পাঠক কলাম:
চিকিৎসা বিজ্ঞানের দোহাই দিয়ে খাছ সুন্নত অল্প বয়সে বিবাহের বিরুদ্ধাচরণ করা অপপ্রচার মাত্র; * মুসলিম সমাজে অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, নোংরামী, অনৈতিকতা ছড়িয়ে দেয়াই যার মূল লক্ষ্য। * চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অল্প বয়সে বিবাহ ক্ষতিকর নয়, বরং উপকারী।
, ২১ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১০ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ২৭ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) মহিলাদের পাতা
অল্প বয়সে বিবাহ করার ব্যাপারে সমাজে যে অসুস্থ মানসিকতা তৈরী হয়েছে এই অসুস্থ প্রচারণার শিকার হয়ে বর্তমানে মুসলমানরাও এর বিরুদ্ধে বলছে নাউযুবিল্লাহ!
আধুনিক বিজ্ঞান এবং মেডিক্যাল সাইন্স এবং আজকে থেকে হাজার বছর পরের বিজ্ঞান ও মেডিক্যাল সাইন্স একমাত্র মহান আল্লাহ পাক তিনিই জানেন। সুতরাং তিনি যেটা হালাল করেছেন, সেটা হালাল হিসেবেই মেনে নিতে হবে। ইহাই ঈমানদারের পরিচয়। এবার আসা যাক- মেডিক্যাল সাইন্সের প্রেক্ষাপটে অল্প বয়সে বিবাহের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডার কিছু অজানা দিক তুলে ধরার সম্পর্কে-
সম্মানিত ইসলামে চিকিৎসা নেয়ার ব্যাপারে কোনো বিধি-নিষেধ নেই। চিকিৎসা গ্রহণ করা ফরয-সুন্নত উনাদের অন্তর্ভুক্ত। তবে বর্তমান যুগে মেডিক্যাল সাইন্স এমন এক পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে যে, মানুষ অনেক ক্ষেত্রে একে মহান আল্লাহ পাক উনার স্থলে ইলাহ হিসাবে গ্রহণ করতে শুরু করেছে! নাউযুবিল্লাহ! আর মানুষের এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে স্বার্থবাদী গোষ্ঠী মেডিক্যাল সাইন্সকে ব্যবহার করে গোপন সব ফায়দা লুটে নিচ্ছে, যা চিরকালই সাধারণ মানুষের ধারণার অতীত হয়ে থাকবে। এ প্রসঙ্গে কয়েকটি উদাহরণ দিতে চাই-
১. অতীতে সন্ত্রাসী যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরাক আক্রমণ করে হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করা শুরু করেছিলো এবং তাদের নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ার খবরেই বিশ্ব বিবেকে নাড়া পড়ে গিয়েছিলো, এহেন অবস্থায় মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাবার জন্য তারা আশ্রয় নিলো তাদের বিশ্বস্ত এবং কার্যকর অস্ত্র মেডিক্যাল সাইন্সের। ওদের সমস্ত মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে তারা ‘সার্স’ (ঝঅজঝ-ঝবাবৎব অপঁঃব জবংঢ়রৎধঃড়ৎু ঝুহফৎড়সব) নামের এক জীবনঘাতী মহামারী রোগের বিস্তারের প্রচার শুরু করলো এবং এ রোগের বিস্তারে মানুষের করণীয় হিসাবে মুখে মাস্ক পরার কথা প্রচার করলো। তাদের এ প্রচার মারাত্মক কাজ করলো।
ইরাক যুদ্ধ থেকে সরে গিয়ে মানুষের দৃষ্টি সার্সে নিবদ্ধ হলো আর লক্ষ লক্ষ মানুষ এর ভয়ে মাস্ক পরে রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে লাগলো। তবে অনেক চিকিৎসক ও গবেষকের মতে, সত্যিকার অর্থে সার্স নামে কোনো রোগ ছিলো না, বরং সামান্য ফ্লু’কেই সে সময় অতিরঞ্জিত করে ‘সার্স’ নামে চালিয়ে দেয়া হয়েছিলো। মজার ব্যাপার হলো, ইরাক যুদ্ধের ওই সময়টা বাদ দিয়ে বিশ্বে আর কখনো না সার্সের প্রাদুর্ভাব আগে ঘটেছে, আর না তার পরে কখনো ঘটেছে। অথচ এ রোগের নির্মূলের জন্য কোনো টীকা কোথাও দেয়া হয়নি, তাহলে এ রোগ কোথায় গেলো?
২. একইভাবে বেশ কিছুদিন আগে ‘সোয়াইন ফ্লু’ নামের এক জীবনঘাতী মহামারীর কথা প্রচার করা হয় এবং অত্যন্ত আশ্চর্যজনকভাবে প্রায় সাথে সাথেই এই কার্যকরী ঔষধ ও ভ্যাক্সিনের কথাও প্রচার করা হয়। সারা বিশ্বে কোটি কোটি ডলারের ঔষধ বিক্রি করা হয়, কিন্তু সে রোগটি এবং এর ঔষধের ভেতর আদৌ কি ছিলো তা আজও অভিজ্ঞদের কাছে রহস্যাবৃত রয়ে গেছে।
৩. এইডস নিয়ে সারা পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু ঘটেছে আর এ রোগে ধুঁকছে আরো কোটি কোটি মানুষ। তবে মেডিক্যাল সাইন্সে এইডস-এর ভাইরাস সম্বন্ধে বলা হয়েছে যে- তা এসেছে আফ্রিকার বানর থেকে। তবে একদল বিজ্ঞানী গবেষণার ভেতর উঠে এসেছে যে, এইডস-এর ভাইরাস এইচআইভি বানর থেকে আসা অসম্ভব এবং তারা দেখিয়েছে যে- এইডস-এর ভাইরাস ল্যাবরটরিতে মডিফিকেশন করে তৈরি করা হয়েছে আফ্রিকার ব্ল্যাক জনসংখ্যা কমানোর জন্য এবং টীকাদান বা ভ্যাক্সিনেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে এর জীবাণুকে গোপনে মানুষের দেহে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে।
অল্প বয়সে বিয়ের ক্ষেত্রেও তারা একই প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে দেশী-বিদেশী দালাল আর মিডিয়ার মাধ্যমে। এ বিরোধিতা করার একমাত্র কারণ সম্মানিত ইসলামকে অবমাননা করা, সুন্নতকে ইহানত করা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের দোহাই দিয়ে অল্প বয়সে বিবাহের বিরুদ্ধে বলা অপপ্রচার মাত্র।
সাধারণত মেয়েদের প্রাপ্তবয়স্কতা প্রকাশ পায় ৮ বছর বয়সে আর ছেলেদের ৯.৫ বছর বয়সে ইহা মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৩ আর ছেলেদের ক্ষেত্রে ১৩.৫ ও হতে পারে। তাহলে দেখা যাচ্ছে- এই বয়সেই একটি ছেলে বা মেয়ে সন্তান জন্মগ্রহণে ভূমিকা রাখতে পারে।
এবার আসা যাক বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে বলা সমস্ত মেডিক্যাল সমস্যাগুলোর ব্যাপারে।
১. অল্প বয়সে সন্তানধারণ বিষয়ক প্রধান যে সমস্যাগুলো সম্পর্কে বলা হয়, তা হলো- রক্ত স্বল্পতা, অধিক সময় ধরে ডেলিভারী, ইঊটেরাস বা গর্ভাশয় ফেটে যাওয়া, গর্ভে বাচ্চার ডিস্ট্রেস ইত্যাদি।
তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি, এই সব গর্ভজনিত কমপ্লিকেশন বা সমস্যা যে শুধু অল্পবয়সী মায়ের ক্ষেত্রেই হবে তা নয়, বরং এগুলো যেকোনো বয়সের মায়েদেরই হতে পারে এবং এমন কোনো কমপ্লিকেশন নেই, যা কেবল অল্পবয়সী মায়েদেরই হয়। যারা এসব দোহাই দিয়ে অল্প বয়সে বিবাহের বিরুদ্ধ বলে, চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতাই প্রমাণ পায়। (পরবর্তী পর্বে সমাপ্য)
-ডা. মুহম্মদ আলী (এমবিবিএস), ঢাকা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সন্তানসম্ভাবা মহিলাদের বেশি বেশি খেজুর বা খুরমা খাওয়া প্রয়োজন
০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (১১)
০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নছীহত মুবারক: সর্বোত্তম ঈমান উনার অধিকারী হওয়ার শর্তাবলী (২)
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
তালাক দেয়ার অধিকারী কে? চেয়ারম্যান-মেম্বার নাকি আহাল বা স্বামী ? (২)
০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
০৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশতে প্রবেশ করবে না
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মেহমানদারী করার মাধ্যমে উদযাপনে শাফায়াত মুবারক লাভ
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












