নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুত তাশরীফ মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক পালন করার বিষয়ে বিশিষ্ট মুহাদ্দিছ হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার হাদীছ শরীফ বর্ণনা
, ০৮ই রবিউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০২ খমীছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ৩১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ১৭ আশ্বিন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
পবিত্র ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অস্বীকারকারীরা বলে থাকে হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কি এই অনুষ্ঠান পালন করা বিষয়ে কোনো হাদীছ শরীফ এনেছেন? আর জন্মদিন পালন করা খ্রিস্টানদের কালচার। আপনারা কেন তা পালন করেন? নাউযুবিল্লাহ!
আনন্দের কথা হলো- আমীরুল মু’মিনীন ফিল হাদীছ হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র বিলাদত শরীফ (জন্মদিন) পালন করার পক্ষে উনার কিতাবে দুইটি বাব রচনা করে দুইখানা পবিত্র হাদীছ শরীফ এনেছেন। উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফে স্পষ্টভাবেই আমরা দেখতে পাই- বিলাদত বা জন্মগ্রহণ উপলক্ষে দাওয়াত দেয়া, অনুষ্ঠান করা, খাদ্য খাওয়ানো, দোয়া করা সবই সুন্নত উনার অন্তর্ভুক্ত। হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাবের নাম হচ্ছে “আল-আদাবুল মুফরাদ”।
বিশ্ব বিখ্যাত এই কিতাবের ৬০২নং বাব যার নাম হচ্ছে بَابُ الدَّعْوَةِ فِي الْوِلادَةِ (শিশুর জন্মগ্রহণ উপলক্ষে দাওয়াত) এই অধ্যায়ের অধীনে একটা পবিত্র হাদীছ শরীফ এনেছেন। উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে জানা যায়, একজন বিশিষ্ট ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার রোযা (নফল) ভঙ্গ করে শিশুর জন্মগ্রহণ উপলক্ষে দাওয়াতের খানা খেয়েছেন। এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ بِلَالِ بْنِ كَعْبٍ الْعَكِّيِّ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ زُرْنَا حَضْرَتْ يَـحْيَى بْنَ حَسَّانَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فِـي قَرْيَتِهِ اَنَا وَ حَضْرَتْ اِبْرَاهِيمُ بْنُ اَدْهَمَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَ حَضْرَتْ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ قَرِيرٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَ حَضْرَتْ مُوسَى بْنُ يَسَارٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فَجَاءَنَا بِطَعَامٍ، فَاَمْسَكَ حَضْرَتْ مُوسٰى رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَكَانَ صَائِمًا فَقَالَ حَضْرَتْ يَـحْيَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اَمَّنَا فِـي هٰذَا الْمَسْجِدِ رَجُلٌ مِنْ بَنِي كِنَانَةَ مِنْ اَصْحَابِ النَّبِيّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُكَنَّى حَضْرَتْ اَبَا قِرْصَافَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ اَرْبَعِيْنَ سَنَةً، يَصُوْمُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا، فَوُلِدَ لِاَبِـيْ غُلَامٌ، فَدَعَاهُ فِـي الْيَوْمِ الَّذِيْ يَصُوْمُ فِيْهِ فَاَفْطَرَ، فَقَامَ حَضْرَتْ اِبْرَاهِيمُ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فَكَنَسَهُ بِكِسَائِهِ، وَاَفْطَرَ حَضْرَتْ مُوْسٰى رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ حَضْرَتْ اَبُو عَبْدِ اللهِ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اَبُو قِرْصَافَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ اسْـمُهُ جَنْدَرَةُ بْنُ خَيْشَنَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ
অর্থ: “হযরত বিলাল ইবনে কা’বিল ‘আক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি, হযরত ইবরাহীম ইবনে আদহাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত আব্দুল আযীয ইবনে কুদাইদ রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত মূসা ইবনে ইয়াসার ইয়াহইয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইবনে হাসান বাকরী ফালাসতিনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে উনার গ্রামে গিয়ে সাক্ষাৎ করলেন। হযরত ইবনে হাসান বাকরী ফালাসতিনী রহমতুল্লাহি আলাইহি আমাদের জন্য খাবার আনলেন। হযরত মূসা রহমতুল্লাহি আলাইহি রোযাদার হওয়ায় খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। হযরত ইয়াহইয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কিনানা গোত্রীয় একজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, যাঁর উপনাম হযরত আবূ কিরসাফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যিনি চল্লিশ বছর যাবৎ এই মসজিদে ইমামতি করেন। তিনি এক দিন রোযা রাখেন এবং এক দিন বিরতি দেন। আমার একজন ভাই জন্মগ্রহণ করলে আমার পিতা উনাকে দাওয়াত দেন। সেটি ছিলো উনার রোযা রাখার দিন। তিনি রোযা ভাঙ্গলেন। হযরত ইবরাহীম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উঠে দাঁড়িয়ে উনাকে উনার চাদরখানা হাদিয়া দেন এবং হযরত মূসা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও রোযা ভাঙ্গেন। হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ছাহাবী হযরত আবূ কিরসাফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নাম মুবারক হযরত জানদারা ইবনে খায়শানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। ” (আদাবুল মুফরাদ ৪৬০ পৃষ্ঠা: বাবুদ্ দা’ওয়াতি ফীল বিলাদাত: হাদীছ শরীফ নং ১২৫৩)
এই পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে আমরা দেখতে পেলাম- একজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বিলাদত শরীফ অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছেন এবং নফল রোযা ভঙ্গ করে খাবারও খেয়েছেন। বিরোধিতাকারীরা কি এখন উক্ত হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বিদয়াতী বলবে? নাউযুবিল্লাহ! (ইনশাল্লাহ চলবে)
আল্লামা নূরুদ্দীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার বিশেষ বিশেষ নিসবত মুবারক সম্পর্কে বর্ণনা মুবারক
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম “لِـيَـعْبُدُوْنِ (লিইয়া’বুদূন) থেকে لِـيُصَلُّوْنِ (লিইউছল্লূন) পর্যন্ত ৮টি মাক্বাম মুবারক উনাদের বর্ণনা মুবারক
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অদ্বিতীয় হাক্বীক্বী কায়িম-মাক্বাম হিসেবে, উনার হুবহু নক্বশা মুবারক হিসেবে উনার সমস্ত নিয়ামত মুবারক আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনাকে হাদিয়া মুবারক করা
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের তরফ থেকে বিশেষ দাওয়াত মুবারক এবং খুশি মুবারক প্রকাশ
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক اَحْمَدُ (আহমদ) ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যকার ‘মীম’ হরফ বা অক্ষর মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত শান মুবারক-এ চূ-চেরা, ক্বীলও ক্বাল করার কারণে, হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করার কারণে কাফেরদের বিরুদ্ধে সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট বিচার চাওয়া প্রসঙ্গে
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যস্থতা মুবারক-এ হাক্বীক্বী দীদার মুবারক লাভরে বশিষে র্বণনা মুবারক
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












