আপনাদের মতামত
গণমাধ্যমে খবরে হেডিং হয়েছে, “হাহাকার বেড়েই চলছে কলকাতার ‘মিনি বাংলাদেশ’-এ, বন্ধের পথে সব হোটেল-রেঁস্তোরা-দোকানপাট” “বাংলাদেশিরা না যাওয়ায় হাহাকার আধপেটা থাকছে কলকাতার ব্যবসায়ীরা”
“নেই বাংলাদেশি পর্যটক, কলকাতায় মানবেতর পরিস্থিতিতে রিকশাচালকরা” শুধু কলকাতা নয় বাংলাদেশ ও বাংলাদেশী নির্ভরতা ছাড়া গোটা ভারতের অর্থনীতিতেই ধ্বংস নামবে।
, ৮ই শা’বান শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১১ তাসি’, ১৩৯২ শামসী সন , ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খ্রি:, ২৫ মাঘ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) আপনাদের মতামত
বাংলাদেশী ভ্রমণকারীরা ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা ভ্রমণ বাদ দিয়েছেন।
এতে হোটেল বাণিজ্য নিম্নমুখী, রেস্তোরাঁগুলোও তাদের কার্যক্রম সীমিত করতে বাধ্য হয়েছে এবং খুচরা ব্যবসাগুলোর লালবাতি জ্বলছে।
মধ্য কলকাতার মারকুইজ স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, কিড স্ট্রিট, রফি আহমেদ কিদোয়াই রোড, নিউ মার্কেট ও আশেপাশের এক বর্গ কিলোমিটার অঞ্চলের পরিচিতি ‘মিনি বাংলাদেশ’ হিসেবে। প্রায় সারা বছরেই বাংলাদেশিদের আনাগোনায় সরগরম থাকতো গোটা এলাকা। বাংলাদেশি খাবার থেকে শুরু করে নানা ধরনের ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশিদের জন্যই গড়ে উঠেছিল। এই অঞ্চলের হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলোতে এক সময় ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই অবস্থা ছিল। শীতকালে ও ঈদের সময় বাংলাদেশিদের ভিড়ে হাঁটাচলাও কঠিন হয়ে পড়তো। বিভিন্ন দোকান ও মলগুলোতে উপচে পড়তো ভিড়।
কোথায় সেই ভিড়? গোটা এলাকা থেকে বাংলাদেশিরা যেন উবে গিয়েছেন। চারিদিক এখন শুনশান। স্থানীয় মানুষ ও মেডিকেল ভিসায় আসা নামমাত্র কিছু বাংলাদেশির আনাগোনা ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ে না।
নিউমার্কেটের এক ব্যবসায়ী বলছিলো, বাংলাদেশিদের উপরই আমরা নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলাম। ফলে তাদের অনুপস্থিতিতে সব কাপড়ের দোকানে কর্মী কমিয়ে দিতে হয়েছে। অনেক আর্থিক ঋণের বোঝা চেপে রয়েছে। কী হবে তা নিয়ে সে ও তার মতো সব ব্যবসায়ীরাই চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছে। সে আরও বলে, ঈদ আসছে। কিন্তু বাংলাদেশের পরিস্থিতি যা চলছে তাতে কোনও আশা দেখতে পাচ্ছি না। ফলে ঈদের জন্য আগে থেকে যে সব অর্ডার দিয়ে রেখেছিলাম সেগুলো বাতিল করতে হচ্ছে।
বণিকসভার এক কর্তা জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে পর্যটক আসা ভিসা ও অন্যান্য কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। হাসপাতালের ব্যবসা মার খাচ্ছে। নিউ মার্কেট থেকে ই এম বাইপাসে তৈরি বহু হোটেল বাংলাদেশি রোগী ও তাদের পরিবারের উপরে নির্ভরশীল। সেখানে কলকাতা ও রাজ্যের ছেলেমেয়েরা কাজ করে। বাংলাদেশিরা না আসায় হোটেলের ব্যবসাও মার খেয়েছে। ফলে অনেকেই রুটিরুজি হারিয়েছে। বিভিন্ন দোকানের কর্মচারীদেরও ছাঁটাই করা হচ্ছে।
শুধু নিউমার্কেট অঞ্চল নয়, গড়িয়াহাট, হাতিবাগানের মতো এলাকাগুলোর ব্যবসায়ীরাও বাংলাদেশিদের উপর নির্ভর করতো। তারা এখন হা হুতাশ করছে। একই চিত্র বড় বাজারের বড় বড় শাড়ির আড়ৎগুলোতেও।
হিন্দুস্তান টাইমসের সরেজমিন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিনি বাংলাদেশ ঘুরে বোঝাই যাচ্ছে, সেখানকার ব্যবসায়ীদের মাছি তাড়ানোর হাল তৈরি হয়েছে। ফুটপাতে যারা ব্যবসা করে, তাদের অবস্থা আরও শোচনীয়। কারণ অনেকেরই আধপেট খেয়ে কাটছে দিন।
ভারতের ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই রিকশাচালকরা বাংলাদেশি পর্যটকদের পরিবহন করে থাকে। বাংলাদেশি পর্যটকদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় গত তিন মাসে ওই রিকশাচালকদের উপার্জন প্রায় ৭০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
ক্যানিংয়ের বাসিন্দা এক রিকশাচালক বলে, ‘‘এমনকি চার মাস আগেও আমি প্রত্যেকদিন ৭০০ থেকে ৮০০ রুপি উপার্জন করতাম। এখন তা নেমে দিনে ২০০ রুপিতে এসেছে। ’’
ভারতে বাংলাদেশীরা না যাওয়ার প্রভাব সরাসরি পড়েছে রিকশাচালকদের ওপর; যাদের জীবন এখন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে।
অভিজ্ঞমহল মনে করেন মূলত: ভারত এবং ভারতীয়রাই বাংলাদেশের উপর পুরোটা নির্ভরশীল। কাজেই শুধু পশ্চিমবঙ্গই নয় বাংলাদেশ সহযোগীতা না করলে পুরো ভারতের অর্থনীতিতেই লালবাতি জ্বলবে।
-মুহম্মদ ওয়ালীউল্লাহ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
৫০ লক্ষের বাহিনী ও ভবিষ্যতের সাইবার যুদ্ধক্ষেত্রের মহাপ্রস্তুতি (পর্ব-৩)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বিজিবির দায়িত্ব সচেতনতা ও আন্তর্জাতিক আইনের বিজয়
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাতক্ষীরায় মসজিদ ভাঙার ধৃষ্টতা এবং আইনের শাসনের জরুরি প্রয়োজনীয়তা
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বঙ্গোপসাগরে সাম্রাজ্যবাদী নব্য-ক্রুসেডারদের সামরিক আগ্রাসনের এক পৈশাচিক ফাঁদ
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৭)
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বাংলাদেশের কৌশলগত নিরপেক্ষতার সামনে নতুন ভূরাজনৈতিক ফিৎনা
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেওয়ারিশ কুকুর নিধন করতে হবে
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
৫১ কোটির জনসংখ্যার জন্য ৫০ লক্ষ সেনাবাহিনী প্রয়োজন সাইবর্গ পদাতিক: এক্সোস্কেলিটন প্রযুক্তিতে মুসলিম বিশে^র যুগলবন্দি (পর্ব-২)
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৫১ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশে ৫০ লক্ষাধিক নিয়মিত সশস্ত্র বাহিনীর কৌশলগত অপরিহার্যতা ও সামরিক রূপরেখা (পর্ব-১)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও আবহাওয়া রাডার অবকাঠামোর মহাপরিকল্পনা কেন জরুরি? (২য় পর্ব)
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে কার স্বার্থে এই তথাকথিত জ্বালানি চুক্তি!
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রাকৃতিক উপায়ে শিশুর জন্ম বনাম অস্ত্রপচার নির্ভরতা সিজার বৃদ্ধির ছায়ায় হারিয়ে যাচ্ছে স্বাভাবিক জন্মলাভ (২)
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












