পবিত্র হজ্জ ও পবিত্র উমরা সম্পর্কে-
ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ পবিত্র হজ্জ ও পবিত্র উমরা সম্পর্কে (২১)
, ১০ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ২০ ছানী আশার, ১৩৯১ শামসী সন , ১৯ মে, ২০২৪ খ্রি:, ০৫ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
তবে হজ্জের বাধা স্বরূপ যে বিষয়গুলি, বাধার কারণ সেটা অন্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বলা হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِيْ أُمَامَةَ رَضِىْ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ لَّـمْ يـَمْنَـعْهُ مِنَ الْـحَجِّ حَاجَةٌ ظَاهِرَةٌ، سُلْطَانٌ جَائِرٌ، مَرَضٌ حَابِسٌ فَمَاتَ وَلَـمْ يَـحُجَّ فَـلْيَمُتْ إِنْ شَاءَ يَهُوْدِيًّا وَّإِنْ شَاءَ نَصْرَانِيًّا
এখানে হযরত আবূ উমামাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
مَنْ لَّـمْ يَـمْنَـعْهُ مِنَ الْـحَجِّ
যার হজ্জে যাওয়ার কোন বাধা হলো না। কোন বিষয়গুলি
حَاجَةٌ ظَاهِرَةٌ
প্রকাশ্য, বাহ্যিক তার কোন বাধা নেই। কেউ বাধা দিচ্ছে না যেতে।
سُلْطَانٌ جَائِرٌ
কোন জালিম বাদশা সেখানে নেই। যে বাধা দিবে, জালিম বাদশা জুলুম করবে এমন কেউ নেই
مَرَضٌ حَابِسٌ
কঠিন কোন রোগে সে আক্রান্ত নয়। এখানে তিনটা বিষয় বলা হয়েছে। একটা হচ্ছে, বাহ্যিক কোন বাধা সেখানে যেতে বাধা হচ্ছে না বা দিচ্ছেনা তাকে যেতে। দুই নম্বর সেখানে কোন জালিম শাসক নেই যে তাকে জুলুম করবে। তার ঈমান আমল ক্ষতি করবে এমন কোন জালিম শাসক নেই। এরপর বলা হচ্ছে কঠিন অসুস্থ সে নয়, যেতে তার অসুবিধা হবে।
فَمَاتَ وَلَـمْ يَـحُجَّ
এরপরও যে হজ্জ করলো না সে মারা গেল। সেটাই বলতেছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি
فَـلْيَمُتْ إِنْ شَاءَ يَهُوْدِيًّا وَّإِنْ شَاءَ نَصْرَانِيًّا
হয় সে ইহুদী হয়ে মরুক অথবা সে নাছারা হয়ে মরুক তাতে কোন অসুবিধা নেই। নাউযুবিল্লাহ!
এখানে কিন্তু স্পষ্ট বলে দেয়া হচ্ছে, যদি কোন অসুবিধা না থাকে, বাহ্যিক বাধা না থাকে, জালিম বাদশা। এখনতো জালিম বাদশা রয়েছে। ছবি তুলতে হয়, পর্দা করা যাচ্ছে না, তাহলে কি করে তার হজ্জ করবে সে। এখনতো বাধা দিচ্ছে, ছবি ছাড়া সে ঢুকতে দিবে না। তার পাসপোর্ট সে ছবি ছাড়া গ্রহণ করবে না। আবার সেখানে পুরুষ হোক মহিলা হোক ছবি দিতে হচ্ছে। তাহলে মেয়েদের বেপর্দা হতে হচ্ছে। আগে যে একটা পর্দার ব্যবস্থা ছিল সেটাতেও এখন তারা গাফলতী করে যাচ্ছে। আবার সেখানে ক্যামেরা ফিট করেছে। সিসি ক্যামেরা, সিসি টিভি সেগুলো দ্বারা ছবি তোলা হচ্ছে। তাহলে দেখা যাচ্ছে সেতো জালিম বাদশার অন্তুর্ভুক্ত। সেতো হারাম কাজ করাচ্ছে। তাহলে তার ঈমানের নিরাপত্তা কোথায় রইল। বিষয়টা ফিকির করতে হবে। সে বাধা দিচ্ছে। অসুস্থ না হলে বাহ্যিক বাধা রয়েছে। জুলুম করা হচ্ছে ঈমানদারদেরকে। আমল থেকে তাকে মাহরুম করা হচ্ছে, ঈমান থেকে তাকে মাহরুম করার কোশেশ করা হচ্ছে। কাজেই বিষয়টা ফিকিরের বিষয়। সেটাই বলা হচ্ছে, যদি এ ধরনের কোন বাধা না থাকে তাহলে হজ্জ ফরয হবে। তাকে করতেই হবে।
যেটা অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বলা হচ্ছে-
قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ وَّجَبَ عَلَيْهِ الْـحَجُّ وَلَـمْ يَـحُجَّ فَلَا اَدْرِىْ علَيْهِ يَـمُوْتُ عَلٰى غَيْرِ مِلَّةِ الْإِسْلَامِ
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যার প্রতি হজ্জ ফরয হলো, ওয়াজিব হলো
وَلَـمْ يَـحُجَّ
সে হজ্জ পালন করলো না
فَلَا اَدْرِىْ علَيْهِ يَـمُوْتُ عَلٰى غَيْرِ مِلَّةِ الْإِسْلَامِ
আমি জানি না অর্থাৎ সে ইসলামের বাইরে, বেদ্বীন-বদদ্বীন হয়ে সে মারা যাবে। নাউযুুবিল্লাহ! পবিত্র হজ্জ ফরয হওয়ার পরও যে পালন করলো না অর্থাৎ তার সার্বিক সুবিধা থাকলো সেখানে তার বেপর্দা হতে হচ্ছে না, হারাম ছবি তুলতে হচ্ছে না, অন্যান্য শরীয়ত বিরোধী কোন কাজ তাকে করতে হচ্ছে না, সব ব্যবস্থা যখন থাকলো এরপরও কেউ যদি হজ্জ ফরয হওয়ার পর পবিত্র হজ্জ করলো না তাহলে সে মুসলমান হিসেবে ইন্তেকাল করবে না। বরং সে বেদ্বীন-বদদ্বীন হিসাবে মারা যাবে। নাউযুবিল্লাহ! এবং সেটা আরো শক্ত করে বলা হয়েছে-
مَنْ اَيْسَرَ وَلَـمْ يَـحُجُّ فَمَاتَ عَلٰى ذٰلِكَ فَـهُوَ فِـى النَّارِ ذَاتَ الْوَشْطِ وَالظَّلَمِ
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যার জন্য হজ্জ করা সহজ হয়ে গেল, ওয়াজিব ফরয হয়ে গেল।
وَلَـمْ يَـحُجَّ
সে হজ্জ পালন করলো না।
فَمَاتَ عَلٰى ذٰلِكَ
এ অবস্থায় তার ইন্তেকাল হলো, সে মারা গেল
فَـهُوَ فِـى النَّارِ
সে জাহান্নামে যাবে। নাউযুবিল্লাহ!
ذَاتَ الْوَشْطِ وَالظَّلَمِ
যেখানে কঠিন ভয় এবং যেখানে কঠিন অন্ধকার রয়েছে, আযাব-গযব রয়েছে। অর্থাৎ সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। নাউযুবিল্লাহ! কাজেই শক্ত করে বিষয়টা তাক্বীদ করা হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (৯)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৪)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কোন মুসলমানের জন্য কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৬)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
যেখানে প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ক্বদরের রাত্রিতে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম যমীনে নাযিল হয়ে তিন ব্যক্তির উপর খাছ রহমত বর্ষণের দুআ করেন-
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আসমাউর রিজাল, জারাহ ওয়াত তা’দীল, উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












