পবিত্র “মাক্বামে মাহমূদ” উনার বেমেছাল তাফসীর বিষয়ে খারেজী জাহমিয়া ফিরকার মুখোশ উন্মোচন (৩)
, ০৭ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৩ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ২২ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ০৭ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
যেমন পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার “পবিত্র সূরা হাদীদ শরীফ উনার মধ্যে” বর্ণিত আছে-
وَهُوَ مَعَكُمْ اَيْـنَمَا كُنْـتُمْ
আল্লামা ফখরুদ্দীন রাযী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ “তাফসীরে কবীর” ২৯/২১৫ পৃষ্ঠায় লিখেন-
(وَهُوَ مَعَكُمْ.......) قَالَ الْمُتَكَلِّمُوْنَ هٰذِهِ الْمَعِيَّةَ اَمَّا بِالْعِلْمِ وَاَمَّا بِالْحِفْظِ وَالْحَرَاسَةِ مَا عَلَى التَّـقْدِيْرِيْنَ فَـقَدْ اِنْـعَقَدَ الْاِجْمَاعُ عَلٰى اَنَّهٗ سُبحَانَهٗ لَيْسَ مَعَنَا بِالْمَكَانِ وَالْجِهَةِ وَالْحِيْزِ
অর্থ: “আকাইদ তত্ত্ববিদগণ বলেন, “তিনি তোমাদের সাথে রয়েছেন” এখানে সাথে থাকাটা ইলম, হিফাযত ও তত্ত্বাবধান দ্বারা। তিনি নির্দিষ্টভাবে সবার সাথে নন। কেননা এ ব্যাপারে ইজমা বা ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি স্থান, দিক ও ক্ষেত্র হিসেবে আমাদের সাথে নন।”
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র “আর রহমান” শরীফ উনার ২৭ নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে-
وَيَـبْـقٰى وَجْهُ رَبِّكَ
এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার وَجْهُ শব্দের অর্থ হচ্ছে চেহারা বা মুখম-ল। কিন্তু আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনার কোন মুফাসসিরীনে কিরাম এই অর্থে নেন নাই। আল্লামা আবুল ফযল শিহাবুদ্দীন সাইয়্যিদ মাহমুদ আলূসী বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ “তাফসীরে রুহুল মায়ানী”-এর ১৪/১০৮ পৃষ্ঠায় লিখেন-
وَيَـبْـقٰى وَجْهُ رَبِّكَ) اَىْ ذَاتُهٗ عَزَّ وَجَلَّ وَالْـمُرَادُ هُوَ سُبْحَانَهٗ وَتَـعَالٰى فَالْاِضَافَةُ بَـيَانِيَةٌ وَحَقِيْـقَةُ الْوَجْهِ فِى الشَّاهِدِ الْجَارِحَةِ وَاِسْتِعْمَالِهٖ فِى الذَّاتِ مَـجَازٌ
অর্থ: এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার সঠিক অর্থ হলো, “শুধুমাত্র আপনার রব উনার “জাত” অবশিষ্ট থাকবে। এযাফতটি এযাফতে বয়ানিয়াহ। আর "وَجْهٌ" শব্দের প্রকৃত অর্থ হচ্ছে অঙ্গ-প্রতঙ্গ, কিন্তু এখানে ব্যাখ্যা অর্থে অর্থাৎ “জাত” অর্থে ব্যবহৃত হবে।”
আল্লামা ইবনুল হুমাম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিখ্যাত ও মশহুর কিতাব “আল মুসাইয়ারাহ”এর ৩৩-৩৫ পৃষ্ঠায় লিখেন-
وَعَلٰى نَحْوٍ مَاذَكَرْنَا كُلُّ مَاوَرَدَ مِـمَّا ظَاهِرُهُ الْجِسْمِيَةُ كَالْاُصْبُعِ وَالْقَدَمِ وَالْيَدِ فَاِنَّ الْيَدَ وَكَذَا الْاُصْبُعَ وَغَيْـرَهٗ صِفَةٌ لَّهٗ تَـعَالٰى لَاسَمِعَنِى الْجَارِحَةُ بَلْ عَلٰى وَجْهٍ يَلِيْقُ بِهٖ وَهُوَ سُبْحَانَهٗ اَعْلمُ بِهٖ
অর্থ: “বর্ণিত উছূল মুতাবিক পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার যেসব শব্দের জাহিরী বা প্রকৃত অর্থের দ্বারা মহান আল্লাহ পাক উনার দেহ থাকা বুঝায় যেমন- (اُصْبُعٌ) অঙ্গুলী, (قَدَمٌ) পা, (يَدٌ) হাত এগুলোকে মহান আল্লাহ পাক উনার ছিফত বা গুণ অর্থে ব্যবহার করতে হবে। অর্থাৎ এরূপ অর্থ গ্রহণ করতে হবে, যা মহান আল্লাহ পাক উনার মর্যাদার উপযুক্ত। আর তা মহান আল্লাহ পাক তিনিই ভাল জানেন। উক্ত শব্দগুলো দ্বারা কখনোই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অর্থ নেয়া যাবে না।”
প্রমাণিত হলো যে, যে সকল পবিত্র আয়াত শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা মহান আল্লাহ পাক উনার দেহ আকার-আকৃতি, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ইত্যাদি রয়েছে বলে বুঝা যায় এবং মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য স্থান, কাল ও দিক সাব্যস্ত হয় সে সকল পবিত্র আয়াত শরীফ বা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের প্রকৃত অর্থ কস্মিনকালেও গ্রহণযোগ্য নয় বরং এ ধরণের পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের এরূপ তা’বীল বা ব্যাখ্যা করা অপরিহার্য যেরূপ তা’বীল বা ব্যাখ্যা মহান আল্লাহ পাক উনার শানে প্রযোজ্য ও ছহীহ আকীদা সম্মত।
সুতরাং আলোচ্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে কুদরতী আরশ মুবারক উনার মাঝে মহান আল্লাহ পাক উনার বসা সাধারণ কোন বসা নয়। এর তাবীলী অর্থ গ্রহণ করতে হবে। তাবীলের সুযোগ থাকার পরও যারা এটা গায়ের জোরে অস্বীকার করবে তারা নেহায়েত অজ্ঞ।
উপরোল্লিখিত পবিত্র হাদীছ শরীফ সম্পর্কে সর্বজন স্বীকৃত হাফিজুল হাদীছ হযরত ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন-
وَقَالَ لَيْثٌ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ مُجَاهِدٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فِيْ قَـوْلِهٖ تَـعَالٰى مقَامًا مَّحْمُوْدًا يُجْلِسُهٗ مَعَهٗ عَلٰى عَرْشِهٖ ثُمَّ أَسْنَدَهٗ وَقَالَ الْأَوَّلُ أَوْلٰى عَلٰى أَنَّ الثَّانِيَ لَيْسَ بِمَدْفُـوْعٍ لَا مِنْ جِهَةِ النَّـقْلِ وَلَا مِنْ جِهَةِ النَّظْرِ وَقَالَ اِبْنُ عَطِيَّةَ هُوَ كَذٰلِكَ إِذَا حُمِلَ عَلَى مَا يَلِيْقُ بِهٖ وَبَالَغَ الْوَاحِدِيُّ فِيْ رَدِّ هٰذَا الْقَوْلِ وَأَمَّا النَّـقَّاشُ فَـنَـقَلَ عَنْ أَبِيْ دَاوٗدَ صَاحِبِ السُّنَنِ أَنَّهٗ قَالَ مَنْ أَنْكَرَ هٰذَا فَـهُوَ مُتَّـهَمٌ وَقَدْ جَاءَ عَنْ اِبْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ عِنْدَ الثَّـعْلَبِيِّ وَعَنْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ عِنْدَ أَبِي الشَّيْخِ وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ سَلَامٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ إِنَّ مُحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَـوْمَ الْقِيَامَةِ عَلٰى كُرْسِيِّ الرَّبِّ بَيْنَ يَدَي
হযরত ইমাম লাইছ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে মাকামে মাহমূদ উনার ব্যাখ্যায় বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উনার কুদরতী আরশ মুবারক উনার মাঝে উনার পাশে বসাবেন। আমি বলি (ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি) মাকামে মাহমূদ উনার মধ্যে বর্ণিত প্রথম মত (যা দ্বারা শাফায়াত উদ্দেশ্য) এটাই আমার মতে সর্বোত্তম।
কিন্তু মাকামে মাহমুদ উনার মধ্যে দ্বিতীয় অর্থ (যেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আরশে বসানোর কথা বলা হয়েছে) যা কোন নকলী দলীল দিয়ে ও চিন্তাভাবনা বিশ্লেষণ দ্বারা খন্ডন করা সম্ভব না।
-খাজা মুহম্মদ আবু সালাহুদ্দীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন,খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (২১)
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (২৭)
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (১০)
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ইসমে যাত বা নাম মুবারক বারবার বলা ও লেখা সম্পূর্ণ আদবের খিলাফ (৩য় পর্ব)
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (২০)
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (২৬)
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র নাম মুবারক আযানে শুনে অঙ্গুলি চুম্বন করা ও চোখে বুছা দেয়ার সীমাহীন ফযীলত
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (২৫)
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (৯)
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (২৪)
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












