সম্পাদকীয়-১
অন্তর্বর্তী সরকারের অব্যবস্থাপনায় হু হু করে বাড়ছে দারিদ্রদের সংখ্যা। দারিদ্রপীড়িত মানুষের দুর্ভোগ দূরীকরণে সত্তর তৎপর হোন।
, ২৬ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২২ রবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ০৬ আশ্বিন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) সম্পাদকীয়
সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
সরকারের স্বীকৃত হিসেবে বর্তমানে দারিদ্র্যের হার ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করছে। তবে প্রকৃত হিসাব অনেক বেশী। এর মধ্যে অতি দরিদ্র মানুষের হার হচ্ছে ১৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ। আরো অনেকেই আছে যারা দারিদ্র্য সীমার সামান্য উপরে অবস্থান করছে। সামান্য অভিঘাতেই তারা দারিদ্র্য সীমার নিচে চলে আসতে পারেন। দারিদ্র্য বৃদ্ধির এই প্রবণতা যে কোন বিচারেই উদ্বেগজনক।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘২০২৪ সালের দ্বিতীয়ার্ধে দেশের প্রায় ৪ শতাংশ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। স্বল্পদক্ষ শ্রমিকদের মজুরি কমেছে ২ শতাংশ এবং উচ্চদক্ষদের মজুরি হ্রাস পেয়েছে ০.৫ শতাংশ। এমনকি টানা ৪০ মাস ধরে প্রকৃত মজুরি ধারাবাহিকভাবে কমছে। ফলে প্রতি পাঁচটি পরিবারের মধ্যে তিনটি তাদের সঞ্চয় ভেঙে দৈনন্দিন খরচ চালাতে বাধ্য হচ্ছে। ’
এ বছর জুলাই মাসে খাদ্য পণ্যের মূল্যস্ফীতি ছিল ১৪ শতাংশ। এটা বিগত এক যুগের মধ্যে সর্বোচ্চ। খাদ্য মূল্যস্ফীতির অভিঘাত একটি পরিবারের আর্থিক অবস্থান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কর্মজীবীদের মধ্যে ছদ্ম বেকারের হার বাড়ছে। কর্মজীবীদের প্রায় ৩৮ শতাংশই পূর্ণঙ্গ কর্মসংস্থানে নেই। পিপিআরসি তাদের গবেষণায় উল্লেখ করেছে, গত তিন বছরে শহরের পরিবারগুলোর মাসিক আয় কমেছে কিন্তু ব্যয় বেড়েছে। ফলে দারিদ্র্যবস্থার উপর তা বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এক সময় যারা তুলনামূলক স্বচ্ছল অবস্থায় ছিলো তারাও এখন দারিদ্র্য সীমার নিচে নেমে যাবার ঝুঁকিতে আছে। সংস্থাটি তাদের গবেষণা প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করেছে, দেশে ৮০ শতাংশ পরিবার তাদের উপার্জন দিয়ে সংসারের খরচ বাবদ যে ব্যয় হয় তা পূরণ করতে পারছে না।
জনসংখ্যার সবচেয়ে নিচের দিকে থাকা ৪০ শতাংশ পরিবারের মাসিক গড় আয় হচ্ছে ১৪ হাজার ৮৮১ টাকা। আর একই পরিবারের মাসে ব্যয়ের পরিমাণ হচ্ছে ১৭ হাজার ৩৮৭ টাকা। মধ্যবর্তী অবস্থানে থাকা ৪০ শতাংশ পরিবার গড়ে প্রতি মাসে আয় করে ২৮ হাজার ৮১৮ টাকা। আর তাদের ব্যয়ের পরিমাণ হচ্ছে ২৯ হাজার ৭২৭ টাকা। ৫২ শতাংশ পরিবার তাদের আর্থিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য কোন না কোনভাবে ঋণ গ্রহণ করছে। সবচেয়ে বিত্তবান ২০ শতাংশ পরিবার ভালো অবস্থায় রয়েছে। তাদের মাসিক আয় হচ্ছে গড়ে ৭৮ হাজার ৫০৩ টাকা। আর ব্যয়ের পরিমাণ হচ্ছে ৭০ হাজার ৭৭০ টাকা। গত তিন বছর ধরে অভ্যন্তরীণ বাজারে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করায় অধিকাংশ পরিবারের আয় কমে গেছে। এক বছর ধরে মানুষের প্রকৃত আয় ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আয় বাড়ছে না। যেমন ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতির গড় হার ছিল ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। একই সময়ে মজুরির হার ছিল ৮ দশমিক ১০ শতাংশ। একই বছর ডিসেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ। আর মজুরির হার ছিল ৮ দশমিক ১৪ শতাংশ। উচ্চ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মজুরি বৃদ্ধি না পাবার কারণে মানুষ সংসারের ব্যয় নির্বাহের ক্ষেত্রে হিমসমি খাচ্ছে।
সঙ্গতকারণেই সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষেরও এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি আমরা। দারিদ্রপীড়িত মানুষের দুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে, এমনটিই আমাদের প্রত্যাশা।
ছহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাধারণ প্রসব প্রক্রিয়ায় সরকারের শুভবুদ্ধি তখন শুদ্ধ হবে যখন সিজার সিন্ডিকেটকে সরকার শক্ত হাতে নির্মূল করতে পারবে
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
৬০ হাজার কোটিতেও ঢুকছে বন্যার পানি বছরে ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের রফতানির সম্ভাবনার সব বাধা দূর করে সোনালী সমৃদ্ধি এনে সর্বনাশা ঋণের খপ্পর থেকে দেশকে বাচাতে সরকারকে সক্রিয় হতে হবে।
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সব সরকারের আমলেই নেয়া পানিবদ্ধতা নিরসনের সব টাকা পানিতেই যায়।
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়ার হালাল পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ সাড়া দিতে হবে
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
চায়ের কাঙ্খিত উৎপাদন বৃদ্ধিতে অন্য সব ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সমতলেও চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে।
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কিন্তু বর্তমান সরকার জনগণের মালিকানা থেকে অন্যায্যভাবে সেবককে বাড়তি অর্থ দিচ্ছে। বেতন-ভাতা বাড়াচ্ছে ১৪০%। এই বৈষম্য ও অন্যায় সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বিরোধী।
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদু শাবাবী আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম সিবতু রসূল আছ ছানী আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
১২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল আশিরাহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত নিসবাতুল আযীম শরীফ দিবস। সুবহানাল্লাহ! ও সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক তথা পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ! এবং মুজাদ্দিদে যামান সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্বী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
১১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ব্যর্থ ও.আই.সির বিপরীতে মুসলিম দেশগুলো নিয়ে সামরিক জোট গঠনের জন্য ইরানের আহবানকে গুরুত্বের সাথে সাড়া দিতে হবে।
১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মসজিদুল আকসাকে পুরো মুসলমান শূন্য করতে চাচ্ছে ইহুদী-খ্রীষ্টানরা
১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নীরব এই মহামারী নিরসনে সরকারের নিস্ক্রিয় ভূমিকা বরদাশতযোগ্য নয়।
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












