পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
(রাজারবাগ শরীফ উনার সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার ওয়াজ শরীফ থেকে সংকলিত)
, ২২ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১২ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ১২ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ২৭ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মহিলাদের পাতা
(ধারাবাহিক)
মহান আল্লাহ পাক তিনি এখানে হযরত ঈসা রুহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার যে গুণ বর্ণনা করেছেন তার মধ্যে এই গুণটিও বর্ণনা করে দিয়েছেন যেটা হযরত ইয়াহ্ইয়া আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছিল। এখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আমি আমার মাতার বাধ্য, আমি অবাধ্য নই। আমি আমার মাতার অবাধ্য সন্তান নই, আমি আমার মাতার বাধ্য সন্তান। এটাও মহান আল্লাহ পাক তিনি নবী আলাইহিস সালাম উনার গুণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
لَمْ يَجْعَلْنِي جَبَّارًا شَقِيًّا
“আমি জালিম বা জুলুমকারী নই এবং বদবখ্ত নই।”
তাহলে দেখা যাচ্ছে, যারা পিতা-মাতা বিশেষ করে মাতার সাথে জুলুম করে থাকে তারা জালিম এবং বদবখ্ত। এটাই মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ করেছেন।
এ প্রসঙ্গে বলা হয়, হযরত আবু হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন-
عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يجزى ولد والده الا ان يجده مملوكا فيشتريه فيعتقه.
“হযরত আবু হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন যে, মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক ফরমান, কোন সন্তানের পক্ষে তার পিতা অর্থাৎ পিতা-মাতার হক্ব আদায় করা সম্ভব নয়। কোন সন্তানের পক্ষে তার পিতা-মাতার যা হক্ব রয়েছে তা আদায় করা সম্ভব হবেনা।”
الا ان يجده مملوكا فيشتريه فيعتقه
“যদি কোন সন্তান তার পিতাকে গোলাম হিসেবে পায় তাহলে সে যেন তাকে আজাদ করে দেয় তাহলে যদি কিছুটা হক তার আদায় হয়। যদি কোন সন্তান তার পিতাকে গোলাম হিসেবে পায় এবং তাকে সে আজাদ করে দেয়। তাহলে যদি কিছুটা হক্ব আদায় হয়। অন্যথায় হক্ব আদায় করা সম্ভব নয়।
এ প্রসঙ্গে বলা হয়, হযরত আবু হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন যে, একদিন উনারা হজ্বে গিয়েছেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন সেখানে। এক ব্যক্তি তার মাকে কাঁধে করে তাওয়াফ করতেছিল এবং সে বলতেছিল যে দেখ, মানুষ যত বাহনেই চড়ুকনা কেন প্রত্যেকটা বাহনেই মানুষকে অস্বীকার করে চলে যায়, কিন্তু আমি আমার মাকে অস্বীকার করিনি। আমার মাকে আমি সবসময় কাঁধে কাঁধে নিয়ে চলে থাকি।
এটা বলতেছিল এমন সময় সে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সামনে পড়লো, পড়ার পর বললো, হে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আমি তো আমার মাকে কাঁধে কাঁধে নিয়ে ফিরি, এতে কি আমার মায়ের হক্ব আদায় হয়েছে? অর্থাৎ আমি আমার মাকে তো কাঁধে কাঁধে নিয়ে ঘুরি, তাওয়াফ করতেছি, হজ্ব আদায় করতেছি, অন্যান্য যা কাজ সেগুলি সব সমাধান করতেছি। এতে কি আমার মা’র হক্ব আদায় হয়েছে?
তিনি বললেন যে দেখ, তুমি তোমার মায়ের কি হক্ব আদায় করবে, তুমি যখন জন্মগ্রহণ কর, তোমার মায়ের তখন যে প্রসব বেদনা উঠেছিল সেই কঠিন বেদনার সময় তোমার মা যখন একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়েছিল, সে সময় অনেক দীর্ঘশ্বাসই ছেড়ে থাকে মায়েরা। সেই একটা দীর্ঘশ্বাসের বদলাও তুমি এখন পর্যন্ত আদায় করতে পারোনি। (সুবহানাল্লাহ্)
তখন সে ব্যক্তি লা-জাওয়াব হয়ে গেল, সে মনে করেছিল, সে তার মায়ের হক্ব আদায় করেছে বা করতেছে। তিনি যখন একথা বললেন যে, একটা দীর্ঘশ্বাসের বদলাও তুমি এখন পর্যন্ত আদায় করতে পারনি তাহলে সম্পূর্ণ হক কি করে আদায় করবে? এটা শুনে তখন সে লা-জাওয়াব হয়ে গেল।
কাজেই পিতা-মাতার যে হক্ব রয়েছে এটা খুব কঠিন। প্রত্যেকের কোশেশ করা উচিত সেটা আদায় করা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
“যিনি সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনাকে বিশেষ মর্যাদা দিলেন, তিনি মূলত দ্বীন ইসলাম উনাকেই পুনরুজ্জীবিত করলেন”
২৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশতে প্রবেশ করবে না
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে মেহমানদারী করার মাধ্যমে সম্মানিত শাফায়াত মুবারক লাভ
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (২৫)
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাশরের ময়দানে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককেই দিতে হবে
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হুব্বে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা কারা?
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












