সম্পাদকীয়-১
প্রসঙ্গঃ গণপরিবহনে নারীবাসীর শ্লীলতাহানি নারীর জন্য আলাদা পরিবহনের পাশাপাশি ইসলামী মূল্যবোধের বিস্তার ঘটাতে হবে ইনশাআল্লাহ
, ১৬ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১০ সাদিস, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৮ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২৩ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) সম্পাদকীয়
সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
রাজধানীর বাড্ডা থেকে পুরান ঢাকার সদরঘাটে আসার উদ্দেশ্যে ভিক্টর ক্লাসিক পরিবহনের একটি বাসে উঠেছিলেন এক নারী। বাসে আসন ফাঁকা না থাকায় গুলিস্তান পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকতে হয় তাকে। এই সময়ের মধ্যে শ্লীলতাহানির তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন তিনি। তবে এবারই প্রথম নয়, এর আগেও শ্লীলতাহানির শিকার হতে হয়েছে তাকে।
বাড্ডা থেকে সদরঘাটে আসার পথে সেদিনের শ্লীলতাহানির ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, “বাসের সবকটি সিটে মানুষ বসা ছিল। সামনের যে কয়টা সিট নারীদের জন্য বরাদ্দ থাকে সেখানেও পুরুষ বসা ছিল। উপায় না দেখে বাসের মাঝামাঝি দাঁড়ালাম। বাস রানিং অবস্থায় মধ্যবয়সী (৪০-৪৫ বছর) একজন পুরুষ একেবারে আমার গা ঘেঁষে দাঁড়ালো। ভিড় থাকায় প্রথমে ভেবেছিলাম, অন্যমনস্ক অবস্থায় আমার শরীরে তার হাত লেগেছে। পরে আমি একটু সামনে সরে দাঁড়ালে লোকটা আবারও আমার পেছনে এসে দাঁড়ায়। ”
ভূক্তভোগী আরও বলেন, “একটা পর্যায়ে ভিড়ের সুযোগে জানোয়ারটা (অভিযুক্ত পুরুষ) আমার শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেয়। আমি চিৎকার দিয়ে উঠি। যখন আমি ঘটনাটা উপস্থিত সবাইকে খুলে বললাম, তখন অনেকে বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নিয়ে উল্টো আমাকে কটুকথা শোনালো। বললো, ‘পাবলিক বাসে এমন টুকটাক হয়, ইচ্ছে করে করেনি হয়তো। তোমার বাবার বয়সী, বাদ দাও। ’ আবার কেউ বললো, একটু ধাক্কাই যদি সহ্য করতে না পারো তাহলে পাবলিক বাসে না উঠে প্রাইভেট গাড়িতে চললেই হয়। ”
কিন্তু বাস্তবে গাড়ী কেনা তো দূরের কথা, রিক্সা চড়াও বাদ দিয়ে বাসের টিকিট যোগাড় করতেও হিমশিম খেতে হয় অনেক নারীর।
আর এভাবে অসংখ্য নারীকে গণপরিবহনে চলাচলের সময় প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। হাতেগোনা দু-একজন প্রতিবাদ করলেও বাকিরা ভয় বা লজ্জায় কিংবা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ার আশঙ্কায় প্রতিবাদ এড়িয়ে চলেন।
বাংলাদেশ রোড সেফটি নেটওয়ার্কের তথ্যমতে, দেশের নগর গণপরিবহনে যাতায়াতকারী নারীদের ৮৩ শতাংশ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। যাদের বেশিরভাগই নীরবে-নিভৃতে দিনের পর দিন এসব নির্যাতন সহ্য করে চলেছেন।
বেসরকারি সংস্থা আঁচল ফাউন্ডেশনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, রাজধানীর গণপরিবহনে প্রায় ৬৪ শতাংশ নারী নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন।
অভিজ্ঞমহল মনে করেন, নারীদের যাতায়াতের জন্য আলাদা পরিবহন ব্যবস্থা থাকলে যৌন হয়রানির মতো এমন ঘটনার সম্মুখীন হতে হবে না।
নারীদের যাতায়াত নির্বিঘœ করার লক্ষ্যে ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) উদ্যোগে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলক মহিলা বাস সার্ভিস চালু করা হয়। ২০০১ সালে তা ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় সম্প্রসারণ করা হয়। ২০০৯ সালে আবার এই সেবাকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেয় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।
সর্বশেষ, ২০১৫ সালেও এ সেবায় ১২টি বাস ছিল। তবে বর্তমানে ৯টি রুটে মাত্র ৯টি বাস চলছে বলে জানিয়েছেন বিআরটিসির কর্মকর্তারা। কিন্তু বাস্তবে তার দেখা নেই। আর ঢাকা শহরের প্রায় দেড় কোটি নারীর জন্য ১২টি নয় ১২০০ বাসও মূলত কিছুই না।
এ বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত চালানো জরিপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যৌন হয়রানির শিকার এই নারীদের প্রায় অর্ধেকসংখ্যক পরবর্তী সময় মানসিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন।
শ্লীলতাহানির মধ্যে রয়েছে গণপরিবহনে ওঠা-নামার সময় চালকের সহকারীর অযাচিত স্পর্শ, বাসে জায়গা থাকার পরও যাত্রীদের গা ঘেঁষে দাঁড়ানো, বাজেভাবে স্পর্শ করা, ধাক্কা দেওয়া, বাজে মন্তব্য।
তবে জরিপে অংশগ্রহণকারী বেশির ভাগ নারী ঝামেলা এড়াতে এসব ঘটনার প্রতিবাদ করেননি বলে জরিপের তথ্য বলছে।
দ্বীনি শিক্ষার অভাব, আইনের সঠিক প্রয়োগ না করা, সর্বোপরি দ্বীন ইসলামের অনুশাসনগুলো সঠিকভাবে পালন না করার কারণে এ ধরনের সামাজিক অবক্ষয় ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশে আইন আছে, সমাজে ঘৃণাও আছে। তবু দুষ্ট ক্ষতের মতো বিষয়টি সমাজজীবনে নিরাময়ের অযোগ্য হয়ে আছে। ব্যক্তি, সমাজ ও কথিত রাষ্ট্রীয় পরিসরে ইসলামী মূল্যবোধের বিস্তারেই কেবল এ ধরনের অবক্ষয় রোধ সম্ভব ইনশাআল্লাহ।
ছহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সব সরকারের আমলেই নেয়া পানিবদ্ধতা নিরসনের সব টাকা পানিতেই যায়।
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়ার হালাল পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ সাড়া দিতে হবে
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
চায়ের কাঙ্খিত উৎপাদন বৃদ্ধিতে অন্য সব ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সমতলেও চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে।
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কিন্তু বর্তমান সরকার জনগণের মালিকানা থেকে অন্যায্যভাবে সেবককে বাড়তি অর্থ দিচ্ছে। বেতন-ভাতা বাড়াচ্ছে ১৪০%। এই বৈষম্য ও অন্যায় সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বিরোধী।
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদু শাবাবী আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম সিবতু রসূল আছ ছানী আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
১২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল আশিরাহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত নিসবাতুল আযীম শরীফ দিবস। সুবহানাল্লাহ! ও সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক তথা পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ! এবং মুজাদ্দিদে যামান সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্বী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
১১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ব্যর্থ ও.আই.সির বিপরীতে মুসলিম দেশগুলো নিয়ে সামরিক জোট গঠনের জন্য ইরানের আহবানকে গুরুত্বের সাথে সাড়া দিতে হবে।
১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মসজিদুল আকসাকে পুরো মুসলমান শূন্য করতে চাচ্ছে ইহুদী-খ্রীষ্টানরা
১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নীরব এই মহামারী নিরসনে সরকারের নিস্ক্রিয় ভূমিকা বরদাশতযোগ্য নয়।
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আজ পবিত্র ২২ শে মুহররমুল হারাম শরীফ! এই মহান দিবসে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুপম বদদোয়া মুবারকের ফলশ্রুতিতে গযবে পতিত হয়ে পবিত্র কা’বা শরীফ ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে আসা কুখ্যাত আবরাহা বাহিনী ধ্বংস হয়ে যায়
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
এই মহান দিবসে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুপম বদদোয়া মুবারকের ফলশ্রুতিতে গযবে পতিত হয়ে পবিত্র কা’বা শরীফ ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে আসা কুখ্যাত আবরাহা বাহিনী ধ্বংস হয়ে যায়
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
‘সবার আগে বাংলাদেশ’
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












