পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
, ২৩ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১২ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১২ মে, ২০২৬ খ্রি:, ৩০ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
পবিত্র নামাযের আরকান সম্পর্কিত মাসয়ালা :
১) তাকবীরে তাহরীমা: ‘আল্লাহু আকবার’ এই কালাম দ্বারা নামায আরম্ভ করা হয়, এই প্রথম কালামই তাকবীরে তাহরীমা। এ তাকবীর বলার সাথে সাথে নামাযীর জন্য যাবতীয় পার্থিব কাজ যথা-পানাহার, কথা বলা ইত্যাদি হারাম হয়ে যায়। সেজন্যই উক্ত তাকবীরকে ‘তাকবীরে তাহরীমা’ বলা হয়।
যদি কেউ ‘আল্লাহু’ শব্দের-আ-অক্ষরটিকে টেনে উচ্চারণ করে তাকবীরে তাহরীমা বেঁধে নামায আরম্ভ করে, তার নামায শুদ্ধ হবে না। ইমামের তাকবীরে তাহরীমার পরপরই মুক্তাদীর তাকবীরে তাহরীমা বলতে হবে। ইমামের পূর্বে মুক্তাদী তাকবীর বললে, মুক্তাদীর নামায শুদ্ধ হবে না।
২) ক্বিয়াম: দাঁড়িয়ে নামায পড়া যেরূপ ফরয, দাঁড়িয়ে তাকবীরে তাহরীমা বাঁধাও তদ্রুপ ফরয। তাই কোনো ব্যক্তি যদি ইমামকে রুকূ’ অবস্থায় পেয়ে নামাযের মধ্যে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ‘আল্লাহু’ শব্দ উচ্চারণ করতঃ রুকূ উনার মধ্যে ‘বার’ শব্দ বলা শেষ করে নামাযের মধ্যে দাখিল হয়, তার নামায শুদ্ধ হবে না। এক্ষেত্রে কমপক্ষে এক তাসবীহ পরিমাণ সোজা দাঁড়িয়ে থেকে রুকূতে যেতে হবে।
৩) ক্বিরাআত: নামাযের মধ্যে ক্বিরাআত পড়ার কয়েকটি ছূরত রয়েছে-
ক) মতলক্ব বা সাধারণভাবে ক্বিরাআত পাঠ করা ফরয। তা সূরা ফাতিহা শরীফ কিংবা অন্য কোনো সূরা শরীফ অথবা আয়াত শরীফ, যা কমপক্ষে ছোট তিন আয়াত শরীফ অথবা বড় এক আয়াত শরীফ পাঠ করলেই ফরয আদায় হবে।
খ) পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ এবং পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফের সাথে অন্য একটি পবিত্র সূরা শরীফ পড়া ওয়াজিব।
গ) ক্বিরাআত পাঠের সুন্নত তরীক্বা হচ্ছে-
* ফজর ও যোহর নামাযে তিওয়ালে মুফাছ্ছল অর্থাৎ সূরা হুজুরাত শরীফ হতে সূরা বুরূজ শরীফ পর্যন্ত যে কোন একটি সূরা এক রাকায়াতে পাঠ করা।
* আছর ও ইশা’র নামাযে আওছাতে মুফাছ্ছল অর্থাৎ সূরা বুরূজ শরীফ হতে সূরা বাইয়্যিনাহ্ শরীফ (লামইয়া কুনিল্লাযীনা) পর্যন্ত যে কোন একটি সূরা এক রাকায়াতে পাঠ করা।
* মাগরিবে ক্বিছারে মুফাছ্ছল অর্থাৎ সূরা যিলযাল শরীফ (ইযা যুলযিলাত) হতে সূরা নাস শরীফ পর্যন্ত যে কোন একটি সূরা এক রাকায়াতে পাঠ করা।
উল্লেখ্য যে, উপরোক্ত সূরাসমূহ যদি উল্লেখিত নামাযে পাঠ না করে তার সমপরিমাণ যে কোন সূরা বা আয়াত শরীফ পাঠ করে, তাতেও সুন্নত আদায় হবে। (জাওহারাতুন নাইয়্যারাহ্ ও ইত্যাদি ফিক্বাহ্র কিতাবসমূহ)
তবে ক্ষেত্রবিশেষে ব্যতিক্রম পাঠ করাও সুন্নত।
ঘ) মুস্তাহাব ক্বিরাআত- ফজর ওয়াক্তে মুসাফির না হলে প্রথম রাকায়াতে ৩০/৪০ আয়াত শরীফ পর্যন্ত ও দ্বিতীয় রাকায়াতে ২০/৩০ আয়াত শরীফ পাঠ করা।
দুই, তিন ও চার রাকায়াত ফরয নামাযের মধ্যে দুই রাকায়াতে ক্বিরাআত পাঠ করা ফরয।
শুধু এক রাকায়াতে ক্বিরা‘আত পাঠ করলে নামায হবে না, তিন বা চার রাকায়াত নামাযের মধ্যে যে কোনো দুই রাকায়াতে ক্বিরাআত পাঠ করলে ফরয আদায় হয়ে যাবে, কিন্তু প্রথম দুই রাকায়াতে ক্বিরাআত পাঠ করা ওয়াজিব।
আর বিতির, সুন্নত ও নফল নামাযের প্রত্যেক রাকা‘আতেই ক্বিরাআত পাঠ করা ফরয।
৪) রুকূ: মাথা ও পিঠ সম্মুখ দিকে অবনত করে উভয় হাত দ্বারা হাঁটুদ্বয় শক্তভাবে ধরে এমনভাবে রুকূ’ করতে হবে যেন কোমর ও মাথা বরাবর হয়।
কেউ যদি ইমামকে রুকুতে দেখে নিয়ত করতঃ তাকবীরে তাহরীমা বেঁধে দেখতে পায় যে, ইমাম রুকূ’ হতে উঠেছে, তাহলে মুক্তাদী বাকী সিজদা ইত্যাদি ইমামের সাথে আদায় করতে হবে। এমতাবস্থায় নামাযের মধ্যে দাখিল হলেও নামায শুদ্ধ হবে কিন্তু উক্ত রাকায়াত পাওয়া হবে না। উক্ত রাকায়াত ইমামের সালাম ফিরানোর পর দাঁড়িয়ে একা আদায় করতে হবে।
মুক্তাদী যদি ইমামের মাথা উঠানোর পূর্বে মাথা উঠিয়ে থাকে, তবে তৎক্ষণাৎ ইমামের সঙ্গে রুকূ’তে যাবে।
৫) সিজদা: প্রত্যেক রাকায়াতে দু’সিজদা করা ফরয। কপাল, নাসিকা, দু’পা, দু’হাত দু’হাঁটু মাটিতে রেখে সিজদা করবে। কপাল ও নাসিকা দ্বারা সিজদা করতে হবে। বিনা ওজরে শুধু নাসিকা দ্বারা সিজদা করলে সিজদা শুদ্ধ হবে না। শুধু কপাল দ্বারা সিজদা করলেও সিজদা মাকরূহ হবে। ঘাস, তুলা, শুষ্ক খড়, নরম বিছানা ইত্যাদির উপর সিজদা করলে যদি নাসিকা ও কপাল শক্ত কিছুর মধ্যে ঠেকে যায় অথবা ঠেকেছে বলে অনুভব হয়, তবে সিজদা শুদ্ধ হবে। যদি শক্ত কিছুর মধ্যে না ঠেকে বরং ক্রমে দাবতে থাকে, তবে সিজদা শুদ্ধ হবে না। পাগড়ির প্যাঁচের উপর সিজদা করলে নামায মাকরূহের সাথে আদায় হবে।
যদি কেউ সিজদা উনার সময় উভয় পা তিন তাসবীহ পরিমাণ যমীন হতে উঠিয়ে রাখে তাহলে সিজদা শুদ্ধ হবে না।
৬) আখিরী বৈঠক: আখিরী বা শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়া পরিমাণ সময় বসা ফরয। পুরুষ বসার সময় বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসবে, আর ডান পায়ের অঙ্গুলিগুলি ক্বিবলামুখী করে পাটি দাঁড় করিয়ে রাখবে। আর মেয়ে লোকেরা নিতম্ব (চতর)-এর উপর বসবে। অর্থাৎ পুরুষের মতো পায়ের উপর না বসে সরাসরি যমীনের উপর বসবে এবং পদদ্বয় ডান দিকে বের করে দিবে। পুরুষের মতো দাঁড় করতে হবে না। (গায়াতুল আওতার, মারাকিউল ফালাহ)
ইমাম যদি মুক্তাদীর তিন তাসবীহ বলার পূর্বে মাথা উঠায়, তবে এমতাবস্থায় মুক্তাদীগণ তিন তাসবীহ আদায় করার জন্য বিলম্ব না করে ইমামের সাথে সাথে মাথা উঠাতে হবে।
কেউ ইমামকে প্রথম সিজদায় যেতে দেখে, তাড়াতাড়ি নিজে নিজে রুকূ’ করে ইমামের সাথে দু’সিজদা আদায় করলে, তার নিয়ত শুদ্ধ হবে কিন্তু ওই রাকায়াত পাওয়া যাবে না। কেননা রাকায়াত পাওয়ার জন্য ইমামকে রুকূ’তে পাওয়া শর্ত। যদি কেউ ইমামের রুকূ উনার পূর্বে রুকূ’ দিয়ে উঠে, তার নামায শুদ্ধ হবে না।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পর্দা পালন করা নারী-পুরুষ সকলের জন্যই শান্তি ও পবিত্রতা হাছিলের কারণ
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার উপদেশ মুবারক
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
তিতির পাখির উপদেশ: একটি শিক্ষণীয় ঘটনা
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আক্বীদা বিশুদ্ধ রাখার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সশব্দে বা জোরে আমীন না বলা
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙ্গুলের ছাপ শরীয়তসম্মত, নিখুঁত, ব্যবহারে সহজ এবং রহমত, বরকত, সাকীনা লাভের কারণ (৮)
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বাবস্থায় যাঁরা দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি দৃঢ়চিত্ত থাকেন উনারাই হক্কানী আলেম
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












