পবিত্র সূরা দুখান শরীফে বর্ণিত লাইলাতুম মুবারকাই হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত; যে রাত্রি মুবারকে সমস্ত প্রজ্ঞাময় বিষয়সমূহের ফায়ছালা করা হয় (৭)
, ২১ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১১ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ১১ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ২৬ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(পূর্বে প্রকাশিতের পর)
উল্লেখিত আলোচনা থেকে اَنْزَلَ ও نَزَّلَ শব্দদ্বয় উনাদের পার্থক্য স্পষ্টভাইে বুঝা গেলো।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে কখন থেকে পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল হওয়া শুরু হয়েছে?
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন-
بَعَثَهُ اللهُ تَعَالٰى عَلٰى رَأْسِ أَرْبَعِيْنَ سَنَةً
অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক যখন ৪০ বছর তখন সম্মানিত রিসালত ও নুবুওওয়াত মুবারক হাদিয়া করেছেন। অর্থাৎ উনার সম্মানিত রিসালতী ও নুবুওওয়াতী শান মুবারক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছেন দুনিয়াবী ৪০ বছর হায়াত মুবারকে। সুবহানাল্লাহ! (শামায়েলে তিরমিযী)
উল্লেখিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় হযরত ইবনে হাজার আসক্বালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, এই বর্ণনাটি সেই মতকে সমর্থন করে, যাতে বলা হয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সেই সম্মানিত মাস মুবারকেই সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক হাদিয়া করা হয়েছে, যেই সম্মানিত মাস মুবারকে তিনি মহাসম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
তবে জমহুর উলামায়ে কিরাম উনাদের নিকট প্রসিদ্ধ হলো, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুশ শুহূর মহাসম্মানিত রবীউল আউওয়াল শরীফ মাসে বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেছেন এবং পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে উনার সম্মানিত নুবুওওয়াতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। এ মত অনুযায়ী সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশের সময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক হবে ৪০ বছর ছয় মাস অথবা ৩৯ বছর ছয় মাস। সুতরাং যারা ৪০ বছর বলেছেন, উনারা কেউ ছয় মাস বাদ দিয়ে বলেছেন অথবা ছয় মাস যুক্ত করে বলেছেন। (যাতে পূর্ণ ৪০ বছর হয় না।)
কিন্তু হযরত মাসঊদী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং হযরত ইবনে আবদিল বার রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা বলেছেন-
إِنَّه بُعِثَ فِيْ شَهْرِ رَبِيْعِ الْأَوَّلِ فَعَلٰى هٰذَا يَكُوْنُ لَه أَرْبَعُوْنَ سَنَةً سَوَاء
অর্থ: নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালত মুবারক সাইয়্যিদুশ শুহূর মহাসম্মানিত রবীউল আউয়াল শরীফ মাসে প্রকাশিত হয়েছেন। এ মত অনুযায়ী বরাবর ৪০ বছরই পূর্ণ হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ! (ফাতহুল বারী ৬/৫৭০)
উল্লেখ্য, পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিলের মাধ্যমেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নুবুওওয়াতী ও রিসালতী শান মুবারক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিলেন। আর সেটা ছিলেন সাইয়্যিদুশ শুহূর মহাসম্মানিত রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস উনার সাইয়্যিদু সায়্যিদিল আ’দাদ শরীফ অর্থাৎ মহাসম্মানিত ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ। ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ অর্থাৎ সোমবার। সুবহানাল্লাহ! যা উল্লেখিত আলোচনায় সুস্পষ্ট।
কাজেই পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল হওয়ার ধারাবাহিকতা হচ্ছে-
১. পবিত্র শবে বরাতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে,
২. পবিত্র শবে ক্বদরে লাওহে মাহফূয থেকে দুনিয়ার আসমানে বাইতুল ইয্যত শরীফ নামক হুজরা শরীফে পুরো পবিত্র কুরআন শরীফ একত্রে নাযিল করা হয়েছে,
৩. সেখান থেকে সাইয়্যিদুশ শুহূর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফে (১২ই শরীফে) ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ (সোমবার) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল হওয়া শুরু হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
সুতরাং, উপরোক্ত দলীলভিত্তিক আলোচনা থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো, পবিত্র সূরা দুখান শরীফে বর্ণিত ‘লাইলাতুম মুবারকা’ই হচ্ছেন পবিত্র শবে বরাত, পবিত্র শবে ক্বদর নয়। এই রাত মুবারক হচ্ছেন ফায়ছালা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের রাত, এই রাত মুবারকে সমস্ত কিছু ফায়ছালা করা হয় আর সেটা পবিত্র শবে ক্বদরে জারী করা হয়। যারা বলে পবিত্র কুরআন শরীফে শবে বরাত নেই তাদের কথা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। বরং এটা তাদের জিহালতির বহিঃপ্রকাশ।
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
দুনিয়ার তাছীর বা ক্রিয়া থেকে প্রত্যেক ব্যক্তির সতর্ক থাকা আবশ্যক
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রোযা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
কাফির মুশরিকদের থেকে দূরে থাকতে এবং তাদেরকেও দূরে রাখার ব্যাপারে নির্দেশ মুবারক
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সঠিক তারতীবে যাকাত উসূল বা সংগ্রহ করা ফরয-ওয়াজিব
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সম্মানিত হানাফী মাযহাবে ছদক্বাতুল ফিতর উনার অকাট্য দলীল (৪)
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৪৩)
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৫)
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাফরমানীমূলক কাজ
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












