নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত; আর উনাকে পাওয়ার কারণে ঈদ বা খুশি প্রকাশ করা মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ মুবারক (২)
, ১৯ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৭ আউওয়াল, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৬ জুন, ২০২৫ খ্রি:, ০২ আষাঢ়, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
উছুলে তাফসীরে তাফসীর করার কয়েকটা প্রকারের কথা উল্লেখ করা আছে।
প্রথমত, আয়াত শরীফ দিয়ে আয়াত শরীফ উনার তাফসীর। দ্বিতীয়ত, হাদীছ শরীফ দ্বারা আয়াত শরীফ উনার তাফসীর। তৃতীয়ত, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ব্যাখ্যা দ্বারা আয়াত শরীফ উনার তাফসীর। চর্তুথত, ইমাম মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের ব্যাখ্যা দ্বারা আয়াত শরীফ উনার তাফসীর।
এবার আমরা পবিত্র সূরা ইউনুস শরীফ উনার ৫৮ নম্বর আয়াত শরীফ উনার তাফসীর এই চার প্রক্রিয়ায় দেখবো।
মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলে দিন, মহান আল্লাহ পাক উনার অনুগ্রহ ও রহমত পাওয়ার কারনে তোমরা খুশি প্রকাশ করো। এই খুশি প্রকাশ করা হচ্ছে সব কিছুর চাইতে উত্তম। (পবিত্র সূরা ইউনুস শরীফ: আয়াত শরীফ ৫৮)
এই আয়াত শরীফে “রহমত” বলতে কি বুঝানো হয়েছে এটা জানতে পারলেই পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের বিষয়টা পানির মত পরিষ্কার হয়ে যাবে। তাফসীরগুলো দেখা যাক-
আয়াত শরীফ দ্বারা আয়াত শরীফ উনার তাফসীর:
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনাকে সমগ্র জগতের জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি। (সূরা আম্বিয়া ১০৭)
এই আয়াত শরীফ দ্বারা মহান আল্লাহ পাক রহমত উনার সংজ্ঞা দিয়ে দিলেন। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত। সূতরাং রহমত মুবারক পাওয়ার কারণে খুশি প্রকাশ করা মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ মুবারক।
হাদীছ শরীফ দ্বারা আয়াত শরীফ উনার তাফসীর:
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى بَعَثَنِي رَحْمَةً لِلْعَالِمِينَ
অর্থ: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে সমগ্র আলমের জন্য রহমত হিসেবে পাঠিয়েছেন। ” (তাবরানী শরীফ, মুসনাদে আহমদ, মিরকাত শরীফ, দালায়েলুন নবুওওয়া লি আবু নুয়াইম ০১)
উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা সূরা ইউনুস উনার ৫৮ নং আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যা পাওয়া গেলো। স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তিনিই হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত। সুতরাং উনাকে পাওয়ার কারণে খুশি প্রকাশ করতে হবে এটা হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যা দ্বারা প্রমাণিত হলো।
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম উনাদের ব্যাখ্যা দ্বারা আয়াত শরীফ উনার তাফসীর:
পবিত্র সূরা ইউনুস শরীফ উনার ৫৮ নং আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে বিখ্যাত ছাহাবী রঈসূল মুফাসসিরীন হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, “এ আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে এখানে মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত দ্বারা বুঝানো হয়েছে- “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” উনাকে। যেমন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমিতো আপনাকে তামাম আলমের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি। ” (দলীল- তাফসীরে দুররে মানছুর ১০ নং সূরা শরীফ ১১ পারা- সূরা ইউনুস ৫৮ আয়াত)
সুতরাং তাফসীরকারকদের মাথার তাজ হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সূরা ইউনুস শরীফ উনার ৫৮ আয়াত শরীফে রহমত দ্বারা “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বুঝানো হয়েছে। আর এ কারণে খুশি প্রকাশ করতে হবে বলেছেন।
ইমাম মুজতাহিদ উনাদের ব্যাখ্যা দ্বারা আয়াত শরীফ উনার তাফসীর:
হযরত জালালুদ্দীন সূয়ুতি রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ফখরুদ্দীন রাজী রহমতুল্লাহি আলাইহি, আল্লামা আলুসী বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা বলেন, তাফসীরে বর্ণিত রহমত মুবারক হচ্ছেন- “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। (দলীল- তাফসীরে দুররে মানছুর ১০নং সূরা শরীফ ১১ পারা- সূরা ইউনুস ৫৮ আয়াত, তাফসীরে রুহুল মা’য়ানী, তাফসীরে কবীর)
উপরোক্ত চার প্রকার তাফসীর থেকে স্পষ্ট প্রমাণ হলো, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলে দিন, মহান আল্লাহ পাক উনার অনুগ্রহ ও রহমত আমাকে পাওয়ার কারণে খুশি প্রকাশ করো। এই খুশি প্রকাশ করা হচ্ছে সব কিছুর চাইতে উত্তম। (সমাপ্ত)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে নিসবত মুবারক স্থাপন করতে পারলে, মূল সব নিয়ামত পরিপূর্ণটা হাছিল সম্ভব। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথেই আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সরাসরি মহাসম্মানিত নিসবত মুবারক
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘এক নাম্বার আক্বীদাহ্ হচ্ছে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সৃষ্টির কারো মতো নন’
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত বুছা মুবারক দেয়া
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে ঊলা বা প্রথমা, কুবরা বা মূল, বড়, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মূল এবং সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনারও মূল
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের দায়েমীভাবে এমন মহাসম্মানিত নিসবত মুবারক রয়েছেন যেখানে সৃষ্টির কারো কোনো স্থান সঙ্কুলান হয় না
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
উম্মু আবীহা, আন নূরুর রবি‘আহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুত তাকরীর মুবারক অর্থাৎ অত্যন্ত খুশি মুবারক প্রকাশ
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৪২)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আর রবি’ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম উনার একখানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ই’জায শরীফ
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারাই বলেছেন উনাদের মহাসম্মানিত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক আলোচনা করার জন্য
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












