পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
(রাজারবাগ শরীফ উনার সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার ওয়াজ শরীফ থেকে সংকলিত)
, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মহিলাদের পাতা
(ধারাবাহিক)
এইজন্য কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে, মৃত্যুর সময় মৃত্যুর কষ্ট কম হবে এবং জান্নাত নছীব হবে। মৃত্যুর সময় মৃত্যুর কষ্ট লাঘব হবে এবং জান্নাত নছীব হবে ঐ ব্যক্তির, যার মধ্যে তিনটা গুণ রয়েছে।
এক হচ্ছে- যে অভাবগ্রস্থ গরীব-মিসকীনদের সাথে দয়া প্রকাশ করে থাকে, তাদের সাথে ইহসান করে থাকে।
দুই হচ্ছে- অধীনস্থদের সাথে সদ্ব্যবহার করে থাকে।
তিন হচ্ছে- যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতার সাথে সৎ আচরণ করে থাকে।
এই তিনটা গুণ যার মধ্যে থাকবে, অবশ্যই জান্নাত তার নছীব হবে এবং তার মৃত্যুর কষ্ট লাঘব হবে। কাজেই মূলতঃ প্রত্যেকেরই তার পিতা-মাতার হক্ব সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।
এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, একটা লম্বা পবিত্র হাদীছ শরীফ উল্লেখ করেছেন মহান আল্লাহ পাক উনার রাসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। হযরত কা’ব ইবনে উজরাতা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন-
عَنْ حَضْرَتْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: اُحْضُرُوا الْمِنْبَرَ فَحَضَرْنَا، فَلَمَّا ارْتَقَى دَرَجَةً قَالَ: آمِينَ، فَلَمَّا ارْتَقَى الدَّرَجَةَ الثَّانِيَةَ قَالَ: آمِينَ، فَلَمَّا ارْتَقَى الدَّرَجَةَ الثَّالِثَةَ قَالَ: آمِينَ، فَلَمَّا فَرَغَ نَزَلَ مِنَ الْمِنْبَرِ قَالَ: فَقُلْنَا له يَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَدْ سَمِعْنَا الْيَوْمَ مِنْكَ شَيْئًا لَمْ نَكُنْ نَسْمَعُهُ قَالَ: إِنَّ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلَامِ عَرَضَ لِي فَقَالَ: بَعُدَ مَنْ أَدْرَكَ رَمَضَانَ فَلَمْ يُغْفَرْ لَهُ فَقُلْتُ: آمِينَ فَلَمَّا رَقِيتُ الثَّانِيَةَ قَالَ: بَعُدَ مَنْ ذُكِرْتَ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْكَ فَقُلْتُ: آمِينَ، فَلَمَّا رَقِيتُ الثَّالِثَةَ قَالَ: بَعُدَ مَنْ أَدْرَكَ وَالِدَيْهِ الْكِبَرَ أَوْ أَحَدُهُمَا، فلَمْ يُدْخِلَاهُ الْجَنَّةَ فَقُلْتُ: آمِينَ
হযরত কা’ব ইবনে উজরাতা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন যে, একদিন মহান আল্লাহ পাক উনার রাসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, হে আমার ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম! আপনারা প্রত্যেকেই মিম্বরের কাছে আসুন। মিম্বরের কাছে হাজির হোন।
اُحْضُرُوا الْمِنْبَرَ فَحَضَرْنَا
উনারা বর্ণনা করেন, আমরা সকলেই হাজির হলাম। মহান আল্লাহ পাক উনার রাসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উপস্থিত হয়ে এক সিঁড়ি, দুই সিঁড়ি, তিন সিঁড়ি করে তৃতীয় সিঁড়িতে দাঁড়ালেন। প্রত্যেক সিঁড়িতে উঠার সময় আমীন, আমীন, আমীন বললেন। তৃতীয় সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে কিছু নছীহত মুবারক করলেন। নছীহত মুবারক শেষ করে আবার নেমে আসলেন।
যখন নেমে আমাদের কাছে এসে বসলেন, আমরা জিজ্ঞাসা করলাম-
يَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
আজকে এমনকিছু কথা আমরা শুনলাম, যেটা পূর্বে কখনও শুনিনি আপনার জবান মুবারক থেকে। যে, কি শুনেছেন? যে, আপনি প্রত্যেক সিঁড়ি দিয়ে উঠার সময় প্রত্যেক সিঁড়িতে আমীন, আমীন, আমীন বলেছেন, তার কি কারণ রয়েছে?
তখন মহান আল্লাহ পাক উনার রাসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন যে দেখুন, আমি যখন প্রথম সিঁড়িতে পা রাখলাম,
إِنَّ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلَامِ عَرَضَ لِي فَقَالَ: بَعُدَ مَنْ أَدْرَكَ رَمَضَانَ فَلَمْ يُغْفَرْ لَهُ فَقُلْتُ: آمِينَ
প্রথম সিঁড়িতে আমি যখন পা মুবারক রাখলাম, তখন হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম এসে আমাকে বললেন, “আয় মহান আল্লাহ পাক উনার রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলুন, ঐ ব্যক্তি ধ্বংস, হালাক, যে রমজান শরীফ পেল, অথচ তার গুণাহ্খতা সে ক্ষমা করাতে পারলোনা। সে হালাক, সে ধ্বংস।”
মহান আল্লাহ পাক উনার রাসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আমি তখন বললাম, “আমীন, হ্যাঁ ঐ ব্যক্তি ধ্বংস, যে রমজান শরীফ পেল অথচ তার গুণাহ্খতা সে ক্ষমা করাতে পারলো না, সে ধ্বংস, সে হালাক।
فَلَمَّا رَقِيتُ الثَّانِيَةَ
এরপর যখন দ্বিতীয় সিঁড়িতে আমি পা মুবারক রাখলাম,
قَالَ: بَعُدَ مَنْ ذُكِرْتَ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْكَ فَقُلْتُ: آمِينَ
দ্বিতীয় সিঁড়িতে পা মুবারক রাখলাম, তখন হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম আমাকে বললেন, “আয় মহান আল্লাহ পাক উনার রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলুন, ঐ ব্যক্তি ধ্বংস, হালাক, যে ব্যক্তির সামনে আপনার নাম মুবারক উচ্চারিত হলো- উচ্চারণ করা হলো অথচ সে আপনার প্রতি দুরূদ শরীফ পাঠ করলো না, আপনার প্রতি দুরূদ শরীফ পাঠ করলোনা সে ব্যক্তি ধ্বংস।” আপনি বলুন, “আমীন।”
মহান আল্লাহ পাক উনার রাসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “আমীন।” হ্যাঁ, সে ব্যক্তি ধ্বংস, সে ব্যক্তি হালাক, যে আমার নাম মুবারক শুনলো অথচ আমার প্রতি দুরূদ শরীফ পাঠ করলো না।
فَلَمَّا رَقِيتُ الثَّالِثَةَ
এরপর যখন আমি তৃতীয় সিঁড়িতে পা মুবারক রাখলাম, তখন
قَالَ: بَعُدَ مَنْ أَدْرَكَ وَالِدَيْهِ الْكِبَرَ أَوْ أَحَدُهُمَا، فلَمْ يُدْخِلَاهُ الْجَنَّةَ فَقُلْتُ: آمِينَ
এরপর যখন আমি তৃতীয় সিঁড়িতে পা মুবারক রাখলাম, তখন হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম এসে আমাকে বললেন, “আয় মহান আল্লাহ পাক উনার রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলুন, ঐ ব্যক্তি ধ্বংস, ঐ ব্যক্তি হালাক, সে জাহান্নামী, যে তার পিতা-মাতা দু’জন অথবা একজনকে পেল বৃদ্ধ বা বৃদ্ধা অবস্থায়। অথচ তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালো না, তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালো না। সে ধ্বংস, সে হালাক।”
মহান আল্লাহ পাক উনার রাসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আমি বললাম, “আমীন।” হ্যাঁ, সে ধ্বংস হোক, সে হালাক। যে তার পিতা-মাতার দু’জনের একজনকে পেল অথচ সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারলো না অর্থাৎ সে তার পিতা-মাতার সাথে অসৎ আচরণ করেছে, যার কারণে তারা তাকে দোয়া না করে বদদোয়া করেছে। সে ধ্বংস, সে হালাক।
কাজেই প্রত্যেক ব্যক্তিকেই সেটা খেয়াল রাখতে হবে। যদি কারো জন্য তার পিতা-মাতা বদদোয়া করে, তাহলে তার জন্য ধ্বংস ছাড়া কোন গতি নেই। প্রকৃতপক্ষে, ধ্বংস ছাড়া কোন গতি নেই।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
তিন ধরনের লোক বেহেশ্তে প্রবেশ করবে না
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত তামাযির খুনসা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (১৩)
২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দান-ছদকাহ বালা-মুসিবত দূর করে
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইলমে তাসাউফ অর্জন করা ব্যতীত ইবাদত মূল্যহীন
১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পারিবারিক জীবনে একটি মারাত্মক ভুল যার সংশোধন নেই (১)
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












