জাতিসংঘ ওরফে ইহুদী সংঘের কথিত মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয়: যা প্রকৃতপক্ষে একমাত্র পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানবিরোধী কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও পরিচালনার কেন্দ্র।
, ১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
“মানবাধিকারের ছদ্মাবরণে বিশ্বব্যাপী ইহুদী কর্তৃক পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিরোধী কার্যক্রমের মাধ্যমে মুসলমানদেরকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কুফরীর শৃঙ্খলে বন্দি করার চক্রান্ত:
পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি ইহুদীদের আদি বিদ্বেষ ও শত্রুতার প্রকাশ:
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ সৃষ্টি
পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি ইহুদীদের আদি বিদ্বেষ ও কাট্টা মুনাফিক, নিকৃষ্ট কাফির ইহুদীদের পুরাতন খাছলত মুসলিম শত্রুতার প্রকাশ: প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ (League of Nations) সৃষ্টি।
ইহুদীদের কূটকৌশলে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মুসলমানদেরকে বিশেষ করে তুর্কি উসমানীয় খিলাফতকে (অটোম্যান সালতানাতকে) অক্ষশক্তির বা কেন্দ্রীয় শক্তির পক্ষে জড়ানো হয়। জার্মানির সাথে কেন্দ্রীয় শক্তির পক্ষে ছিলো অষ্ট্রো-হাঙ্গেরী, বুলগেরিয়া এবং অটোম্যান সালতানাত।
জার্মানির নেতৃত্বে অক্ষশক্তি বা কেন্দ্রীয় শক্তির সাথে তথাকথিত মিত্রশক্তির যুদ্ধে উসমানীয় সালতানাত বা অটোম্যান খিলাফতকে এই যুদ্ধ জড়ানোই হয়েছিলো খিলাফত/সালতানাত ধ্বংস করার জন্য, মুসলমানদেরকে বেশী পরিমাণে শহীদ করার জন্য, বিশ্বশক্তি হিসেবে মুসলমানদের উত্থান হতে না দেয়ার জন্য। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ফলে উসমানীয় বা অটোম্যান সালতানাত ভেঙ্গে দেয়া হয় এবং পৃথিবী থেকে খিলাফত বা সালতানাতের বিলুপ্তি ঘটে।
এর প্রেক্ষাপটে ইহুদী-নাছারা-কাফিরদের তথাকথিত মিত্রশক্তি (চরম সাম্রাজ্যবাদী খ্রিস্টান দখলদার ইংল্যান্ড যুক্তরাজ্য (বৃটিশ), চরম সাম্রাজ্যবাদী সন্ত্রাসী ইহুদীবাদী দখলদার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (আমেরিকান), আরেক দখলদার জালিম ফ্রান্স (ফরাসী) এবং চরম আধিপত্যবাদী নাস্তিক রাশিয়া (রাশিয়ান), কাট্টা ক্যাথলিক খ্রিস্টান মুসলমানদের খিলাফত ও সালতানাতের ঘোরতর শত্রু ইটালি, এবং ইসলাম বিদ্বেষী দেশ জাপান, সার্বিয়া, বেলজিয়াম, গ্রিস, রোমানিয়াসহ আরও কিছু দেশ) ইসলাম ও মুসলমানদের চিরশত্রু এই সব ছোট-বড় কাফির জাতি মিলে মুসলমানদের ঐক্য ও শক্তি খর্ব করার জন্য এবং ইসলাম ও মুসলমানদেরকে দমিয়ে রাখার জন্য প্রথম জাতিপুঞ্জ (League of Nations) গঠন করে।
মুসলমানদের মাঝে বিভেদ ও অনৈক্য সৃষ্টি করার জন্য তারা বিভিন্ন আঞ্চলিক জাতীয়তাবাদের এবং মুসলমানদের মধ্যে বিভিন্ন ফিৎনা বা মতবাদের জন্ম দেয় এবং সেগুলো লালন-পালন করে। আর কাফিরেরা মুসলমানদেরকে মিটিয়ে দেয়ার জন্য, মুসলমানদের অস্তিত্ব বিলীন করার জন্য নিজেদের মধ্যে ঐক্য গঠন করে। কাফিরদের এই ঐক্যের প্রস্তাবক ছিলো তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রপতি, চরম জালিম, কাট্টা ইহুদী উড্রো উইলসন, যে কিনা লক্ষ লক্ষ মুসলমান শহীদ করেছিলো এবং মুসলমানদের শক্তি খর্ব করার অপচেষ্টা করেছিলো।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং ইহুদীসংঘ (RvwZmsN-United Nation) এর সৃষ্টি:
মুসলমানদেরকে মিটিয়ে দেয়ার জন্য, মুসলমানদের অস্তিত্ব বিলীন করার জন্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অনেক মুসলিম দেশকে অংশগ্রহণ করতে বাধ্য করা হয়। যেমন: ব্রিটিশ উপনিবেশের অধীনে থাকা ফিলিস্তিন, জর্ডান, ইরাক, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানের লক্ষ লক্ষ মুসলিম সেনাকে যুদ্ধে যেতে বাধ্য করা হয় এবং শহীদ করা হয়। শুধু তাই নয়, ব্রিটিশসহ অন্যান্য কাফির দেশগুলো মুসলিম অঞ্চলগুলো থেকে অর্থ, খাদ্যশস্য লুট করে বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহার করে।
যার ফলে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি হয় এবং লক্ষ লক্ষ মুসলমান শহীদ হয়ে যান। এভাবে মুসলমানদেরকে শহীদ করে মুসলমানদের শক্তি খর্ব করে দেয়া হয়। আবার ফরাসি শাসনের অধীনে থাকা কিছু মুসলিম দেশ, যেমন- সিরিয়া ও লেবাননকে অক্ষ শক্তির পক্ষে যুদ্ধ করতে বাধ্য করা হয়। এই সংঘাতের ফলে মুসলিম বিশ্বকে কূটকৌশলে বিভক্ত করা হয় এবং মুসলমানদের শক্তি খর্ব করা হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কাফিরদের দেশগুলো মুসলমানদের দমিয়ে রাখার জন্য এবং সারা পৃথিবীতে ইহুদীদের নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য সম্মিলিতভাবে ইহুদীসংঘ (জাতিসংঘ) গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। ইহুদীসংঘ গঠনের মূল প্রস্তাবক তৎকালীন বিশ্বসন্ত্রাসী আমেরিকার চরম জালিম রাষ্ট্রপতি কাট্টা ইহুদী রুজভেল্ট। ইহুদীসংঘ (জাতিসংঘ) হলো আমেরিকার আঙ্গিকে বা আদলে (আমেরিকান মডেলে) বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করার নীলনকশা। এই জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘই হলো সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সংযোজিত, সংশোধিত, পরিমার্জিত রূপ।
সন্ত্রাসী ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয় বা অফিসসমূহের পরিচিতি:
* ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার কমিশন ১৯৪৬ সালে গঠিত হয়ে বিশ্বব্যাপী কথিত মানবাধিকার সুরক্ষার নামে বিশ্বব্যাপী পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিদ্বেষী ইহুদীদের প্রকল্প বাস্তবায়নে তাদের গৃহীত প্রথম বৃহৎ আন্তর্জাতিক উদ্যোগ। ২০০৬ সালে আধুনিকায়নের মাধ্যমে এটি কথিত মানবাধিকার কাউন্সিল রূপে পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানদের বিরোধিতায় নতুন রুপে আত্মপ্রকাশ করে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার রক্ষার নামে পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানদের ক্ষতি করতে এবং সারা পৃথিবীতে ইহুদীদের পরোক্ষ শাসন প্রতিষ্ঠায় সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্রমূলক ভূমিকা পালন করছে। মুসলমানদের উচিত- ইহুদী-নাছারা, কাফির-মুশরিকদের ধোঁকা সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং তাদের মিষ্টি মিষ্টি বিভিন্ন চটকদার বক্তব্যের আড়ালে লুকানো সূক্ষ্ম ও স্থুল সব ধরণের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত থেকে সাবধান থাকা। (সংকলিত)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
যে নিজে পর্দা করে না ও অধীনস্থদের পর্দা করায় না সে দাইয়ূছ
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
যে ব্যক্তি ইছলাহ বা সন্তুষ্টি হাছিলের জন্য ধন-দৌলত খরচ করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে তিনটি নিয়ামত দান করবেন-
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ব্যবসা করা হালাল ও সুন্নত আর সুদ হারাম
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৪)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
খলীফাতুল মুসলিমীন, খলীফায়ে ছানী, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সাথে সংশ্লিষ্ট কতিপয় নছীহতমূলক ঘটনা
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বেপর্দা সর্বপ্রকার অনিষ্ট ও ফিতনা-ফাসাদের মূল
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












