আসমাউর রিজাল, জারাহ ওয়াত তা’দীল, উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা (১৩)
, ২৪ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৪ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৪ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ২৯ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
কিন্তু বাংলায় প্রবাদ আছে চোরের দশ দিন আর গৃহস্থের একদিন। সুতরাং চোর ধরা পড়ে গেলো। সেই তাওহীদ প্রকাশনীর সম্পাদনায় বুখারী শরীফ উনার ১ম খ- ২য় পৃষ্ঠা ১নং হাদীছ শরীফ উনার সনদটি নিম্নরূপ (দাগ দেয়া অংশে রাবী উনার নাম)-
حَدَّثَنَا الْـحُمَيْدِيُّ عَبْدُ اللهِ بْنُ الزُّبَيْرِ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ حَدَّثَنَا يَـحْيَى بْنُ سَعِيْدٍ الْاَنْصَارِيُّ، قَالَ أَخْبَرَنِـيْ مُـحَمَّدُ بْنُ اِبْرَاهِيْمَ التَّيْمِيُّ، اَنَّهُ سَـمِعَ عَلْقَمَةَ بْنَ وَقَّاصٍ اللَّيْثِيَّ، يَقُولُ سَـمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْـخَطَّابِ
বুখারী শরীফ উনার ১ম হাদীছ শরীফ “ইন্নামা আ’মালু বিন্নিয়াত” এই মশহুর হাদীছ শরীফ উনার রাবী হচ্ছেন- হযরত ইয়াহিয়া ইবনে সাঈদ আল আনছারী রহমতুল্লাহি আলাইহি। সালাফীরা তারাবীহকে অস্বীকার করতে নফসের দ্বারা প্রতারিত হয়ে হযরত ইয়াহিয়া ইবনে সাঈদ আল আনছারী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে মিথ্যাবাদী বলতেও কুন্ঠাবোধ করেনি। অথচ বুখারী শরীফ উনার ১নং হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে হযরত ইয়াহিয়া ইবনে সাঈদ আল আনছারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সালাফীদের কাছে চরম সত্যবাদীই আছেন। যেই তিনি অন্য কিতাবে তারাবীহর নামায ২০ রাকায়াত বলে ফেললেন, সাথে সাথে মিথ্যাবাদী হয়ে গেলেন। নাঊযুবিল্লাহ!
এর জবাব ওহাবী সালাফীরা কি দিবে? তারা কি তাদের মনগড়া ওহাবী-সালাফী মতবাদ টিকাতে উক্ত রাবীকে জারাহ করে ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে জাল হাদীছ বর্ণনাকারী বানিয়ে দিবে?
ভয়ানক বিষয় হচ্ছে- এই অপবাদ দিতে গিয়ে তাওহীদ পাবলিকেশন্সের সালাফীরা হযরত ইবনে হাতীম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রতিও মিথ্যারোপ করেছে। কারণ হযরত ইবনে হাতীম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার কিতাব ‘জারাহ ওয়াত তা’দীল’ কিতাবে হযরত ইয়াহিয়া ইবনে সাঈদ আল আনছারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার রেফারেন্স টেনে এনে বলেন, তিনি নাকি উক্ত রাবীকে মিথ্যাবাদী বলেছেন।
অথচ কিতাব অনুসন্ধান করে দেখা যায় মিথ্যাবাদীতো বলেননি, বরং ছিক্বাহ ও হাদীছ শরীফ উনার চরম সত্যাবাদী শায়েখ বলেছেন। হযরত ইবনে হাতীম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
اَبَا زُّرْعَةَ يَقُوْلُ: يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْاَنْصَارِيِّ مِنَ الثِّقَاتِ
অর্থ: “হযরত ইমাম আবু যুরআ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, হযরত ইয়াহিয়া ইবনে সাঈদ আল আনছারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছিক্বাহ বা নির্ভরযোগ্য।” (জারাহ ওয়াত তা’দীল ৯/১৪৯)
সুতরাং উছূলে হাদীছ শরীফ উনার ইলম ছাড়া যারা আজ বাড়াবাড়ি শুরু করেছে, হাজার বছর ধরে চলে আসা মশহুর আমলকৃত হাদীছ শরীফ উনাকে মওজু বলে উড়িয়ে দিচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য মূলতঃ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া। সেই সাথে, যাতে মুসলমানরা আমল করে মহান আল্লাহ পাক উনার ও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নৈকট্য হাছিল করতে না পারে সেই চেষ্টা করা। নাঊযুবিল্লাহ!
বর্তমান যামানার ওহাবীদের ফিতনা দাজ্জালের ফিতনার চেয়েও অনেক বড় কঠিন আকার ধারণ করেছে। তারা কথায় কথায় ওমুক হাদীছ শরীফ জাল, মওজু ইত্যাদি বলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
এদের সম্পর্কে হুজ্জাতুল ইসলাম, হযরত ইমাম গাযযালী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাবে হাদীছ শরীফ উল্লেখ করেছেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اَنَا مِنْ غَيْرِ الدَّجَّالِ اَخْوَفُ عَلَيْكُمْ مّـِنَ الدَّجَّالِ فَقِيْلَ وَمَا هُوَ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ عُلَمَاءُ السُّوْءِ.
অর্থ: “আমি আপনাদের ব্যাপারে এক সম্প্রদায়কে দাজ্জালের চেয়েও অধিক বেশি ভয়ংকর মনে করি এবং এই ব্যাপারে অধিক চিন্তিত রয়েছি (যাদের ফিতনা হবে দাজ্জালের ফিতনার চেয়ে অনেক বড় কঠিন ও ভয়ংকর)। তখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের থেকে একজন জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সেটা কোন সম্প্রদায়? জবাবে তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, উলামায়ে সূ’।” (বিদায়াতুল হিদায়া ১ম খ- ১২৬-১২৭ পৃষ্ঠা)
অর্থাৎ উলামায়ে সূ’ বা ধর্মব্যবসায়ী মালানাদের ফিতনা দাজ্জালের ফিতনার চেয়ে অনেক বড় কঠিন ও ভয়ংকর। বর্তমান যামানা হচ্ছে এমনই এক ভয়াবহ ফিতনার যামানা। এখন ঈমান রক্ষা করা অনেক কঠিন। এই ফিতনা বেষ্টিত যামানায় সবার উচিত নিজের ঈমান-আমল হিফাযত করতে মহান মুজাদ্দিদে আ’যম, সুলত্বানুন নাছীর, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার কদম মুবারকে আসা। সেই সাথে মুবারক ছোহবত ইখতিয়ার করে কুল কায়িনাতের সবার উচিত ইলম, আমল, ইখলাছ ও অফুরন্ত নিয়ামত হাছিল করা। একমাত্র পৃথিবীর বুকে তিনিই পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সঠিক বিষয়টা প্রকাশ করছেন, যাতে করে মানুষ হিদায়েত লাভ করে আল্লাহওয়ালা হতে পারে।
-খাজা মুহম্মদ নুরুদ্দীন পলাশ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সশব্দে বা জোরে আমীন না বলা
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙ্গুলের ছাপ শরীয়তসম্মত, নিখুঁত, ব্যবহারে সহজ এবং রহমত, বরকত, সাকীনা লাভের কারণ (৮)
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বাবস্থায় যাঁরা দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি দৃঢ়চিত্ত থাকেন উনারাই হক্কানী আলেম
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠের বিস্ময়কর বাস্তব ঘটনাসমূহ
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ফিক্বাহ বা ফতওয়ার সকল কিতাবেই গান-বাজনা, বাদ্য-যন্ত্র ইত্যাদিকে হারাম ফতওয়া দেয়া হয়েছে
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (১৬তম পর্ব)
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৮)
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












