মন্তব্য কলাম
কাফির মুশরিকদের এজেন্টরা চাচ্ছে ছলে বলে কৌশলে এদেশের মুসলমানদেরকে হারাম শুকরের গোশত, হিমায়িত গোশত খাওয়াতে। এদের এজেন্ট রয়েছে মন্ত্রনালয়ে, ব্যবসায়ীদের মাঝে এমনকী হোটেল- রেস্তোরা মালিকদের মাঝেও। সবার আগে বাংলাদেশ দাবীদার সরকার- কোনোমতেই গোশত আমদানীর অনুমতি দিয়ে দেশীয় খামার ও খামারীদের ধ্বংস করতে পারে না।
, ১৭ মে, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মন্তব্য কলাম
দেশীয় বাজারে গরুর গোশতের উচ্চমূল্য, সরবরাহ সংকট ও পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে রেস্তোরাঁ ব্যবসা চাপে পড়েছে বলে দাবি করেছেন রেস্তোরাঁ মালিকরা। এ পরিস্থিতিতে বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিজেরাই বিদেশ থেকে গরুর গোশত আমদানির সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা। পাশাপাশি আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে কর-ভ্যাট কমানোসহ ১১ দফা দাবি তুলে ধরেছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।
গত ১০ মে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।
অথচ একই দিনে অর্থাৎ (১০ মে) সুখবর দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন,
আসন্ন ঈদুল আজহায় দেশে কুরবানিযোগ্য পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। এ বছর সম্ভাব্য চাহিদার বিপরীতে প্রায় ২২ লাখের বেশি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। ফলে কুরবানির পশুর কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই।
প্রসঙ্গত সারা বছরের চাহিদা মেটানোসহ কুরবানীতে দেশীয় গরুর এই যে সমৃদ্ধি বা সংখ্যাধিক্য যে সাফল্যের পেছনে মূলত: দেশীয় গরু খামারীদের প্রচেষ্টা এবং একনিষ্ঠতা বিশেষভাবে অবদান রেখেছে।
সংশ্লিষ্টরা তাই মনে করেন- গরুর গোশত আমদানি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ, উৎপাদনকারী, খামারি ও শিল্পসংশ্লিষ্টরা। তাই সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে সব সময় হিমায়িত গরুর গোশত আমদানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন দেশীয় গোশত উৎপাদনকারীরা। এজন্য তারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানিয়েছেন।
দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিদেশ থেকে হিমায়িত গরুর গোশত আমদানি-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা বর্তমান সরকারের কাছে পেশ করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়ন হলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দেশীয় খামারি, উৎপাদনকারী ও সংশ্লিষ্টরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শুধু তাই নয় পরিবেশ ও কৃষিতে এর প্রভাব পড়বে।
ডেইরি ও ক্যাটল শিল্প বাংলাদেশের একটি মৌলিক শিল্প। মৌলিক শিল্পে বিদেশি আমদানি নির্ভরতা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত রয়েছে গ্রামবাংলার কোটি পরিবার ও খামারিদের জীবন-জীবিকা।
অনেক শিক্ষিত যুবক ও নারী এ শিল্পে আত্মনিয়োগ করেছেন। যার ফলে গেল কোরবানির সময় দেশীয় গবাদিপশুর মাধ্যমে সম্পূর্ণ সম্ভব হয়েছে। বর্তমান অবস্থা বহাল থাকলে আগামীতে গরুর গোশত বিদেশেও রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে।
পর্যবেক্ষক মহল প্রশ্ন করছেন- যেখানে বেঙ্গল মিট গোশত রফতানি করে সেখানে আমদানি কেন?
দেশের অনেক শিক্ষিত বেকার যুবক বর্তমানে গরু মোটা তাজাকরণ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গরুর গোশত উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। অর্থনীতিতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। হিমায়িত গরুর গোশত আমদানি করা হলে খুচরা বাজারে দাম কমলেও দেশীয় খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী দেশের মানুষ শরিয়াহ মোতাবেক জবাই করা গরুর গোশত খেয়ে থাকে। বিধর্মীর দেশ থেকে গরুর গোশত আমদানি করা হলে জবাইয়ের পদ্ধতির কারণে তা হারাম বলে গণ্য হবে।
এদিকে বিদেশ থেকে আমদানীকৃত গোশত শুধু পচাই নয়, মরা গরুসহ হারাম শুকর, গাধা ও কুকুরের গোশতও দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ খাত শুধু গোশত উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি আত্মকর্মসংস্থান, দারিদ্র্য নিরসন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রায় ৫০ লাখ প্রান্তিক খামারি এবং ৩০ লাখেরও বেশি মৌসুমি খামারি কোরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে গবাদিপশু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের প্রায় সব উৎপাদনশীল খাতগুলোই বর্তমানে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে। কিন্তু শুধুমাত্র উপযুক্ত নীতিমালা ও গুটিকয়েক সমস্যা-সিন্ডিকেট অপতৎপরতার কারণে এসব খাতের উপযুক্ত সুফল থেকে দেশের মানুষ বরাবরের মতোই অন্ধকারে থেকে যায়। আর দেশের গো-খাতটিও এই সমস্যায় পতিত।
এক্ষেত্রে গো-খাদ্যের দাম কমানোর জন্য সরকারের তরফ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া উচিত। মাথা ব্যাথা বলে মাথা কাটাই উপশম নয়। গরুর গোশতের দাম বেশী হয়ে যায় বলে আমদানী সমাধান নয়। বরং এটা দেশ ও মুসলমান বিরোধী গভীর ষড়যন্ত্র। সবার আগে বাংলাদেশ দাবীদার সরকারের বিদেশ থেকে সবরকম গোশত আমদানি চিরতরে বন্ধ ঘোষণা করতে হবে।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
অপসংস্কৃতি রোধ করতে হলে কথিত ফ্যাশন হাউজগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উগ্র হিন্দুত্ববাদী ভারত এবং পতিত আওয়ামীলীগ চাচ্ছে বাংলাদেশে তথাকথিত জঙ্গী তৎপরতা প্রমাণ করতে।
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানকে ‘মুসলমানিত্ব’ বুঝতে হবে। ‘আশহাদু আন্না মুহম্মাদার রসূলুল্লাহ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাক্বীক্বীভাবে বলতে হবে ও আমলে আনতে হবে।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতি বছর শুধু অসুস্থতার কারণে প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রধানমন্ত্রী নিজেই ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেয়া শুরু করেছেন। বাতিল হয়েছে ‘রাষ্ট্রপতির’ সাথে ‘মহামান্য’ শব্দ ব্যবহারও।
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক ব্যয় গত দশকগুলোতে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি মূলত বেতন, স্থায়ী খরচ এবং চলমান পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সামরিক আধুনিকায়ন, সমরাস্ত্র ক্রয় এবং নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের জন্য মোট বাজেটের মাত্র ২-৪ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র পরিক্রমায় চললেই সে প্রজ্ঞা পাওয়া সম্ভব ইনশাআল্লাহ
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!!!!
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সরকারের ঋণের পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ কোটি টাকা
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












