সুওয়াল-জাওয়াব:
প্রসঙ্গ: হজ্জের ফরজ আদায়ে হারাম ছবি তোলাকে সাময়িক বৈধতা প্রদান....
, ০৩ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৭ সাদিস, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৫ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ১০ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) শিক্ষামূলক জিজ্ঞাসা
সুওয়াল:
এক মাসিক পত্রিকায় হজ্জের অজুহাতে ছবি তোলাকে বৈধ বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে দলীল হিসেবে পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ ১৭৩, পবিত্র সূরা আনআম শরীফ ১১৯ ও ১৪৫ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, তীব্র প্রয়োজন হারাম বস্তুকে সাময়িক হালাল করে দেয়। তাই হজ্জের ফরয আদায় করতে হারাম ছবি তোলা সাময়িক বৈধতা পাবে। নাউযুবিল্লাহ! এ বিষয়ে সঠিক জাওয়াব কি?
জাওয়াব:
উক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের খিলাফ বা বিরোধী ও কুফরী হয়েছে। কারণ হারাম বা ফাসিকী কাজ করে তথা ছবি তুলে, বেপর্দা হয়ে হজ্জ করা যাবে না। এটা সরাসরি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
فَمَنْ فَـرَضَ فِيْهِنَّ الْـحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوْقَ وَلَا جِدَالَ فِى الْـحَجِّ ۗ وَمَا تَـفْعَلُوْا مِنْ خَيْرٍ يَّـعْلَمْهُ اللّٰـهُ ۗ وَتَـزَوَّدُوْا فَاِنَّ خَيْـرَ الزَّادِ التَّـقْوٰى ۚ وَاتَّـقُوْنِ يَا اُولِى الْاَلْبَابِ
অর্থ: “যার প্রতি হজ্জ ফরয সে যেন হজ্জ পালনকালে অশ্লীল-অশালীন কাজ না করে এবং কোন প্রকার ফাসিকী কাজ না করে এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে। আর তোমরা যে নেক কাজ করো তা মহান আল্লাহ পাক তিনি জানেন। তোমরা পাথেয় সংগ্রহ করো। নিশ্চয়ই উত্তম পাথেয় হচ্ছে তাক্বওয়া। ” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৯৭)
বলার অপেক্ষা রাখে না, ছবি তোলা ও বেপর্দা হওয়া প্রকাশ্য ফাসিকী ও অশ্লীল-অশালীন কাজ। উক্ত হারাম কাজ আমভাবে সকলের জন্য নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও হজ্জ পালনকারীদের জন্য খাছভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
কাজেই, হজ্জ করার জন্য ছবি তোলা ও বেপর্দা হওয়া ইত্যাদি হারাম কাজ করা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের হুকুম মোতাবেক হারাম। তাছাড়া হজ্জে মাবরূর অর্থাৎ হজ্জ কবুল হওয়ার জন্য শর্তই হচ্ছে সমস্ত প্রকার হারাম কাজ থেকে বেঁচে থাকা।
শুধু তাই নয়, হজ্জ ফরয হওয়ার জন্য শুধু পাথেয় বা অর্থ-সম্পদ থাকাই শর্ত নয়। বরং আরো অনেক শর্ত রয়েছে। তন্মধ্যে হারাম থেকে বেঁচে থাকাও একটি অন্যতম শর্ত। হজ্জ ফরয হওয়ার জন্য সমস্ত শর্ত পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কারো প্রতি হজ্জ ফরয হবে না।
মোটকথা, হজ্জ পালনকালে যেখানে সমস্ত হারাম থেকে বেঁচে থাকা শর্ত করা হয়েছে, সেই হারাম কাজ আবার হজ্জের জন্য বৈধ বা হালাল হয় কি করে? কখনই বৈধ হতে পারে না।
এরা এমন জাহিল যে, মাসয়ালা হচ্ছে এক বিষয়ে আর দলীল দিয়েছে অন্য বিষয়ে। তা হচ্ছে, যখন কেউ হালাল খাদ্যের ব্যবস্থা করতে চরমভাবে নিরুপায় হয়ে যায় অথবা কেউ ৩ দিন অভুক্ত বা না খেয়ে থাকে তখন জীবন বাঁচানোর তাগিদে তার জন্য আবশ্যিক পরিমাণ হারাম খাদ্য গ্রহণ করাটা মুবাহ হয়। কিন্তু তা বৈধ বা হালাল হয়ে যায় না। সেটাই সুওয়ালে উল্লেখিত পবিত্র আয়াত শরীফসমূহ উনাদের মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে।
যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ الْمَيْـتَةَ وَالدَّمَ وَلَحْمَ الْخِنْزِيْرِ وَمَا اُهِلَّ بِهٖ لِغَيْرِ اللّٰـهِ ۖ فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْـرَ بَاغٍ وَّلَا عَادٍ فَلَا اِثْمَ عَلَيْهِ ۚ اِنَّ اللّٰـهَ غَفُوْرٌ رَحِيْمٌ
অর্থ: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি মৃত প্রাণী, রক্ত, শূকরের গোশত এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত অন্যের নামে যবাইকৃত পশুকে খাদ্যবস্তুরূপে হারাম ঘোষণা করেছেন। কিন্তু যে অনন্যোপায় অথচ অন্যায়কারী অথবা সীমালঙ্ঘণকারী নয় তার জন্য কোন গুনাহ হবে না। মহান আল্লাহ পাক তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৭৩)
উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীর বা ব্যাখ্যায় সুপ্রসিদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য তাফসীর গ্রন্থ “তাফসীরে মাযহারীতে” উল্লেখ রয়েছে যে, যারা ক্ষুধার কারণে অনন্যোপায় (সীমালঙ্ঘন না করে) হারাম বস্তু ভক্ষণ করে তাদের জন্য কোনো গুনাহ হবে না। কেননা তারা অন্যায়কারী নয়, আর এমতাবস্থায় খাদ্য আস্বাদনও তাদের উদ্দেশ্য থাকে না। উদ্দেশ্য থাকে শুধুমাত্র জীবন বাঁচানো। এ রকম নিরুপায় অবস্থায় যতটুকু খাদ্য গ্রহণ করলে মৃত্যুর আশঙ্কা রোধ হয়, ততোটুকুই গ্রহণ করা মুবাহ। এর অতিরিক্ত নয়। এক্ষেত্রে হারাম বস্তুগুলো হালাল বলা কুফরী হবে বরং মুবাহ বলতে হবে মাজুর হিসেবে।
অনুরূপ পবিত্র সূরা আনআম শরীফ উনার ১১৯ নং আয়াত শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
وَمَا لَكُمْ اَلَّا تَأْكُلُوْا مِمَّا ذُكِرَ اسْمُ اللّٰهِ عَلَيْهِ وَقَدْ فَصَّلَ لَكُمْ مَا حَرَّمَ عَلَيْكُمْ اِلَّا مَا اضْطُرِرْتُمْ اِلَيْهِ
অর্থ: “যে পশুর উপর (যবেহ কালে) মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক উচ্চারিত হয়েছে তা হতে না খাওয়ার ব্যাপারে তোমাদের কি কারণ থাকতে পারে? অথচ মহান আল্লাহ পাক তিনি বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন যেগুলো তোমাদের জন্য হারাম করেছেন। কিন্তু যখন তোমরা নিরুপায় হয়ে যাও তখন হারাম বস্তুগুলোর মাধ্যমে জীবন রক্ষা করতে পারো। ”
উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় “তাফসীরে মাযহারীতে” উল্লেখ রয়েছে, যখন জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে তখন জীবন রক্ষার জন্য হারাম বস্তু ভক্ষণ করা যেতে পারে। হারাম তখনও হারামই থাকে। কিন্তু জীবন রক্ষার অত্যাবশ্যক তাগিদে তখন হারাম ভক্ষণ করলে গুনাহ হবে না মুবাহ হিসেবে। (অসমাপ্ত)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রসঙ্গ: তারাবীহ নামায আদায় ও সংশ্লিষ্ট মাসয়ালা-মাসায়িল
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: তারাবীহ নামায আদায় ও সংশ্লিষ্ট মাসয়ালা-মাসায়িল
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র রোযা সম্পর্কিত জরুরী সুওয়াল-জাওয়াব
২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রসঙ্গ: তারাবীহ নামায আদায়ের শরয়ী তারতীব
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ: তারাবীহ নামায আদায়ের শরয়ী তারতীব
১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: ছোয়াচে রোগ
০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: ছোয়াচে রোগ
২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র মি’রাজ শরীফের তারিখ নিয়ে মতভেদ (৩)
২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র মি’রাজ শরীফের তারিখ নিয়ে মতভেদ (২)
১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র মি’রাজ শরীফের তারিখ নিয়ে মতভেদ (১)
০৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র মসজিদের ভিতরে চেয়ার স্থাপন নব্য বিদয়াত
৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র মসজিদের ভিতরে চেয়ার স্থাপন নব্য বিদয়াত
২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












