পবিত্র ই’জায শরীফ
ছোট পাত্রে অসীম রহমত মুবারকের নিদর্শন
, ২৭ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৯ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ০৩ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক উনার অসংখ্য পবিত্র ই’জায শরীফ রয়েছেন, যা উনার সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক উনার সত্যতা ও মহান আল্লাহ পাক উনার অসীম কুদরত মুবারকের প্রমাণ। এই পবিত্র ই’জায শরীফ গুলো শুধু অতীতের ইতিহাস নয়; বরং আজকের জীবনেও পবিত্র ঈমান উনার শক্তি বৃদ্ধির উৎস। বিশেষ করে পানি সংকটের মধ্যে একটি বিস্ময়কর অলৌকিকতা ঘটেছিলো, যা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের কাছে প্রত্যক্ষ হয়ে আজও আমাদের হৃদয়ে গভীর শিক্ষা প্রদান করে। এই পবিত্র ই’জায শরীফ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রহমত মুবারক এবং মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারকের জীবন্ত প্রমাণ, যা আমাদের বিশ্বাসকে সুদৃঢ় করে এবং ধৈর্য্যের পথ প্রদর্শন করে। তারই মধ্যে একটি পবিত্র ই’জায শরীফ বর্ণনা করা হলো-
বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন- একদিন তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট অবস্থান করছিলেন। চারদিকে ধূসর মরুভূমির বিস্তার, তপ্ত সূর্যের প্রচ- উত্তাপ, দীর্ঘ সফরের ক্লান্তি সব মিলিয়ে দিনটি ছিলো অত্যন্ত কষ্টকর ও পরীক্ষাময়। ঠিক এমনই এক সময়ে আছর নামাযের সময় ঘনিয়ে এলো। কিন্তু নামাযের পূর্বশর্ত-পবিত্রতা অর্জনের জন্য যে পানি প্রয়োজন, তা ছিলো খুবই সামান্য। চারদিকে অনুসন্ধান করেও কোথাও পানি পাওয়া যাচ্ছিলো না। কারো কাছে সামান্য ফোঁটা থাকলেও, তা দিয়ে নিজের তৃষ্ণাই মেটানো দায়। অনেকের চোখে-মুখে তখন উৎকণ্ঠা আর অসহায়তার ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছিলো। এমন সংকটময় মুহূর্তে কারো দৃষ্টি গেলো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে। উনার দৃষ্টি মুবারকেই প্রশান্তি, আর উনার সান্নিধ্যেই সকল দুশ্চিন্তা দূর হয়ে যায়। তখন এক ব্যক্তি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে একটি ছোট পানির পাত্র উপস্থিত করলেন। সেই পাত্রে পানি ছিলো এতই অল্প যে, তা দেখে মনে হচ্ছিলো-একজন মানুষের অযূ করাই সেখানে অসম্ভব। কিন্তু এই সামান্য পানির মধ্যেই লুকিয়ে ছিলো আসমানি রহমত মুবারকের বিস্ময়কর প্রকাশ।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি অত্যন্ত প্রশান্ত দৃষ্টি মুবারকে সেই পাত্রটি গ্রহণ করলেন। অতঃপর স্বীয় পবিত্র নূরুল মাগফিরাহ অর্থাৎ পবিত্র হাত মুবারক সেই পানি পাত্রের মধ্যে প্রবেশ করালেন। উনার পবিত্র নূরুল মাগফিরাহ অর্থাৎ পবিত্র হাত মুবারক ডুবানো মাত্রই এমন এক দৃশ্যের অবতারণা হলো, যা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে কিয়ামত পর্যন্ত।
হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি নিজ চোখে দেখেছি, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নূরুশ শক্ব অর্থাৎ পবিত্র আঙ্গুল মুবারক থেকে ঝরনার মতো পানি প্রবাহিত হতে শুরু করলো। যেন পাহাড়ের বুক চিরে হঠাৎ ফোয়ারা বেরিয়ে এসেছে। সেই পানি ছিলো স্বচ্ছ, নির্মল ও অফুরন্ত। এই অলৌকিক দৃশ্য দেখে উপস্থিত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আশ্চর্যান্বিত হয়ে গেলেন। মুহূর্তের মধ্যেই প্রায় এক হাজার চারশত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সেখানে একত্রিত হলেন। সবাই সেই প্রবাহিত পানি দিয়ে পরিপূর্ণভাবে অযূ করলেন। বাহনসমূহকে পানি পান করালেন, পরবর্তী সময়ের জন্য পানি সংরক্ষণ করলেন। আশ্চর্যের বিষয় এক ফোঁটা পানিরও অভাব হলো না। শুধু তাই নয়, অযূ শেষে সবাই সেই পানি পান করলেন এবং দীর্ঘ সময়ের তৃষ্ণা সম্পূর্ণরূপে নিবারণ করলেন। ক্লান্ত শরীরে ফিরে এলো প্রশান্তি, শুকনো কণ্ঠে ফিরে এলো সজীবতা, আর অন্তরে নেমে এলো এক অপার্থিব সান্তনা। এরপর সকলেই পরম খুশু-খুজু ও একাগ্রতার সাথে পবিত্র আছর নামায আদায় করলেন।
এই পবিত্র ই’জায শরীফ কেবল পানির অভাব দূর করার অলৌকিক নিদর্শনই ছিলো না; বরং এটি ছিলো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অসীম রহমত মুবারক, উনার পবিত্র নুবুওওয়াত মুবারক উনার নিদর্শন মুবারক এবং উম্মতের প্রতি সীমাহীন দয়ার এক জীবন্ত প্রমাণ। মহান আল্লাহ পাক উনার প্রিয় হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নূরুল মাগফিরাহ অর্থাৎ পবিত্র হাত মুবারক উনার এমন বরকত মুবারক দান করেছেন, যা মানব ইতিহাসে অতুলনীয়।
এই পবিত্র ই’জায শরীফ দ্বারা আমাদের শিক্ষণীয় যে, প্রকৃত কুদরত মুবারক মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার। তিনি পৃথিবীতে বিভিন্ন সময় উত্তম আদর্শ মুবারক প্রদর্শন করেছেন। যখন জীবন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে, তখনই মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সাহায্যের পথ খুলে দেন। বিশ্বাস ও ধৈর্যের সঙ্গে মহান আল্লাহ পাক উনার উপর ভরসা রাখাই আমাদের জীবনে সবচেয়ে বড় আশ্রয়। এই পবিত্র ই’জায শরীফ আমাদের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মুবারক।
-খুবাইব আহমদ সাফওয়ান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন-
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (১৪তম পর্ব)
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ (১)
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পর্দা পালন করা নারী-পুরুষ সকলের জন্যই শান্তি ও পবিত্রতা হাছিলের কারণ
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র “মাক্বামে মাহমূদ” উনার বেমেছাল তাফসীর বিষয়ে খারেজী জাহমিয়া ফিরকার মুখোশ উম্মোচন (৬)
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১০)
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












