ঢাকা থেকে গর্ত খুঁড়লে পৃথিবীর বিপরীত পাশ কোথায় গিয়ে উঠবে?
, ২৮ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২০ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ০৪ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পাঁচ মিশালী
পৃথিবীকে যদি তুলনা দেয়া হয় একটা গোল ফুটবলের সাথে। বলের যে ওপরের পৃষ্ঠ, সেখানেই আমাদের অবস্থান। এখন প্রশ্ন জাগতে পারে, তাহলে পৃথিবীর ওপর থেকে আমরা পড়ে যাই না কেন? সে প্রশ্ন পরে হবে।
যা হোক, আমরা পৃথিবীর ওপরের স্তরে আছি। বোঝার সহজের জন্য যদি ফুটবলের উদাহরণ টানা হয় তাহলে এই ফুটবল কিন্তু কয়েকটা ধাপে তৈরি হয়। ফুটবলের ওপর চামড়া কাটলে দেখা যাবে, তার নিচে আরও একটা পাতলা চামড়া আছে। তার নিচে আছে আরও একটা চামড়া। ফুটবলের দাম অনুসারে এমন অনেকগুলো স্তর থাকে। পৃথিবীরও এমন অনেক স্তর আছে। আজকে সেই স্তরগুলো সম্পর্কেই জানবো।
আসলে পৃথিবীকে সত্যিকার অর্থে বুঝতে হলে ওপরের দিকে নয়, বরং নিচের দিকে তাকাতে হবে। মানে আকাশের দিকে তাকিয়ে পৃথিবীকে সেভাবে বোঝা যাবে না। ঢুকতে হবে মাটি খুঁড়ে নিচে। তাও প্রায় ৬ হাজার ৪০০ কিলোমিটার। কিন্তু সে কাজ মোটেও সহজ নয়। মানুষ এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১২ কিলোমিটার পর্যন্ত ড্রিল করতে পেরেছে। তাতেও সময় লেগেছে ২০ বছর। তাহলে ৬ হাজার কিলোমিটারের বেশি গর্ত করতে হলে কত হাজার বছর লাগবে!
বাস্তবে হয়তো গর্ত করে পৃথিবীর কেন্দ্রে যাওয়া সম্ভব নয়। তবে কল্পনায় যাওয়া যায়। পৃথিবীর মোট চারটি স্তর আছে- ভূত্বক, ম্যান্টল, ভেতরের কেন্দ্র ও বাইরের কেন্দ্র। কল্পনায় আমরা ড্রিল করে সব কটি স্তর ভেদ করে পৌঁছে যাবো পৃথিবীর কেন্দ্রে।
শুরুতেই ভূত্বক। এটা অনেকটা ডিমের খোলসের মতো। ভূত্বক তুলনামূলক হালকা উপাদান যেমন সিলিকা, অ্যালুমিনিয়াম ও অক্সিজেন দিয়ে তৈরি। হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের মতো মহাসাগরের নিচে পৃথিবীর ভূত্বক পাঁচ কিলোমিটারের মতো পুরো হতে পারে। তবে ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩০-৭০ কিলোমিটার পুরো হবে। ভূত্বকের নিচে জিগস পাজলের মতো অনেক বড় বড় টেকটনিক প্লেট আছে। এগুলো ধীরে ধীরে চলে। প্রতিবছর মাত্র ৩-৫ সেন্টিমিটার সরতে পারে টেকটনিক প্লেটগুলো। এই প্লেটের কারণেই ভূমিকম্প বা আগ্নেয়গিরি দেখা দেয়।
এরপরের স্তর ম্যান্টল। এই স্তর প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার পুরো। পৃথিবীর সবচেয়ে পুরু স্তর এটি। ভূপৃষ্ঠের মাত্র ৩০ কিলোমিটার নিচেই শুরু হতে পারে ম্যান্টলের স্তর। বেশির ভাগই লোহা, ম্যাগনেশিয়াম ও সিলিকন দিয়ে তৈরি। এই স্তর ঘন, গরম ও মোটামুটি কঠিন ধরনের, অনেকটা ক্যান্ডির মতো। আরও গভীরে মানে ১০০ থেকে ২০০ কিলোমিটার নিচে ম্যান্টলের তাপমাত্রায় শিলাও গলে যায়। এই স্তরে তৈরি হয় হীরা। বেশির ভাগই ২০০ কিলোমিটারের নিচে গঠিত হয়। কিন্তু বিরল ‘সুপার-ডিপ’ হীরা গঠিত হয় ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৭০০ কিলোমিটার নিচে।
এরপরের স্তর কেন্দ্র। এই কেন্দ্র আবার দুই ভাগে বিভক্ত। ভেতরের কেন্দ্র ও বাইরের কেন্দ্র। বাইরের কেন্দ্র লোহা ও নিকেল দিয়ে তৈরি। এই অংশ থাকে তরল অবস্থায়। ২২০০ থেকে ৩২০০ কিলোমিটার গভীরতায় শুরু হয় এই স্তর। এখানে লোহা ও নিকেল ছাড়াও সামান্য পরিমাণে অক্সিজেন, সালফার ও সিলিকন রয়েছে। তাপমাত্রা থাকে ৪-৬ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস। তরল না হয়ে উপায় আছে!
তবে পৃথিবীর ভেতরের কেন্দ্র থাকে কঠিন অবস্থায়। এই অঞ্চলও মূলত লোহা ও নিকেল দিয়ে গঠিত। এর ব্যাসার্ধ প্রায় ১২২০ কিলোমিটার। চাঁদের ব্যাসার্ধের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ। আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, তার ৬৪০০ থেকে ৫১৮০ কিলোমিটার নিচে রয়েছে এই স্তর। এই ভেতরের স্তর অন্যান্য স্তরের চেয়ে কিছুটা দ্রুত ঘোরে। এখানকার তাপমাত্রা ৫-৭ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস। এখানে আবার প্রশ্নের উদয় হতে পারে, তাপমাত্রা বেশি হওয়া সত্ত্বেও এই অঞ্চল কেন কঠিন। আসলে এই অঞ্চলের চাপ অনেক বেশি। অত্যন্ত বেশি চাপ থাকায় এই অঞ্চল কঠিন অবস্থায় রয়েছে।
এখন কিন্তু কাল্পনিক গর্ত করা থামাতে হবে। কিন্তু আমরা যদি আরও গর্ত করতে চাই, তাহলে আমরা যথাক্রমে বাইরের কেন্দ্র, ম্যান্টল ও ভূত্বক ঘুরে আবার ভূপৃষ্ঠে উঠে আসবো। হয়তো গর্ত করার সময় শুরু করেছিলে বাংলাদেশ থেকে, কিন্তু উঠলে গিয়ে সমুদ্রে। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলির সমুদ্র উপকূল মিশেছে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে। তুমি কতটা সোজাসুজি গর্ত করতে পারো, তার ওপর নির্ভর করে, তুমি কোথায় গিয়ে উঠবে। যদি সোজা গর্ত করো, তবে পেরুর কাছে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠে ভেসে উঠবে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
‘সাদা সোনা’ কি সত্যিই সোনা, এর দাম এত বেশি কেন?
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কডিনি সুস্থ রাখতে করণীয়
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
গৃহসম্পদের উপযোগিতা বৃদ্ধির উপায়
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
ওজন কতটুকু কমানো উচিত
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
জবিতে নাইট্রোজেন সার ব্যবহারে ২২ শতাংশ সাশ্রয়ের সম্ভাবনাময় প্রযুক্তির উদ্ভাবন
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
শুধু বরফই নয়, ঠান্ডায় পানি জমে যেভাবে কাচও হতে পারে
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পাখিরা কি উড়ে আনন্দ পায়-কাকাতুয়াদের নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণা
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
কোন ডিম বেশি পুষ্টিকর, বাদামি নাকি সাদা?
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
একটি ভেড়ার দাম কোটি টাকা!
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পৃথিবীর যে ছয় পবিত্র মসজিদে সবচেয়ে বেশী জনসমাগম হয়
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পাট শিল্পের স্বর্ণযুগ ফেরাতে দুই শিক্ষার্থীর অ্যাপ
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
কোন দেশ থেকে কত রেমিট্যান্স আসে?
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












