পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৪)
, ২৫ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৫ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৫ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ৩০ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
ধীরে অবমুক্তকৃত ওষুধ (Sustained release drug):
কিছু কিছু ওষুধ রয়েছে, যা একবার সেবন করলে তা শরীরে থেকে ধীরে ধীরে রক্তে প্রয়োজনীয় মাত্রা যুক্ত করে। ফলে বার বার ওষুধ সেবনের প্রয়োজন পড়ে না। এর মধ্যে কিছু ইনজেকশন রয়েছে, যা সাতদিনে একটি নিলেই হয়। কিছু ট্যাবলেট রয়েছে, যা ২৪ ঘন্টায় ১টি সেবনই যথেষ্ট। এ সকল ওষুধ রোযা রাখার পূর্বেই গ্রহণ করলে রোযা অবস্থায় এর কার্যকারিতা শরীরে থাকলেও তাতে রোযার কোন ক্ষতি হবে না।
টিকা (Vaccine):
সম্প্রতি চালু হয়েছে হজ্জে যাওয়ার পূর্বে মেনিনজাইটিস টিকা নেয়ার ব্যাপারটি। এ টিকার মাধ্যমে শরীরে এন্টিজেন প্রবেশ করিয়ে দেয়া হয়, যা কিনা শরীরে এন্টিবডি তৈরী করে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করে। রোযা রেখে যে কোন টিকা গ্রহণেই রোযা ভেঙ্গে যাবে।
এক্স-রে (X-ray):
রোগ নির্ণয়ের জন্য এক্সরে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। রোযা রেখে এক্সরে করালে রোযা ভাঙ্গবে কিনা, সে ব্যাপারে আলোচনার পূর্বে এক্সরে নিয়ে একটু আলোচনা করা প্রয়োজন।
সাধারণত, সাধারণ অবস্থায় ইলেকট্রোডের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় না। কিন্তু যখন চাপ ০.০১ থেকে ০.০০১ মি. মি. পর্যন্ত কমিয়ে আনা হয় তখন সরাসরি সোজাভাবে কিছু রশ্মি নির্গত হয়, এদের বলা হয় ক্যাথোড রশ্মি। এই ক্যাথোড রশ্মি প্রবাহের সময় সামনে ধাতব পদার্থ ধরা হয় তখন খুব ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় রশ্মি নির্গত হয়, যার কিনা শরীরে ভেদ করে যাওয়ার ক্ষমতা রয়েছে, একেই বলা হয় এক্সরে।
দেখা গেছে, সূর্যরশ্মি যদি গ্লাস প্রিজমের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করানো যায় তবে যে রকম বর্ণালী দেখা দেয়, তেমনি পটাশিয়াম ফেরোসায়ানাইডের স্ফটিক লবণের মধ্য দিয়ে এক্সরে পরিচালনা করলে একই রকমের বর্ণালী দেখা দেয়। মূলতঃ সূর্য রশ্মির মতই এক্সরে এক ধরণের রশ্মি। রোযা রেখে এক্সরে করালে রোযার কোন ক্ষতি হবে না। তেমনি ত্বকের অসুখের ক্ষেত্রে অনেক সময় UV-Expomre দেয়া হয় এতেও রোযার কোন ক্ষতি হবে না।
রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া (Blood Transfusion):
রোযা রেখে রক্ত গ্রহণ করলে অবশ্যই রোযা ভেঙ্গে যাবে। কিন্তু রোযা রেখে কেউ রক্তদান করলে রোযার কোন ক্ষতি হবে না। কেননা প্রথম অবস্থায় রক্ত শরীরে প্রবেশ করানো হয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় অবস্থায় রক্ত বের হয়েছে। সাধারণভাবে সম্মানিত শরীয়ত উনার বিধান মুতাবিক উল্লেখিত বিষয়গুলো ছাড়া শরীর থেকে কিছু বের হলে রোযা ভঙ্গ হয় না।
আকুপাংচার (Acupuncture):
বলা হয়ে থাকে এ পদ্ধতিটি প্রথমে চীনে প্রচলন ঘটে। শরীরের বিভিন্ন অংশে বিশেষত সেই সকল অংশে যেখানে শরীরের স্নায়ু রয়েছে, সেখানে এক ধরণের সূচ ফোটানো হয়, যাতে শরীরে এক ধরণের নিঃসরণ ঘটে। কিন্তু সূচের মধ্য দিয়ে শরীরে কিছু প্রবেশ করানো হয় না, সে কারণে আকুপাংচারে রোযা ভাঙ্গার কোন সম্ভাবনা নেই।
আল্ট্রাসনোগ্রাফী (Ultrasonography):
আল্ট্রাসনোগ্রাম পদ্ধতিতে শরীরে এক ধরণের শব্দ তরঙ্গ (sound wave) পাঠানো হয় এবং তা পুণরায় ধারণ করে, তার প্রতিক্রিয়া পর্দায় দেখা হয়। সুতরাং এতে রোযা নষ্ট হবে না এবং আল্ট্রাসনোগ্রাম করার পূর্বে যে জেলটি শরীরে লাগানো হয়, তা পানিদ্রব্য (water soluble) এবং তা মস্তিষ্কে বা পেটে পৌঁছায় না। সুতরাং সে জেলেও রোযা ভাঙ্গার কোন সম্ভাবনা নেই।
এন্ডোসকপি (Endoscopy):
এন্ডোসকপিতে একটি পাইপ পেটের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে ভিতরের অবস্থা দেখা হয়। সুতরাং নলটি যদি পাকস্থলী স্পর্শ করে, তবে রোযা ভঙ্গ হবে কিন্তু যদি পাকস্থলী স্পর্শ করার পূর্বেই বের করে আনা হয়, তবে রোযা ভঙ্গ হবে না।
নাক, কান ছিদ্র করা:
রোযা রেখে কেউ যদি গহনা পরিধানের জন্য নাক, কান ছিদ্র করে, তবে রক্ত বের হলেও রোযা ভঙ্গ হবে না কিন্তু তাতে যদি মলম লাগানো হয়, (ointment -যেগুলোতে ওষুধ রয়েছে) তবে রোযা ভঙ্গ হবে।
দাঁত তোলা:
রোযা রেখে, স্থানিক চেতনানাশক (local anesthesia) ছাড়া দাঁত তুললে রোযা ভঙ্গ হবে না। তবে যদি কিছু পরিমাণ রক্ত ভিতরে চলে যায়, রোযা ভঙ্গ হবে। কিন্তু স্থানিক চেতনানাশক দিয়ে দাঁত তুললে রোযা ভঙ্গ হবে।
ইনসুলিন গ্রহণ:
এমন অনেক রোগী আছেন, যারা রোযা না রাখার মত অসুস্থ নন কিন্তু রোযা রাখার সামর্থ্য থাকলেও ওষুধ গ্রহণেরও প্রয়োজন পড়ে। যেমন ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে ইনসুলিন ইনজেকশন। সেক্ষেত্রে ইনসুলিন গ্রহণের সময়সীমা পরিবর্তন করে সুফল পাওয়া যাবে। কিন্তু রোযা রেখে ইনসুলিন নিলে অবশ্যই রোযা ভঙ্গ হবে।
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উম্মাহর মাঝে শ্রেষ্ঠতম মর্যাদায় আসীন
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ইবলিসের পরে দ্বিতীয় উলামায়ে সূ হলো বালয়াম বিন বাউরা
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সকল কাফিররাই মুসলমানদের প্রকাশ্য শত্রু
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












