পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
, ২৬ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১১ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১০ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
পবিত্র নামায পড়ার তরতীব বা ধারাবাহিক বর্ণনা
পবিত্র নামায আদায় করার ইচ্ছা করলে, প্রথম পবিত্র নামাযের জন্য সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। দাঁড়ানোর সময় পাদ্বয়ের মাঝখানে চার আঙ্গুল হতে এক বিঘত পরিমাণ ফাঁক রেখে দাঁড়াতে হবে। স্বাস্থ্যের কারণে এক বিঘত ব্যবধানের মধ্যে দাঁড়ানো সম্ভব না হলে যেভাবে দাঁড়ালে আসান বা সহজ হয় সেভাবে দাঁড়াবে।
পবিত্র নামাযের নিয়ত করে দু’হাত উঠিয়ে দু’টি বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা দু’কানের লতি স্পর্শ করবে, মাথা সোজা রাখবে। স্ত্রীলোক হলে তার অঙ্গুলিগুলোর অগ্রভাগকে দু’কাঁধের বরাবর উঠাবে। দু’হাত উঠাবার সময় অঙ্গুলিগুলোকে মিলিয়ে কিংবা ফাঁক ফাঁক করে রাখবে না, বরং স্ব স্ব অবস্থায় রাখবে এবং দু’হাতের তালুকে ক্বিবলামুখী করে রাখবে।
আল্লাহু (اَللهُ) শব্দ মুবারক উনার ‘আলিফ’ (ا) উনাকে ও আকবার (اَكْبَرُ) শব্দ মুবারক উনার ‘আলিফ’ (ا) উনাকে কিংবা আকবার শব্দ মুবারক উনার ‘বা’ (ب) অক্ষর উনাকে টেনে পড়া যাবে না, পড়লে নামায (সূচনাতেই) নষ্ট হবে।
তাকবীর শেষ করে পুরুষলোক নাভীর নিচে ডান হাতের তালুকে বাম হাতের পিঠের উপর রাখবে এবং বৃদ্ধা ও কনিষ্ঠা অঙ্গুলি দ্বারা বাম হাতের কব্জিকে ধরবে আর অবশিষ্ট তিন অঙ্গুলিকে বাম হাতের উপর বিছিয়ে রাখবে। স্ত্রীলোক বুকের উপর ডান হাতের তালুকে বাম হাতের উপর রাখবে।
মনে মনে ছানা, তা‘আওউয তারপর তাসমিয়াহ পাঠ করবে। অতঃপর পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পড়বে (র্সেরি নামায হলে চুপে চুপে আর যেহরী নামায হলে আওয়াজ করে পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ এবং অন্য পবিত্র সূরা শরীফ পাঠ করবে)।
প্রত্যেক রাকায়াতে পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফের পূর্বে বিসমিল্লাহ শরীফ পাঠ করবে, কিন্তু আঊযুবিল্লাহ শরীফ কেবল প্রথম রাকায়াতে পাঠ করতে হয়, তা যে কোনো নামাযই হোক না কেন, পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ শেষ হলে, ইমাম ও একা নামাযী এবং ক্বিরাআত শুনতে পায় এমন মুক্তাদী চুপে চুপে আমীন (কবুল করুন) বলবে। কারণ (আমীন পবিত্র কুরআন শরীফের মধ্যের কোনো শব্দ নয় উপরন্তু এটা একটা দু‘আ সূচক শব্দ। আর কোনো দু‘আ নামাযের মধ্যে উচ্চস্বরে বলার বিধান নেই।)
পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ শেষে অন্য পবিত্র সূরা শরীফ মিলানোর পূর্বে “বিসমিল্লাহ শরীফ” পাঠ করার ছূরত বা অবস্থা নিম্নরূপ- নামায যদি যেহরী বা সশব্দের হয়, তখন যে পবিত্র সূরা শরীফ পাঠ করা হবে, তা প্রথম থেকে পাঠ করা হোক বা মাঝখান থেকেই পাঠ করা হোক ‘বিসমিল্লাহ শরীফ’ বলতে হবে না। আর যদি নামায র্সেরী’ বা চুপে চুপে হয়, তখন পবিত্র সূরা প্রথম থেকে পাঠ করলে ‘বিসমিল্লাহ শরীফ’ বলতে হবে, কিন্তু পবিত্র সূরা শরীফ মধ্য থেকে পাঠ করলে ‘বিসমিল্লাহ শরীফ’ বলতে হবে না।
পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ শেষ করে অন্য একটি (১৮ অক্ষর বিশিষ্ট) পবিত্র সূরা শরীফ বা আয়াত শরীফ কিংবা কমপক্ষে (৬ অক্ষর বিশিষ্ট) তিন আয়াত শরীফ পড়বে।
তারপর আল্লাহু আকবার বলে রুকূতে যাবে। রুকূ উনার আরম্ভেই তাকবীর বলা শুরু করে পূর্ণ রুকূতে গিয়ে শেষ করবে এবং দু’হাতের তালু দ্বারা হাঁটুদ্বয়ে ধরে ভর দিয়ে থাকবে। উভয় হাতের অঙ্গুলিগুলো ফাঁক ফাঁক করে রাখবে, দু’পায়ের নলাকে সোজাভাবে রাখবে, পৃষ্ঠকে এরূপ সমানভাবে রাখবে যে, যদি তার উপর কোনো পানির পেয়ালা রাখা হয়, তবে যেনো তা ঠিক থাকে, মস্তক নিচু কিংবা উঁচু নয় বরং নিতম্বের বরাবর রাখবে, দু’বাজুকে ফাঁক করে রাখবে। দু’হাঁটুকে ধনুকের ন্যায় বাঁকা করবেনা। স্ত্রীলোক রুকূতে অল্প ঝুঁকবে, অঙ্গুলিসমূহ ও হাতদ্বয় মিলিয়ে দু’হাঁটুর উপর ভর না দিয়ে রাখবে। দু’হাঁটুকে বাঁকাবে।
পায়ের গোড়ালীদ্বয় মিলিয়ে রাখবে এবং বাজুদ্বয়কে ফাঁক করবে না। হিজড়ারা স্ত্রীলোকের ন্যায় করবে।
রুকূতে মনে মনে কমপক্ষে তিন তাসবীহ, ইমাম পাঁচ তাসবীহ অর্থাৎ ‘সুবহানা রব্বিইয়াল আযীম’ পড়বে।
কেউ যদি ظ (যোয়া) বর্ণের স্থলে ز (যা) পড়ে, তার নামায বাতিল হয়ে যাবে। কাজেই যে ব্যক্তি যোয়া পড়তে না পারে, সে ‘সুবহানা রব্বিইয়াল কারীম’ খেয়াল রাখবে। অতঃপর ‘সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলতে বলতে দু’হাত ঝুলিয়ে দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ‘রব্বানা লাকাল হামদ’ বলবে। এটা একা নামাযীর মাসয়ালা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
যেখানে প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য সমস্ত প্রকার অশ্লীলতাই হারাম
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (১৫তম পর্ব)
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মুহব্বত ঈমান, আর উনাদের সমালোচনা করা লা’নতগ্রস্ত হওয়ার কারণ
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দায়িমীভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র “মাক্বামে মাহমূদ” উনার বেমেছাল তাফসীর বিষয়ে খারেজী জাহমিয়া ফিরকার মুখোশ উম্মোচন (৭)
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












