জমির খতিয়ান কি? এতে ভুল হলে আইনি প্রতিকার পেতে যা করবেন
, ১০ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০২ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ১৬ পৌষ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পাঁচ মিশালী
জমির খতিয়ানে ভুল পাওয়া আমাদের দেশে অস্বাভাবিক কিছু নয়। অনেক সময় নামের বানানে ভুল, অংশ বা দাগ নম্বরে ভুল, কিংবা জমির রেকর্ড অন্য কেউ নিজের নামে করে নেওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দেয়। এমনকি খতিয়ানের মূল কপি হারিয়ে যাওয়াও নতুন কিছু নয়। এসব সমস্যার আইনি সমাধান থাকলেও, অনেকের কাছে প্রক্রিয়াটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ মনে হয়।
ভূমি মন্ত্রণালয় ২০২১ সালের ২৯ জুলাই প্রকাশিত গেজেট (রেকর্ড সংশোধন পরিপত্র নং ৩৪৩)-এর মাধ্যমে এসব ভুল সংশোধনের সহজ পদ্ধতি নির্ধারণ করেছে। গেজেট অনুযায়ী, নামজারি বা মিউটেশন খতিয়ানে ভুল হলে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে ‘মিস কেস’ দায়ের করে সংশোধনের আবেদন করা যায়।
খতিয়ান কি?
মৌজাভিত্তিক এক বা একাধিক ভূমি মালিকের ভূ-সম্পত্তির বিবরণসহ যে ভূমি রেকর্ড জরিপকালে প্রস্তুত করা হয় তাকে খতিয়ান বলে। এতে ভূমধ্যাধিকারীর নাম ও প্রজার নাম, জমির দাগ নং, পরিমাণ, প্রকৃতি, খাজনার হার ইত্যাদি লিপিবদ্ধ থাকে। আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের খতিয়ানের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তন্মধ্যে সিএস, এসএ এবং আরএস উল্লেখযোগ্য। ভূমি জরিপকালে ভূমি মালিকের মালিকানা নিয়ে যে বিবরণ প্রস্তুত করা হয় তাকে ‘খতিয়ান” বলে। খতিয়ান প্রস্তত করা হয় মৌজা ভিত্তিক।
সিএস খতিয়ান:
১৯১০-২০ সনের মধ্যে সরকারি আমিনগণ প্রতিটি ভূমিখ- পরিমাপ করে উহার আয়তন, অবস্থান ও ব্যবহারের প্রকৃতি নির্দেশক মৌজা নকশা এবং প্রতিটি ভূমিখন্ডের মালিক দখলকারের বিররণ সংবলিত যে খতিয়ান তৈরি করেন সিএস খতিয়ান নামে পরিচিত।
এসএ খতিয়ান:
১৯৫০ সালের জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন পাসের পর সরকার জমিদারি অধিগ্রহণ করেন। তৎপর সরকারি জরিপ কর্মচারীরা সরেজমিনে মাঠে না গিয়ে সিএস খতিয়ান সংশোধন করে যে খতিয়ান প্রস্তুত করেন তা এসএ খতিয়ান নামে পরিচিত। কোনো অঞ্চলে এ খতিয়ান আর এস খতিয়ান নামেও পরিচিত। বাংলা ১৩৬২ সালে এই খতিয়ান প্রস্তুত হয় বলে বেশির ভাগ মানুষের কাছে এসএ খতিয়ান ৬২র খতিয়ান নামেও পরিচিত।
আরএস খতিয়ান:
একবার জরিপ হওয়ার পর তাতে উল্লেখিত ভুল-ত্রুটি সংশোধনের জন্য পরবর্তীতে যে জরিপ করা হয় তা আরএস খতিয়ান নামে পরিচিত। দেখা যায় যে, এসএ জরিপের আলোকে প্রস্তুতকৃত খতিয়ান প্রস্তুতের সময় জরিপ কর্মচারীরা সরেজমিনে তদন্ত করেনি। তাতে অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়ে গেছে। ওই ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করার জন্য সরকার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরেজমিনে ভূমি মাপ-ঝোঁক করে পুনরায় খতিয়ান প্রস্তুত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এই খতিয়ান আরএস খতিয়ান নামে পরিচিত। সারাদেশে এখন পর্যন্ত তা সমাপ্ত না হলেও অনেক জেলাতেই আরএস খতিয়ান চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
সরকারি আমিনরা মাঠে গিয়ে সরেজমিনে জমি মাপামাপি করে এই খতিয়ান প্রস্তুত করেন বলে তাতে ভুল-ত্রুটি কম লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশের অনেক এলাকায় এই খতিয়ান বি এস খতিয়ান নামেও পরিচিত।
বিএস খতিয়ান:
সর্বশেষ এই জরিপ ১৯৯০ সালে পরিচালিত হয়। ঢাকা অঞ্চলে মহানগর জরিপ হিসাবেও পরিচিত।
কিভাবে আবেদন করবেন?
সাধারণ সাদা কাগজে আবেদন লিখে ২০ টাকার কোর্ট ফি সংযুক্ত করতে হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (জাতীয় পরিচয়পত্র, খতিয়ান, জমির কাগজ ইত্যাদি) জমা দিয়ে আবেদন করলে এসিল্যান্ড তা যাচাই করে ব্যবস্থা নেন।
যদি কেউ প্রতারণার মাধ্যমে অন্যের নামে থাকা জমি নিজের নামে নামজারি করে নেয়, তাহলেও এসিল্যান্ডের কাছে “মিস কেস” দাখিল করে বাতিলের আবেদন করা যায়। শুনানি ও প্রমাণ যাচাই শেষে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক থাকলে আগের মালিকের নামে খতিয়ান ফিরিয়ে দেওয়ার আইনগত সুযোগ রয়েছে।
খতিয়ান হারিয়ে গেলে করণীয়:
যদি নামজারি বা খারিজ খতিয়ানের মূল কপি হারিয়ে যায়, তবে প্রথমে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে। জিডির কপি ও ২০ টাকার কোর্ট ফিসহ সাদা কাগজে এসিল্যান্ড বরাবর আবেদন জমা দিতে হয়। যাচাই-বাছাই শেষে এসিল্যান্ড যদি সন্তুষ্ট হন যে খতিয়ানটি সত্যিই হারিয়ে গেছে, তাহলে তিনি নতুন খতিয়ান প্রদানের আদেশ দেন।
আদেশের পর ১০০ টাকা ফি প্রদান করলে নতুন খতিয়ান সংগ্রহ করা যায়। এই ফি প্রদানের বিপরীতে “ডিসিআর” নামে রশিদ দেওয়া হয়।
পুরোনো জরিপের খতিয়ান সংগ্রহ:
নামজারি খতিয়ান ছাড়াও এস.এ., সি.এস., আর.এস., বি.এস. বা অন্যান্য জরিপের খতিয়ান হারিয়ে গেলে, মৌজা নম্বর ও খতিয়ান নম্বর উল্লেখ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেকর্ড রুমে আবেদন করলেই তা সংগ্রহ করা সম্ভব।
সময় ও প্রক্রিয়া:
নামজারি খতিয়ান সংশোধনে সাধারণত ৩০-৪৫ দিন সময় লাগে। আবেদন পাওয়ার পর ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে প্রতিবেদন চাওয়া হয়। প্রতিবেদন এলে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে শুনানিতে ডাকা হয়। কোনো আপত্তি না থাকলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সংশোধিত খতিয়ান অনুমোদন করেন এবং আবেদনকারীকে প্রদান করা হয়।
আইনি ভিত্তি:
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঝঃধঃব অপয়ঁরংরঃরড়হ ধহফ ঞবহধহপু অপঃ, ১৯৫০-এর ১৪৩ ধারা এবং প্রজাস্বত্ব বিধিমালা ১৯৫৫-এর ২৩(৩) ধারা অনুযায়ী করণিক ভুল (যেমন নাম, দাগ, অংশ, বা ম্যাপের অসামঞ্জস্য) সংশোধনের ক্ষমতা রাখেন।
অন্যদিকে, যদি জালিয়াতির মাধ্যমে রেকর্ড পরিবর্তন হয়ে থাকে, তাহলে ২৩(৪) ধারা অনুযায়ী তদন্ত ও শুনানির মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বৃষ্টির সঙ্গে পড়া শিলা খাওয়া কি নিরাপদ?
১৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সূর্যের মতো তারার আচরণই কি পৃথিবীতে জীবন গড়ে ওঠার কারণ?
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সূর্যের আলো থেকে সহজে যেভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবেন
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ঋতু বদলে ঘরে ঘরে সর্দি-কাশি, প্রতিকারে যা করবেন
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
এক বিন্দু স্ফটিক হয়ে বড় আকারে জন্মায় বৃষ্টির শিলা
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
জমির দাগ-খতিয়ান নম্বরসহ মৌলিক বিষয় কিভাবে বুঝবেন?
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
কেবল স্বাদ নয়, মস্তিষ্কের ধার বাড়াতেও কাজ করে
০৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মস্তিষ্ক যেভাবে নিজের সম্পর্কে ধারণা তৈরি করে
০৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বজ্রপাত নিয়ে ১০ অদ্ভুত তথ্য, যা জানা জরুরি (৩)
০৭ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মোগল আমলের সবচেয়ে দামী অ্যাস্ট্রোল্যাব ২.৭৫ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি
০৭ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মোগল আমলের সবচেয়ে দামী অ্যাস্ট্রোল্যাব ২.৭৫ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি
০৭ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিশ্বের সবচেয়ে সরু নদী কতটা চওড়া?
০৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












