ঘটনা থেকে শিক্ষা
পবিত্র সূরা আল বুরুজ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে, এক বুদ্ধিমান বালকের বিস্ময়কর ঘটনা
, ১৪ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৫ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ২০ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
ঘটনার স্থান:
প্রাচীনকালে জাজিরাতুল আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ইয়ামেন রাজ্যের সীমান্তবর্তী নাজরান প্রদেশে ’যু-নাওয়াস’ নামের খ্রিস্টান বিদ্বেষী এক ইহুদী শাসক ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটিয়েছিলো। যে ঘটনা পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ’সূরাতুল আল বুরুজ শরীফ’ উনার মধ্যে এসেছে। সেই সময় অঞ্চলটি ইয়ামেনের হিমিয়ার রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিলো। পরবর্তীতে ওই খ্রিস্টান বিদ্বেষী ইহুদী শাসকের স্মরণে অভিশপ্ত ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবের প্রধান সড়কের নামকরণ করা হয় ’যু-নাওয়াস’ সড়ক!
আসহাবুল উখদুদ:
সূরাতুল আল বুরুজ শরীফ’ উনার মধ্যে বর্ণিত ’আসহাবুল উখদুদ’- শব্দের অর্থ হলো ’গর্তের সাথীরা’। যারা তৎকালীন ইহুদী শাসক যু-নাওয়াসের নির্দেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অসংখ্য ঈমানদার নর-নারীকে আগুনের গর্তে ফেলে দিয়ে নির্মমভাবে শহীদ করেছিলো। এটি ইয়ামেনের নাজরান শহরে ঘটেছিলো; যেখানে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা তাদের ধর্ম বিশ্বাসের জন্য এই শাস্তির শিকার হয়েছিলো।
ছহীহ মুসলিম শরীফসহ বিভিন্ন হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে, বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত সুহাইব রুমি রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার সূরাতুল আল বুরুজ শরীফ-এর ৪ থেকে ১০ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ উনার শানে নুযুলে ইরশাদ মুবারক করেন, “(প্রাচীনকালে) এক বাদশাহর দরবারে এক যাদুকর ছিলো। সময়ের পরিক্রমায় এক সময় সে বৃদ্ধ হয়ে গেলো। তখন বাদশাহকে গিয়ে বললো: ’আপনি আমাকে একজন বুদ্ধিমান বালক এনে দিন। আমি তাকে এই যাদুকরী বিদ্যাটি শিখিয়ে দেবো।’
বাদশাহ একজন বুদ্ধিমান বালককে যাদুকরের কাছে তুলে দিলো। বালকটি যে পথে যাদুকরের কাছে যেতেন, সে পথে একজন খ্রিস্টান পাদ্রীর বাড়ি ছিলো। আসা-যাওয়ার পথে বালকটি পাদ্রীর কাছে গিয়ে বসতেন। তার কথা মনোযোগ সহকারে শুনতেন। পাদ্রীর প্রতি ধীরে ধীরে বালকটির মুগ্ধতা তৈরি হলো।
একদিন বালকটির যাওয়ার পথে একটি বড় জন্তু’ বসে ছিলো। ফলে মানুষের চলার পথ বন্ধ হয়ে যায়। বালকটি ভাবলেন: যাদুকর সত্য, না পাদ্রী সত্য- তা পরীক্ষা করে দেখার এটিই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। তাই তিনি একটি পাথরের টুকরা কুড়িয়ে নিয়ে বললেন: ’আয় আল্লাহ পাক! যদি পাদ্রীর আমল আপনার নিকট যাদুকরের আমলের চেয়ে ভালো এবং পছন্দের বলে মনে হয়- তাহলে এই জন্তুকে মেরে ফেলুন; যাতে মানুষের যাতায়াতের পথটি খুলে যায়।’ এই বলে বালকটি পাথরের টুকরাটি ছুড়ে মারলে সঙ্গে সঙ্গে জন্তুটি মারা গেলো।
বালক এবার পাদ্রীর কাছে এসে সব খুলে বললেন। পাদ্রী বললেন: ’বাবা! এবার তুমি জ্ঞানের পূর্ণতায় পৌঁছে গেছো। তোমার পরীক্ষা শুরু হতে চলেছে। কিন্তু এই পরীক্ষায় কোনোভাবেই আমার নাম প্রকাশ করবে না।’
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সেই বালকটিকে অলৌকিক ক্ষমতা দিলেন। তিনি অন্ধ ও কুষ্ঠরোগে আক্রান্তসহ বহু রোগীর জন্য দোয়া করতে লাগলেন। তারাও সুস্থ হয়ে উঠতে লাগলো। তবে কেবল যারা খ্রিস্টধর্মে ঈমান আনতো, তারাই কেবল তার দোয়ায় উপকার পেতো। একদিন বাদশাহর এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির চোখের অন্ধত্বও তার দোয়ায় সেরে গেলো। তার অলৌকিক ক্ষমতার খবর ইহুদী শাসকের কানে গেলে সে বিচলিত হয়ে পড়লো। বালকটির ধর্মে ঈমান আনা কিছু লোককে বাদশাহর আদেশে শহীদ করা হলো। বালকটিকেও শহীদ করার উদ্দেশ্যে কয়েকজন লোককে ডেকে সে বললো: ’ওকে অনেক উঁচু পাহাড়ের উপর নিয়ে গিয়ে নিচে ফেলে দাও।’
বালকটি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট দোয়া করলে পাহাড় কাঁপতে লাগলো। ফলে তিনি ছাড়া সবাই পাহাড় থেকে পড়ে মারা গেলো। এবার বাদশাহ তাকে অন্য একদল লোকের হাতে তুলে দিয়ে বললো: ’একে একটি নৌকায় চড়িয়ে সমুদ্রে নিয়ে ডুবিয়ে দাও।’ সেখানেও বালকের দোয়ায় নৌকাটি উল্টে গেলো। ফলে সবাই পানিতে ডুবে মারা গেলো। কিন্তু বালকটি বেঁচে গেলেন।
এবার সেই বালকটি বাদশাহকে বললেন: আপনি যদি আমাকে শহীদ করতেই চান, তাহলে এর সঠিক পদ্ধতি হলো- একটি খোলা ময়দানে মানুষ জমায়েত করুন। এরপর ’বিসমিল্লাহি রব্বিল গোলাম তথা বালকের প্রভুর নামে শুরু করছি’- বলে আমার গায়ে তীর নিক্ষেপ করুন। তাহলেই আমি শহীদ হয়ে যাবো। বাদশাহ তাই করলো। এতে বালকটি শহীদ হয়ে গেলেন। কিন্তু সেখানে উপস্থিত লোকজন সমবেত কণ্ঠে বলে উঠলেন: ‘আমরা এই বালকের রব তায়ালা উনার প্রতি ঈমান আনলাম।’
বাদশাহ এবার আরো বেশি বিচলিত হয়ে পড়লো। সে তাদের জন্য গর্ত খুঁড়ে তাতে আগুন জ্বালানোর আদেশ দিলো। এরপর বললো: ‘যারা যারা এই বালকের ধর্ম থেকে ফিরে না আসবে, তাদেরকে এই গর্তে ফেলে দাও।’
একে একে সব ঈমানদারই এগিয়ে এলেন এবং আগুনের শাস্তি বরণ করে নিলেন। সব শেষে এলো একটি নারীর পালা। তার কোলে একটি শিশু সন্তান ছিলো। নারীটি আগুনের প্রকা- লেলিহান শিখা দেখে ভয়ে একটু পিছনে সরে আসলে মহান আল্লাহ পাক উনার অসীম কুদরতে শিশুটির জবান খুলে গেলো এবং বলে উঠলো: ’মা! ধৈর্যধারণ ধরুন। আপনি তো হক্বের উপর আছেন।’ দুগ্ধজাত শিশুর মুখ থেকে আকস্মিক এরূপ কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে ওই নারীটিও কোলের শিশুকে নিয়ে সেই আগুনের গর্তে লাফ দিলেন।” (ছহীহ মুসলিম শরীফ; হাদীছ শরীফ নং ৩০০৫)
-মুহম্মদ সাইফুল হাবীব।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (১০)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাফরমানীমূলক কাজ
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
কারবালার ঘটনার জন্য মালউন ইয়াযিদ লানতুল্লাহি আলাইহি দায়ী এবং সে কাফির (২)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
হযরত মাওলানা শাহ ছুফী আবুল খায়ের মুহম্মদ ওয়াজীহুল্লাহ নানুপূরী যাত্রাবাড়ীর হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৭ম পর্ব)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৫)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পর্দা পালন করা নারী-পুরুষ সকলের জন্যই শান্তি ও পবিত্রতা হাছিলের কারণ
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিনটি আক্বীদাহ বিশুদ্ধ করা আবশ্যক
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












