পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৩)
, ২৪ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৪ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৪ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ২৯ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(2) ÒMannitol is rapidly distributed in the extracellular compartment and extracts water from the intracellular compartment ......................... reduces intracellular volume. This effect is used to reduce intracranial pressure in neurologic conditions. ......... urine volume increases in conjunction with mannitol excretion.” অর্থাৎ ম্যানিটল দ্রুত শরীরের E. C কম্পার্টমেন্টে ছড়িয়ে পড়ে এবং সেলের ভিতর থেকে পানি শুষে নেয় (যার মধ্যে মস্তিষ্কের কোষও অন্তর্ভুক্ত) ........এভাবে সেলের ভিতরের আয়তন কমায়। কার্য্যকারীতার এ দিকটি নিউরোলোজীর বিভিন্ন সমস্যায় (অর্থাৎ মস্তিষ্কে টিউমার, পানি জমা, চাপ বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি) ব্যবহার করা হয়। .......... যথাসময়ে (সাধারণতঃ ১/২-১ ঘন্টার মধ্যে) ম্যানিটল পেশাবের সঙ্গে বেরিয়ে যাবার সময় মস্তিষ্ক ও অন্যান্য স্থান থেকে শুষে নেয়া পানি সাথে নিয়ে বেরোয় (ভাবার্থ) [Basic and clinical pharmacology, Bertram G. Katyung, 6th Ed. (1995) P-242-243] ইনজেকশনের মাধ্যমে ওষুধ গ্রহণ করলে পাকস্থলী এবং মস্তিষ্ক উভয় স্থানেই যে পৌঁছে তার এরকম আরো অজস্র উদাহরণ রয়েছে চিকিৎসা শাস্ত্রের স্থানে স্থানে।
ওষুধ, ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে প্রয়োগ করলে মস্তিষ্কে এবং পেটেও যে ওষুধ পৌঁছে তা নিচের উদাহরণটি থেকেও স্পষ্ট বুঝা যায়। আমাদের পাকস্থলী রয়েছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি একটি অক্সিনটিক বা গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি (Oxyntic ev Gastric Gland) এবং অপরটি পাইলোরিক গ্রন্থি (Pyloric Gland)। অক্সিনটিক গ্রন্থিতে থাকে পেরাইটাল কোষ এবং পেরাইটাল কোষের H2 রিসিপ্টর উত্তেজিত হলে নিঃসরিত হয় হাইড্রোক্লোরিক এসিড।
যখন শিরা অথবা পেশীর মাধ্যমে রেনিটিডিন ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয় তখন রেনিটিডিন পেরাইটাল কোষের H2 রিসিপ্টরকে আটকে দেয়। ফলে পাকস্থলীতে হাইড্রোক্লোরিক এসিড নিঃসরিত হয় না। সুতরাং এর দ্বারা পেটে ওষুধের কার্যকারিতা বুঝা গেল। রেনিটিডিন রক্তের মাধ্যমে সহজেই মস্তিষ্কে পৌঁছে। শুধু তাই নয়, মস্তিষ্কের কোষেও অল্পমাত্রায় শোষণ ঘটে।
সভ্যতার বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের প্রয়োজনে নানা জিনিসের ব্যবহার বেড়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতি হয়েছে অনেক। পূর্বে যে সকল পদ্ধতিতে চিকিৎসা হত, এখন চিকিৎসা পদ্ধতির মান, উপকরণ সবই বেড়েছে। এ সকল পদ্ধতির অনেক কিছুই আমরা রোযা অবস্থায় ব্যবহার করছি, কিন্তু উপকরণগুলো রোযা অবস্থায় ব্যবহার করা যাবে কি যাবে না, সে ব্যাপারে হয়তো আমাদের অনেকেরই সঠিক কোন ধারণা নেই।
সে কারণে কয়েকটি বিষয় নিয়ে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হলো।
ইনহেলার (Inhealer):
বাজারে যে সকল ইনহেলার পাওয়া যায়, তার ভিত্তি হচ্ছে এরোসল অর্থাৎ এরোসল-এর মাধ্যমেই ওষুধ নাকের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করানো হয়। উদাহরণ হিসেবে সলবিউটামল ইনহেলারের কথাই ধরা যাক। যখন সলবিউটামল ইনহেলার নেয়া হয় এবং প্রথমবার ওষুধ গ্রহণের মাত্রা যদি হয় ৪০ থেকে ১০০ মাইক্রো গ্রাম, তবে সর্বোচ্চ প্লাজমা ঘনত্বে (চবধশ চষধংসধ ঈড়হপবহঃৎধঃরড়হ) পৌঁছতে সময় লাগবে তিন থেকে পাঁচ ঘন্টা। রক্তে পৌঁছলে যেহেতু ওষুধ মস্তিষ্কে পৌঁছে, সুতরাং রোযা ভেঙ্গে যাবে।
ইনফিউশান (Infusion):
অনেকেরই শারীরিক অসুস্থতার কারণে স্যালাইন নেবার প্রয়োজন পড়ে। বাজারে গ্লুকোজ, ডেক্সট্টোজ স্যালাইন পাওয়া যায়। রোযা রেখে স্যালাইন গ্রহণে অবশ্যই রোযা ভেঙ্গে যাবে।
চেতনানাশক (Anesthesia):
চেতনানাশক সাধারণতঃ গ্রহণ করা হয় শ্বাসের মাধ্যমে, শিরার মধ্য দিয়ে বা কখনও পেশীর মধ্য দিয়ে। যেগুলো শ্বাসের মাধ্যমে নেয়া হয় তাতে রয়েছে- ক্লোরফরম, সাইক্লোপ্রোপেন, এনফ্লুরেন, ইথার, নাইট্রাসঅক্সাইড ইত্যাদি। ক্লোরফরমের কথাই ধরা যাক। ক্লোরফরম খুব সহজেই শোষিত হয়। রক্তে এবং মস্তিষ্কে ওষুধের মাত্রা খুব অল্প সময়েই পৌঁছে যায়।
রাসায়নিকভাবে স্থানিক চেতনানাশক আবার দুই প্রকার।
১. পুরনো উপাদানসমূহ, যেমন এষ্টার।
২. সাম্প্রতিক উপাদানসমূহ, যেমন এমাইডস।
এছাড়াও রয়েছে বেনজাইল এলকোহল, মেনথল, ফেনল, এরোসল, প্রপিলেন্ট ইত্যাদি। উদাহরণ হিসেবে লিগনোকেইনের কথাই ধরা যাক। বেশীরভাগ স্থানিক চেতনানাশক খুব দ্রুত ত্বকের মাধ্যমে, মিউকাস মেমব্রেনের স্তর এবং ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকের মাধ্যমে শোষিত হয়। ইনজেকশনের মাধ্যমে লিগনোকেইন খুব দ্রুত হৃৎপিন্ড, মস্তিষ্ক, কিডনী এবং অন্যান্য টিস্যূতে ছড়িয়ে যায়। সুতরাং সহজেই সিদ্ধান্তে আসা যায় রোযা রেখে চেতনানাশক দিলে রোযা ভেঙ্গে যাবে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ওলীআল্লাহ উনাদের সম্পর্কে বদ আক্বীদা পোষণ এবং উনাদের বিরুদ্ধাচরণের কারণে কঠিন পরিণতি
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৫)
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মসজিদের মধ্যে উচ্চস্বরে কথা বলা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে বা যারা কাফিরদের সাথে সম্পর্ক রাখবে সে দ্বীন ইসলাম থেকে খারিজ হবে
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সুগন্ধে ভরে উঠলো পুরো মাঠ!
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ছহিবে নিসাব প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য পবিত্র কুরবানী দেয়া ওয়াজিব (৪)
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












