প্রসঙ্গঃ জবরদখলে থাকা সরকারি সম্পত্তি, পরিত্যক্ত সম্পত্তি, খাস জমি অথবা রেলওয়ের বেহাত জমি। পরিত্যক্ত জমির হিসাব ভূমি মন্ত্রণালয়ে নেই। উদ্ধারেও কোনো তৎপরতা নেই।
, ২৫ জুমাদাল উলা শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ১১ সাবি’ ১৩৯১ শামসী সন , ১০ ডিসেম্বর, ২০২৩ খ্রি:, ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মন্তব্য কলাম
সরকারি জমি জাতীয় সম্পদ। এ সম্পদ কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথ মসৃণ করা দুরূহ কোনো বিষয় নয়। তবে এক্ষেত্রে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দরকার এবং দলীয় সঙ্কীর্ণতা পরিহারসহ সব কিছুর ঊর্ধ্বে উঠে দেশের মুহব্বতে কাজ করার মানসিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, পরিত্যক্ত ও খাস জমির মালিক সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়। কিন্তু ভূমি মন্ত্রণালয়ের কাছে এসব জমির কোনো হিসাবই নেই। ফলে সরকারের মূল্যবান এসব জমি নানাভাবে বেহাত হয়ে যাচ্ছে। এদিকে স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও পরিত্যক্ত সম্পত্তির কোনো তালিকা হয়নি। খাস জমির ক্ষেত্রেও রয়েছে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। তবে পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকা চূড়ান্ত করে গেজেট আকারে প্রকাশ করার জন্য দু’বছর আগে ভূমি মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিলেও তা বিফলে যেতে বসেছে। এ বিষয়ে প্রায় সবক’টি জেলা তথ্য পাঠালেও ঢাকা ডিসি অফিস থেকে কোনো তথ্য দেয়া হয়নি।
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পূর্ব-পাকিস্তানে বসবাসরত যেসব মুসলিম বিহারি জমিজমা ও সম্পত্তি ফেলে পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যান, দেশ স্বাধীনের পর তাদের সব সম্পত্তি সরকার পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করে। ‘প্রেসিডেন্ট আদেশ নম্বর ১৬’ বা ‘পিও সিক্সটিন’ নামে পরিচিত এক আদেশের মাধ্যমে এধরনের ফেলে যাওয়া সম্পত্তিকে পরিত্যক্ত সম্পত্তিভুক্ত করা হয়। এসব সম্পত্তির মূল মালিক ভূমি মন্ত্রণালয়।
সারা দেশে রেলওয়ের জমি রয়েছে ৬১ হাজার ৮৬০.২৮ একর। এরমধ্যে অপারেশনাল কাজে ব্যবহার হচ্ছে ৩১ হাজার ৫৬৮.৯৪ একর। বাকি জমির মধ্যে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে প্রায় পাঁচ হাজার একর। বর্তমানে রেলওয়ের তিন হাজার ৯৯১.৩৯ একর জমি অবৈধ দখলে রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের দখলে রয়েছে ৯২২ একর, ব্যক্তি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দখলে রয়েছে দুই হাজার ৯৭৮.২২ একর এবং ধর্মীয় ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দখলে রয়েছে ৯০.৮৩ একর।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অবৈধ দখলকারীরা প্রশাসনের একশ্রেণীর অসৎ কর্মকর্তার সহযোগিতায় জাল দলিল বানিয়ে নেয়। উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলে জাল দলিল নিয়ে আদালতে মামলা ঠুকে দেয়। মামলার কারণে উচ্ছেদ অভিযান চালানো যায় না।
ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশে সরকারি, ব্যক্তি মালিকানাধীন, খাস, অর্পিত সম্পত্তি, পরিত্যক্ত সম্পত্তি এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অধিদফতর, পরিদফতর ও দফতরের মালিকানায় জমি রয়েছে। সরকারি যে প্রতিষ্ঠানের আওতায় এ সম্পত্তি থাকুক না কেন, ভূমি মন্ত্রণালয় এর বাৎসরিক খাজনা তথা ভূমি উন্নয়ন কর পাবে। কোন মন্ত্রণালয়ের অধীনে কী পরিমাণ কোন শ্রেণীর সরকারি সম্পদ রয়েছে তার কোনো পরিসংখ্যান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়েই পাওয়া যাচ্ছে না। ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে সবকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাছে হাজার কোটি টাকার ভূমি উন্নয়ন কর পাওনা রয়েছে দাবি করা হলেও মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো তা আমলেই নিচ্ছে না।
সংশি¬ষ্ট সূত্র জানায়, ভূমি ব্যবস্থাপনায় ভূমি মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, ভূমি আপিল বোর্ড, ভূমি সংস্কার বোর্ড এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতর এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মধ্যে নেই কোনো সমন্বয়। সরকারি স্থাপনা নির্মাণ কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে অধিগ্রহণ করা সরকারি সম্পত্তিগুলোও রক্ষণাবেক্ষণের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে সরকারি সম্পত্তি চলে যাচ্ছে জবরদখলকারীদের নিয়ন্ত্রণে। আবার সেই সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য সরকার পক্ষ আদালতে মামলা করতে যাচ্ছে। সরকারি সম্পত্তি বেহাত হওয়ার পর সেই সম্পত্তি উদ্ধারে মামলা করা হলেও যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বহীন আচরণে সরকারি সম্পত্তি বেহাত হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। বরং তারা থেকে যাচ্ছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।
রেলের দামি জমিতে প্রভাবশালী মহল ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, কল-কারখানা, স্কুল-কলেজ, ক্লাব, রাজনৈতিক দলের কার্যালয় ইত্যাদি স্থাপন করে দখল বজায় রেখেছে। কয়েক হাজার কোটি টাকার এই ভূ-সম্পত্তি উদ্ধারে রেলের কার্যকর কোনো তৎপরতা নেই। উদ্ধার অভিযান চালাতে গেলেও উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে তা থমকে যাচ্ছে।
মূলত, রাজনৈতিক মদদেই মূল্যবান পরিত্যক্ত সম্পত্তিগুলো সরকারের হাতছাড়া হয়ে গেছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যেসব পরিত্যক্ত সম্পত্তি বেদখলে রয়েছে, তার বেশিরভাগই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দখলে। অবৈধভাবে সরকারি ক্ষমতার প্রভাব খাটানোর মধ্যেমে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে মূল্যবান এসব সম্পত্তি। যেহেতু কমবেশি সবগুলো বড় রাজনৈতিক দলের লোকেরাই এসব দখলবাজির সঙ্গে জড়িত, সে কারণে বেহাত হওয়া সম্পত্তিগুলো পুনরুদ্ধারে কার্যকর ও সমন্বিত কোনো পদক্ষেপ নেই।
প্রসঙ্গত আমরা মনে করি- যে দেশে ভূমিহীনদের সংখ্যা কোটির উপরে, সেদেশে এতো বিশাল ভূমি বেহাত হয়ে থাকতে পারে না এবং অব্যবহৃত হয়েও থাকতে পারে না। এসব ভূমি অবশ্যই অবিলম্বে সত্যিকার ভূমিহীনদের মাঝে বণ্টনে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সস্তা জনপ্রিয়তার বিপরীতে সস্তা জনরোষের পথেই কী হাটতে চায় সরকার? মাত্র ১০/১৫ হাজার কোটি টাকার জন্য ওয়াদা খেলাফ করে বিদ্যুতের দাম আবার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির আগুনে আরো ঘি ঢালছে সরকার। জনভোগান্তির জুলুম থেকে সরে আসতে হবে সরকারকে।
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৮)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
১৯৯০ সালে কাঁচা চামড়া রফতানীর নিষিদ্ধ করণের প্রেক্ষাপট বর্তমানে নেই। এ মুহুর্তে কাঁচা চামড়া রফতানীর অনুমোদন বর্তমান সংকটকে অনেকটাই কমাতে পারে।
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কুরবানী আসে-যায় মৌসুমী কসাইরা অরক্ষা আর অবহেলাতেই থেকে যায়। তাদের অনেকে আহত হয়, পঙ্গু হয়, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়- মৌসুমী কসাইদের প্রশিক্ষণ ও পৃষ্টপোষকতার পাশাপাশি ঈদুল আদ্বহায় বিশেষ স্বাস্থসেবা চালু করা দরকার।
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
‘দ্যা গ্রেট রিসেট’ ও নমরুদী মশার প্রতিশোধের এক চরম ইহুদী-নাসারায়ী নীলনকশা!
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিদ্যুতের বিল বার বার বাড়ানো শোষক জমিদারি কায়দায় চক্র বৃদ্ধি হারে খাজনার চাবুক মারা অথচ বিদ্যুতে শুধু চুরি নয়, সব দিক থেকে সাগর চুরি হচ্ছে। সে চুরির ক্ষত পোষাতে জনগণের উপর খাজনা বৃদ্ধি করে চোরদের উৎসাহ ও প্রনোদনা এবং নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে।
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সে যুগেও হুসাইন আহমদকে ইহুদীদের দালাল, হিন্দুদের কংগ্রেসের পা চাটা- গোলাম প্রচারণা করা হলেও থানভী গংরা তা বুঝতে পারলো কৈ? আজকে পশ্চিমবঙ্গে হাজার হাজার মসজিদ ভাঙ্গা ও লাখ লাখ মুসলমানদের বাড়ী-ঘর ধ্বংস, হিন্দুত্ববাদ গ্রহণে বাধ্য করার মত মহা জুলুমের মূলে হোসেন আহমদের সর্ব ভারতীয় জাতীয়বাদ।
২৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আকাশের অতন্দ্র প্রহরী: বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও আবহাওয়া রাডার অবকাঠামোর মহাপরিকল্পনা কেন জরুরি? (১ম পর্ব)
২৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর ২০২৫) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসীম উদ্দিনের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
২২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
কিন্তু গতকাল গুগল, ফেইসবুকে অসংখ্য আইডি থেকে প্রচারিত- ‘তারেক রমমান নারিকেল দ্বীপ (সেন্টমার্টিন দ্বীপ) আমেরিকাকে দিয়ে দিয়েছেন নারিকেল দ্বীপ এখন মার্কিন ঘাটি হবে’- ইত্যকার প্রচারণা দেশবাসীকে হতভম্ব করছে। সর্বপোরি সরকারের দলীয় বা প্রশাসনের তরফ থেকে এটাকে গুজব না বলায়- হতাশা চরম আকার ধারণ করেছে।
২২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বর্বর আম্রিকা আর সন্ত্রাসী ইসরাইলের সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রাখছে সংযুক্ত আরব আমিরাত কিন্তু মুসলিম দেশ ইয়েমেন থেকে শুরু করে সোমালিয়া-লিবিয়া হতে সুদানে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ চালিয়ে রাখছে আরব-আমিরাত ভয়াবহ মানবেতর সংকটে সুদান, সহিংসতা-রোগ-দুর্ভিক্ষে দিশাহারা মানুষ সুদানের রক্তপাত বন্ধে মুসলিম বিশ্বকে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে এক্ষুনি
২১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সার্বভৌমত্বের বিনিময়ে এক শতাংশ ছাড়! এ কেমন কালোচুক্তি? প্রকৃতপক্ষে গোলামীর চুক্তি
২০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












