গ: মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করার শরয়ী হুকুম
০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
প্রসঙ্গ: মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করার শরয়ী হুকুম
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (১০)
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ দ্বীন ইসলামে দিবস পালন করা শরীয়তসম্মত (৩)
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (৯)
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ দ্বীন ইসলামে দিবস পালন করা শরীয়তসম্মত (২)
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (৮)
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ দ্বীন ইসলামে দিবস পালন করা শরীয়তসম্মত (১)
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (৭)
০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (৬)
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ: শানে আওলাদু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












