ইলমে তাছাউফ
, ২৩শে জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২৯ সাদিস, ১৩৯২ শামসী সন , ২৬ নভেম্বর, ২০২৪ খ্রি:, ১১ অগ্রহায়ণ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) ইলমে তাছাউফ
পবিত্র ছোহবত মুবারক গ্রহণের ফাযায়িল-ফযীলত, গুরুত্ব-তাৎপর্য ও আবশ্যকতা
(পূর্বেপ্রকাশিতের পর)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ بَـهْذِ بْنِ حَكِيْمٍ عَنْ اَبِيْهِ عَنْ جَدِّهٖ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنِ اسْتَقْبَلَ الْعُلَمَاءَ فَقَدْ اِسْتَقْبَلَنِىْ وَمَنْ زَارَ الْعُلَمَاءَ فَقَدْ زَارَنِـىْ وَمَنْ جَالَسَ الْعُلَمَاءَ فَقَدْ جَالَسَنِىْ وَمَنْ جَالَسَنِىْ فَكَانَّـمَا جَالَسَ رَبِّـىْ وَفِىْ رِوَايَةٍ مَنْ زَارَ عَالِـمًا فَكَانَّـمَا زَارَنِـىْ وَمَنْ زَارَنِـىْ فَكَانَّـمَا زَارَ اللهَ وَمَنْ زَارَ اللهَ فَقَدْ غُفِرَ لَهٗ.
অর্থ : হযরত বাহয ইবনে হাকীম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পিতা থেকে, তিনি উনার পিতামহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণনা করেন, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি উলামায়ে হক্কানী-রব্বানীগণ উনাদেরকে অভ্যর্থনা বা সম্মান করলো সে মূলত আমাকেই অভ্যর্থনা বা সম্মান করলো এবং যে উনাদের মুবারক যিয়ারত লাভ (সাক্ষাৎ) করলো প্রকৃতপক্ষে সে আমারই পবিত্র যিয়ারত মুবারক লাভ করলো এবং যে উনাদের সাথে বসলো প্রকৃতপক্ষে সে আমার সাথে বসলো আর যে আমার সাথে বসলো সে মূলত খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সাথেই বসলো। অপর রেওয়ায়েতে বর্ণিত রয়েছে, “যে ব্যক্তি কোনো হক্কানী-রব্বানী আলিম, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী উনার যিয়ারত মুবারক করলো, সে প্রকৃতপক্ষে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যিয়ারত মুবারক করলো। আর যে ব্যক্তি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যিয়ারত মুবারক করলো সে প্রকৃতপক্ষে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে যিয়ারত মুবারক করলো। আর যে ব্যক্তি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার যিয়ারত মুবারক করলো খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি তাঁকে ক্ষমা করে দিবেন। সুবহানাল্লাহ! (কানযুল উম্মাল শরীফ, র্আ রাফিয়ী)
উক্ত আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের ব্যাখ্যায় একাধিক ঘটনা বর্ণিত রয়েছে যে, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার খালিছ ওলী চীশতিয়া খান্দান উনার বিশিষ্ট বুযুর্গ হযরত বাবা ফরীদুদ্দীন মাসউদ গঞ্জে শকর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, আল্লাহওয়ালা উনাদের ছোহবত মুবারক উনার কতটুকু ফায়দা রয়েছে। তিনি বলেন, হাজ্জাজ বিন ইউসুফ যে ব্যক্তি কাট্টা যালিম ছিল। সে তার যামানার ইমাম, মুজতাহিদ, আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের অনেকের উপর যুলুম করেছে। যেটা বলার অপেক্ষা রাখেনা। সকলে মনে মনে ধারণা করেছিলেন যে, হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ইন্তিকাল করলে সরাসরি জাহান্নামের অতল গহ্বরে তলিয়ে যাবে। হযরত বাবা ফরীদুদ্দীন মাসউদ গঞ্জে শকর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, হাজ্জাজ বিন ইউসুফ যখন ইন্তিকাল করলো তার কিছুদিন পর একজন বুযুর্গ ব্যক্তি তাকে স্বপ্নে দেখলেন। দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, “হে হাজ্জাজ! তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে তুমি খুব সুখ-শান্তিতে রয়েছ? এর পিছনে কি কারণ? তুমি যে যুলুম করেছ, অন্যায় অত্যাচার করেছ, আমরা তো মনে করেছিলাম তুমি জাহান্নামে যাবে, কিন্তু এখন দেখতে পাচ্ছি পবিত্র জান্নাত উনার মধ্যে তুমি বিচরণ করছো। এর পিছনে কি কারণ রয়েছে?” হাজ্জাজ বিন ইউসুফ জাওয়াব দিল, হে মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী! আপনি সত্যই বলেছেন।
যমীনে আমি বুঝতে পারিনি, অনেক যুলুম-অত্যাচার করেছিলাম। যার বদলা জাহান্নাম ব্যতীত কিছুই ছিলনা। কিন্তু তারপরেও আমার একটা আমল খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পছন্দ করেছেন। যার বিনিময়ে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার জীবনের সমস্ত গুনাহখতা মাফ করে জাহান্নাম না দিয়ে পবিত্র জান্নাত নছীব করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
জিজ্ঞাসা করা হলো, তোমার কোন্ আমল খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি কবুল করেছেন? হাজ্জাজ বিন ইউসুফ বললো, আমি একবার রাস্তা দিয়ে কোথাও যাচ্ছিলাম কিছু সৈন্য-সামন্ত নিয়ে। যেহেতু রাজকীয় ক্ষমতা ছিল, ক্ষমতার গর্বে গর্বিত হয়ে শান-শওকত প্রকাশ করে আমি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম। যাওয়ার সময় দেখতে পেলাম এক স্থানে কিছু লোক জমা হয়েছে। মনে হচ্ছে সেখানে ওয়াজ-নছীহত মুবারক হচ্ছে, আমি লোকদের জিজ্ঞাসা করলাম, এখানে কি হচ্ছে? লোকজন বললো, এখানে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার বিশিষ্ট ওলী, বিশিষ্ট তাবিয়ী, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত হযরত ইমাম হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নছীহত মুবারক করছেন। হাজ্জাজ বিন ইউসুফ বললো, তখন আমার মনে একটা চিন্তা হলো, উনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার খালিছ ওলী কি না- সেটা পরীক্ষা করতে হবে। যেহেতু হাজ্জাজ বিন ইউসুফের সাথে অনেক সৈন্য-সামন্ত ছিল, লোকজন ছিল, সে ক্ষমতার গর্বে গর্বিত ছিল, সে উদ্ধতভাবে ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত হযরত ইমাম হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সেই দরবার শরীফ উনার মধ্যে প্রবেশ করলো। হাজ্জাজ বিন ইউসুফ বললো, আমি যখন প্রবেশ করলাম আমি দেখতে পেলাম, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত হযরত ইমাম হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার চেহারা মুবারক উনার উপর কোনোই ছাপ পড়লো না। আমার শান-শওকত, রাজকীয় ক্ষমতা, আমার গর্ব, উদ্ধত অবস্থা, এটা উনাকে কোনো ক্রিয়া করলো না। আমি বুঝতে পারলাম, নিশ্চয়ই উনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার খালিছ ওলী হবেন। আমি আদবের সাথে বসলাম। কিছু নছীহত মুবারক শুনলাম। শোনার পর মনে মনে ফিকির করলাম, নিশ্চয়ই উনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার খালিছ ওলী। সেই খেয়ালে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বতে, সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের লক্ষ্যে, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার খালিছ ওলী ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত হযরত ইমাম হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার হাত মুবারক মাঝে চুম্বন করলাম।
সেই চুম্বনের ওসীলায় খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে মৃত্যুর পর ডেকে বললেন, হে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ! তুমি যে যুলুম করেছ, অন্যায়-অত্যাচার করেছ, এর বদলা জাহান্নামে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু আমার বিশিষ্ট ওলী, আমার মাহবুব, যিনি উনার যামানায় ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত ছিলেন, হযরত ইমাম হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে তুমি সম্মান করে, তা’যীম-তাকরীম করে, আমার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে উনার হাত মুবারক মাঝে চুম্বন করেছিলে সেই কারণে আমি তোমার গুনাহখতা মাফ করে জাহান্নামের পরিবর্তে পবিত্র জান্নাত দিয়ে দিলাম। সুবহানাল্লাহ!
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
কৃপণতা জঘণ্যতম বদ খাছলত
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাছাওউফ উনাদের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৫) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৪) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৩) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’জীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫২) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫১) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৪৯) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৪৯) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
২০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৪৮) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (৪৭)
১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র ছোহবত মুবারক গ্রহণের ফাযায়িল-ফযীলত, গুরুত্ব-তাৎপর্য ও আবশ্যকতা:
০৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












