ইলমে তাছাউফ
কামিল শায়েখ উনার ছোহবত মুবারকের গুরুত্ব ও ফযীলত (৮)
, ২৮ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৪ রবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ০৮ আশ্বিন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) ইলমে তাছাউফ
যেটা আফদ্বালুল আউলিয়া হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন-
المكتوب نصف الملاقة
অর্থাৎ “চিঠি হচ্ছে অর্ধেক সাক্ষাৎ। ”
একবার উনার এক মুরীদ উনাকে চিঠি লিখেছিলেন। হে আমার শায়েখ হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি! আপনি তাগিদ করেছেন আপনার ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করার জন্য। কিন্তু আমার পক্ষে তো সেভাবে ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করা সম্ভব হচ্ছে না। তাহলে আমি কি করবো? তখন হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছিলেন, “আমার যে চিঠিটা তোমার কাছে রয়েছে সেটা তুমি পাঠ করো। সে চিঠি পাঠ করলেই আমার অর্ধেক ছোহবত তোমার হাছিল হয়ে যাবে। ” সুবহানাল্লাহ!
ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করে শয়তান থেকে উদ্ধার এবং ঈমানের সাথে ইন্তেকাল হওয়ার ওয়াক্বিয়া:
ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করা প্রসঙ্গে একটি ওয়াক্বিয়া কিতাবে উল্লেখ করা হয়। মশহুর ওয়াক্বিয়া সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো-
মানতিকের ইমাম, আল্লামা হযরত ফখরুদ্দীন রাযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জানেন, শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু। সে সকলকেই মৃত্যুর সময় ধোঁকা দিয়ে ঈমানহারা করার অপচেষ্টা করে। সেজন্য মানতিকের ইমাম তিনি ইবলিশের সাথে বাহাস করার উদ্দেশ্যে একশত থেকে এক হাজার দলীল প্রস্তুত করলেন। যাতে করে তিনি ইবলিশ শয়তানের সাথে বাহাস করে তাকে পরাজিত করতে পারেন। আর ইবলিশ যাতে উনাকে মৃত্যুর সময় ওয়াসওয়াসা দিতে না পারে। সত্যিই দেখা গেলো উনার ইন্তেকালের সময় ইবলিশ হাজির হলো। সে মহান আল্লাহ পাক দু’জন দাবি করে অনেক যুক্তি তর্ক করতে লাগলো। মানতিকের ইমাম তিনিও একের পর এক দলীল উপস্থাপন করতে লাগলেন যে মহান আল্লাহ পাক তিনি এক ও অদ্বিতীয়।
তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, ইজমা শরীফ ও ক্বিয়াস শরীফ থেকে দলীল দিতে লাগলেন। দেখা গেলো ইবলিশ একে একে উনার সমস্ত দলীলগুলো খ-ন করে দিলো। মানতিকের ইমাম হযরত ফখরুদ্দীন রাযী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ১০০ থেকে ১০০০ দলীল সব শেষ হয়ে গেলো তিনি এদিক সেদিক দেখছেন; উনার তো আর কোন দলীল নেই তাহলে তিনি এখন কি করে ইবলিশের ওয়াসওয়াসা থেকে রক্ষা পাবেন।
মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে কবুল করেন তাকে কোন না কোনভাবে হিফাযত করেন। এখানেও তার ব্যতিক্রম হলো না। এদিকে মানতিকের ইমাম হযরত ফখরুদ্দীন রাযী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার শায়েখ হযরত নাজিমুদ্দীন কোবরা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হাজার হাজার মাইল দূর থেকে সব কিছুই লক্ষ্য করছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি উনার অযুর পানি নিক্ষেপ করে বললেন, “হে ফখরুদ্দীন তুমি বলো, বিনা দলীলে মহান আল্লাহ পাক তিনি এক। ” অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি এক ও অদ্বিতীয় এজন্য কোন দলীল প্রয়োজন নেই। তখন উনার এ কথা যখন পৌঁছলো তখন ইবলিশ সেখান থেকে পালিয়ে গেলো এবং বললো আপনার মতো এরকম হাজার হাজার আলিমকে ইবলিশ গোমরাহ করেছে। আজকে শুধু আপনি আপনার শায়েখ উনার উছীলায় বেঁচে গেলেন। তখন হযরত ফখরুদ্দীন রাযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ঈমান উনার সাথে ইন্তেকাল করলেন। সুবহানাল্লাহ!
ফায়দা: উক্ত ওয়াক্বিয়াটি অনেক লম্বা এখানে সংক্ষিপ্তাকারে তুলে ধরা হয়েছে। এ ঘটনা থেকে মূল যে শিক্ষা তা হলো- হযরত ফখরুদ্দীন রাযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অনেক বড় আলিম, অনেক উচু স্তরের তাফসীরবিদ, তিনি মানতিকের ইমাম এতো কিছু হওয়া সত্বেও তিনি ইবলিশের সাথে বাহাস করে বিজয়ী হতে পারলেন না। কিন্তু উনার শায়েখ হযরত নাজিমুদ্দীন কোবরা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কথা মুবারক সেখানে পৌঁছার সাথে সাথে ইবলিশ সেখান থেকে পালিয়ে গেলো আর তিনি ঈমান নিয়ে ইন্তেকাল করলেন। মূলত তিনি যে হক্কানী-রব্বানী আল্লাহওয়ালা উনার হাত মুবারকে বাইয়াত গ্রহণ করেছিলেন এবং ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করেছিলেন যার কারণে এই নিয়ামত মুবারক লাভ করতে সক্ষম হয়েছেন।
তাহলে আমাদেরকে চিন্তা ফিকির করতে হবে বাইয়াত গ্রহণ করা এবং ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করার ফযীলত ও গুরুত্ব কত বেমেছাল। (চলবে)
-মুহম্মদ হুসাইন নাফে’।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার প্রতি ইমামুল মুসলিমীন, হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার চূড়ান্ত আদবের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হক্কানী রব্বানী আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের শানে সবসময় সার্বিকভাবে হুসনে যন পোষণ করা আবশ্যক
১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কৃপণতা জঘণ্যতম বদ খাছলত
১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৭) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
শায়েখ বা মুর্শিদ কিবলা উনার সাথে তায়াল্লুক-নিসবত ব্যতীত মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সাথে তায়াল্লুক-নিসবত মুবারক রাখার দাবি করা অবান্তর
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (১১)
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৬) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আদব রক্ষা করার গুরুত্ব
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
কৃপণতা জঘণ্যতম বদ খাছলত
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাছাওউফ উনাদের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৫) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৪) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












