মসজিদে সিসি ক্যামেরা!!
উলামায়ে ছু’দের বদ আমলই কি এর জন্য দায়ী নয়?
, ২৯ রবিউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৩ খমীছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ২২ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রি:, ০৬ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) আপনাদের মতামত
সম্প্রতি ঢাকার একটি মসজিদে নামাযের জন্য যাওয়া হলো। মসজিদে প্রবেশ করতেই আমি অত্যন্ত বিস্মিত হয়ে থমকে দাঁড়ালাম। কিন্তু মসজিদে আসা যাওয়া করা বহু মানুষের কারো মধ্যেই সামান্যতম অস্বাভাবিকতা দেখলাম না। এমনকি মসজিদে দাঁড়ি টুপি এবং লম্বা জামা পরিধান করা লোকদেরও নির্বিঘেœ ও নিশ্চিন্ত মনে আসা-যাওয়া দেখলাম।
হ্যাঁ পাঠক! সবার স্বাভাবিক চলাচলের মাঝেও আমার থমকে যাওয়ার কারণ ছিলো- মসজিদের প্রবেশমুখেই বসানো সিসি ক্যামেরা। কিছুুদিন আগে সংবাদ মাধ্যমের খবরে জানতে পেরেছিলাম- প্রশাসন কথিত সন্ত্রাসবাদ ঠেকানোর অজুহাতে মসজিদে মসজিদে সিসি ক্যামেরা লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু তখন ব্যাপারটিকে এত গুরুত্ব দিয়ে ভাবিনি। মনে করেছিলাম- গণতান্ত্রিক প্রশাসনতো এরকম উদ্ভট ও অযৌক্তিক কত কিছুই তো করার উদ্যোগ নিয়েছে, কিন্তু সবকিছুতো আর বাস্তবে করতে পারেনি। কারণ দেশের মানুষের বাধা, আপত্তি ও প্রতিবাদ ইত্যাদি।
কিন্তু ‘মসজিদে সিসি ক্যামেরা’ বসানোর মতো এমন একটি চরম ইসলামবিরোধী ও ইসলাম অবমাননাকর বিষয় বাস্তবে দেখবো সেটা কল্পনাও করিনি। পবিত্র হাদীছ শরীফে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার ছাহিব নুরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হাজার হাজার বার ছবি তোলা, আঁকা, রাখা, দেখা ইত্যাদিকে অত্যন্ত কঠোর ও শক্তভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। এমনকি যেখানে ছবি থাকবে সেখানে মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত মুবারকও বর্ষিত হবে না -এটাও ঘোষণা দিয়েছেন। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার এত শক্ত ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার পরও কিভাবে মসজিদে সিসি ক্যামেরা বসানো হলো- এটা অত্যন্ত কঠিন চিন্তা ও ফিকিরের বিষয়।
পরক্ষণেই ভাবলাম- মসজিদ সংশ্লিষ্ট যে সকল খতীব-ইমাম-মুয়াজ্জিন রয়েছে তারা কি করে এখনো এই মসজিদে নামায পড়ানো জারি রেখেছে? ‘কোনো নামাযী ব্যক্তির আশেপাশে ছবি থাকলে নামায হয় না’ এই মাসয়ালাটি কি তাদের জানা নেই? যেখানে সিসি ক্যামেরা দিয়ে হাজার হাজার ছবি অনবরত তোলা হচ্ছে- সেখানে কি করে তারা নামাযের ইমামতি করে যাচ্ছে?
তাহলে তো এটাই স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে- মসজিদ সংশ্লিষ্ট ওই সকল খতীব-ইমাম-মুয়জ্জিনরাই প্রকাশ্য এই হারাম কাজের সাথে জড়িত। কারণ আমাদের এই দেশসহ বিশ্বজুড়েই উলামায়ে সূ’ ধর্মব্যবসায়ীরা অনবরত অহরহ ছবি তুলে যাচ্ছে। তারা সরাসরি নিজেরাই এই হারাম কাজের সাথে জড়িত থাকার কারণেই প্রশাসনকে মসজিদে সিসি ক্যামেরা বসানোতে বাধা দিতে পারেনি। নাউযুবিল্লাহ!
অথচ আজ যদি সকল ইমাম খতীবরা একত্রে সিসি ক্যামেরা বসানোর প্রতিবাদ করে, প্রতিবাদে সিসি ক্যামেরা বসানো মসজিদে নামায পড়া বন্ধ করে দেয়- তাহলে কেউই মসজিদে সিসি ক্যামের বসানোর সাহস পাবে না।
-রিয়াসাত পারভেজ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
উচ্চ আদালতে ‘ডেড ল’ বা অকার্যকর ঘোষিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০’ পুণঃবহালের অপচেষ্ঠা চলছে। এর মাধ্যমে পাহাড়কে উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা, ‘একদেশে দুই আইন’ ও পাহাড়ে রাজা-প্রজা প্রথা বহাল, বাঙ্গালী ও রাষ্ট্রের ভূমি অধিকার হরণ এবং সেনা প্রত্যাহার সহ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিচ্ছিন্নের গভীর ষড়যন্ত্র চলমান। উচ্চ আদালত, সেনাবাহিনী এবং সরকারের উচিত দেশবিরোধী এই চক্রান্ত ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া। (১)
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
একাত্তর-পরবর্তী লুণ্ঠন: বন্ধুত্বের আড়ালে ইতিহাসের এক ট্র্যাজিক অধ্যায়
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ে দ্বীনি অধিকারে হস্তক্ষেপ: অর্ধেক বেলা মসজিদ বন্ধ রাখা অনভিপ্রেত ও অগ্রহণযোগ্য
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বাগেরহাটে নওমুসলিম সোহাগের শাহাদাত এবং আমাদের বিবেকহীন নীরবতা
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ফুটপাতের হাড়কাঁপানো আর্তনাদ ও রাষ্ট্রের বিলাসিতা- উদ্বাস্তু শিশুদের কান্নায় কি পবিত্র আরশ উনার পায়া কাঁপছে না?
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে ২টি শ্রেণীকে আগে শুদ্ধ হতে হবে
১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মসজিদে সিসি ক্যামেরা!! উলামায়ে ছু’দের বদ আমলই কি এর জন্য দায়ী নয়?
০৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র শবে মিরাজের ছুটি বাধ্যতামূলক করা হোক
৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে ছিরাতুল মুস্তাক্বীম উনার ছহীহ তাফসীর (৩)
২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু কাফির-মুশরিকরা (৩)
২১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলমানদের উচিত- হাদীছ শরীফ অনুযায়ী সপ্তাহের বারসমূহ উচ্চারণ করা
১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রমাদ্বান মাসের পূর্বে বাজার উর্ধ্বমুখী কেনো? এর দায় কার?
১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












