পাঠকের কলম:
পিতা-মাতা হারাম খেলে, তার তাছীর সন্তানের উপরও পড়ে
, ২৯ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৮ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ০৫ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মহিলাদের পাতা
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ উনার ১৭২ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
‘হে ঈমানদাররা! আমি তোমাদেরকে যে হালাল খাদ্য দিয়েছি, সেখান থেকে তোমরা খাদ্য গ্রহণ করো এবং আল্লাহ্ পাক উনার শুকরিয়া আদায় করো। যদি সত্যিকারে মহান আল্লাহ্ পাক উনার ইবাদত-বন্দেগী করে থাকো বা আল্লাহ্ পাক উনার ইবাদত-বন্দেগী করতে চাও, তাহলে আল্লাহ্ পাক উনার শুকরিয়া আদায় করো। অর্থাৎ হালাল যে খাদ্য বা গেযা দেয়া হয়েছে সেখান থেকে তোমরা খাদ্য গ্রহণ করো মহান আল্লাহ্ পাক তিনি বলে দিয়েছেন।
মহান আল্লাহ্ পাক তিনি আরো বলেন, হে মানুষ! জমিনের মধ্যে যে হালাল খাদ্য আমি দিয়েছি, সেখান থেকে তোমরা খাও। শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করোনা। শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ১৬৮)
মহান আল্লাহ্ পাক উনার হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, “হালাল কামাই করা অন্যান্য ফরযের পরে ফরয।”
হালাল রিযিক প্রতিটি মানুষের জন্য বিশেষ করে প্রতিটি পিতা-মাতার জন্য কত বেশী জরুরী সে প্রসঙ্গে কিতাবে একটি ঘটনা বর্ণনা করা হয়-
এক এলাকায় একটি পরিবার অর্থাৎ আহাল-আহলিয়া (স্বামী-স্ত্রী) ছিল। লোকটি তার আহলিয়াসহ খালিছ তওবা করে। তওবা করে তারা মনে মনে চিন্তা করলো, যে আমরা কখনও পাপ কাজ করবো না, শরীয়তের খেলাফ চলবো না, অবৈধ জিনিস খাবো না। খালিছ তওবা করলো এবং তখন তারা নেক সন্তানের জন্য মহান আল্লাহ্ পাক উনার কাছে আরজু করলো। একটা সন্তান তাদের হলো। হওয়ার পর দেখা গেলো, সে সন্তান নেক্কারই হয়েছে। এলাকায় তার একটা মশহুর নাম হয়ে গেছে লোকটা নেক্কার হিসেবে, পরহেজগার হিসেবে, আল্লাহ্ওয়ালা হিসেবে। সে আল্লাহ্ওয়ালা লোকটা যে এলাকায় বসবাস করতো তার নিকটবর্তী একটা দোকান ছিল, দোকানের যারা মালিক ছিল, কর্মচারী ছিল তারাও জানতো যে, সে লোক আল্লাহওয়ালা এবং তার যারা আওলাদ রয়েছে অর্থাৎ ছেলে রয়েছে সেও আল্লাহ্ওয়ালা, নেককার। কিন্তু হঠাৎ একটা ঘটনা ঘটে গেল। সেটা হলো সে দোকানে তারা ফলও বিক্রি করতো। কুল বড়ই বিক্রি করতো। হঠাৎ দোকানের মালিক একদিন বসে রয়েছে, সে দেখলো সেই বাড়ির ছেলেটা এসে সকলের অজান্তে তার টুকরি থেকে একটা বড়ই নিয়ে খেয়ে ফেললো। জিজ্ঞাসাও করলো না, তখন দোকানের মালিক চুপ হয়ে গেল। সে কাউকে কিছু বললো না।
বাদ মাগরিব সে ঐ লোকের বাড়িতে গেল। বাড়িতে যেয়ে বললো যে, একটা কথা আপনাকে আমি বলব। যেটা আমার কাছে ব্যতিক্রম মনে হয়েছে। আমি মানুষকে সেটা বলিনি। কারণ আপনার মানহানি হতে পারে। তাহলো আপনার ছেলের চরিত্র সম্পর্কে। আজকে আমি এমন একটা বিষয় দেখলাম তাতে আমি আশ্চর্য হয়ে গেলাম। আমি কাউকে বলিনি। সেটা কি? সেটা হলো আমাদের দোকানে যেয়ে আপনার ছেলে কাউকে কিছু না বলে ও পয়সা না দিয়ে একটা বড়ই খেয়ে ফেলেছে।
যখন একথা বলা হলো। সেটা শুনে আল্লাহ্ওয়ালা লোকটি লজ্জিত হলো। সে বললো ঠিক আছে তার পয়সা আমি পরিশোধ করে দিবো। কিন্তু দোকানদার বললো পয়সার জন্য আমি আসিনি। আপনার ছেলে এটা করবে এটা আমি কল্পনাই করতে পারিনি। কেন সে এটা করলো? এটা একটা চিন্তার বিষয়। আর সেটা আপনাকে আমি জানিয়ে দিলাম যেন সে ভবিষ্যতে না করে। কারণ আপনার মান-সম্মান রয়েছে। মানুষ আপনাকে ভাল জানে ইত্যাদি ইত্যাদি, বলে লোকটা চলে গেল।
সেই বাড়ির মালিক অর্থাৎ সেই আল্লাহ্ওয়ালা লোকটা সে তার আহলিয়ার সাথে পরামর্শ করলো যে কি করে আমাদের ছেলে এ কাজটা করতে পারে? যেহেতু আমরা এ কাজ কখনও করিনি। তখন অনেক ফিকিরের পর সেই লোকের আহলিয়া সে বললো যে, একটা ঘটনা ঘটেছিল। কি ঘটেছিল?
ঘটনা হচ্ছে- সে যখন আমার পেটে ছিল, আমাদের প্রতিবেশীর একটি বড়ই গাছ ছিল তার একটা ডালা আমাদের বাড়ীর দিকে ছিল। আমি একদিন ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় সেখান থেকে একটা বড়ই খেয়েছিলাম। মনে হচ্ছে তার তাছীর পড়েছে, যার জন্য সন্তানও মানুষকে না জানিয়ে একটা বড়ই খেয়ে ফেলেছে।
এখন ফিকিরের বিষয়, সন্তানের মা না জানিয়ে একটা বড়ই খেয়েছিলো যার ফলশ্রুতিতে সন্তানের উপর সেই তাছীর পড়েছে। সেই আল্লাহ্ওয়ালা লোকটা বললো, তাহলে উচিত ছিলো সেই লোকটাকে বলে দেয়া এবং তার কাছে ক্ষমা চাওয়া। অবশ্য পরবর্তীতে তারা সেটা করেছে।
এখানে চিন্তা ও ফিকিরের বিষয় হলো যে, পিতার এবং মাতার তাছীর সন্তানের উপর পড়ে। কাজেই যদি কেউ নেক সন্তান চায় তাহলে তার দায়িত্ব হলো সে যেন হালাল খাদ্য খায়।
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে সদা সর্বদা হালাল খাদ্য খাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।
-আফিয়া মুনাওয়ারা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের- সন্তুষ্টি-রেযামন্দি লাভের জন্য সন্তান প্রতিপালন করা সুন্নত (৬)
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
একখানা মহাসম্মানিত সুন্নাত মুবারক আমল করলে, মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে ৪টি নিয়ামত মুবারক
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
“যিনি সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনাকে বিশেষ মর্যাদা দিলেন, তিনি অবশ্যই ঈমান নিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিবেন এবং বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবেন”
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (২৭)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাশরের ময়দানে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককেই দিতে হবে
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হুব্বে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
তালাক দেয়ার অধিকারী কে? চেয়ারম্যান, মেম্বার নাকি আহাল বা স্বামী? (১)
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইখলাছ অর্জন করা ফরজ; ইখলাছ ছাড়া ইবাদত-বন্দেগী কবুল হয় না
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












