মন্তব্য কলাম
অনলাইনে জুয়ার ফাঁদ, নিঃস্ব লাখ লাখ মানুষ অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বিকার প্রশাসনের ব্যর্থতায় অনলাইন জুয়ায় দেশের প্রায় কোটি মানুষ জড়িত মারাত্মক অপরাধে জড়াচ্ছে অনলাইন জুয়ায় আসক্তরা অনলাইনে জুয়ায় ছোট ছোট বাজির টাকা দিন শেষে একটি বড় অঙ্কের অর্থ হয়ে দেশ থেকে ডলারের মাধ্যমে পাচার হচ্ছে প্রতিদিন এসব খেলা স্বাভাবিক গেমের মতো হওয়ায় প্রকাশ্যে খেলা হলেও আশপাশের মানুষ তা বুঝতে পারেন না
কেবলমাত্র ইসলামী মূল্যবোধের উজ্জীবনেই জুয়া বন্ধ সম্ভব ইনশাআল্লাহ
, ২০ রবিউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৪ খমীছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৩ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রি:, ২৯ আশ্বিন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) মন্তব্য কলাম
সহজলভ্য অ্যাপ বা ব্রাউজারের মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তি স্মার্টফোন ব্যবহার করে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। লেনদেন হয় মোবাইল ব্যাংকিং-বিকাশ, নগদ, রকেটের মাধ্যমে। প্রলোভন দেখাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও প্রচার করা হয়, যেখানে কয়েকগুণ লাভ দেখানো হয়। শুরুতে সামান্য জিতলেও পরে সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে খেলোয়াড়রা।
অনলাইন জুয়ার আসক্তি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দ্রুত ছড়াচ্ছে। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শ্রমজীবী মানুষও এই ফাঁদে জড়াচ্ছে। পরিবারে অশান্তি, মানসিক অবসাদ, দাম্পত্য কলহ এমনকি অপরাধও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আসক্তি মাদকের চেয়েও ক্ষতিকর।
সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো- অনেক সাইট বিদেশ থেকে পরিচালিত হয়। চীন, ভারত, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড থেকে নিয়ন্ত্রিত এসব সাইটে বাংলাদেশের কিছু এজেন্ট কাজ করে। বছরে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হচ্ছে। এর ফলে অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হচ্ছে।
অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে টাকা পাচার হচ্ছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেছিলো, 'অনলাইন জুয়া নিয়ে আমরা মতবিনিময় করেছি। এটাতে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে আমাদের বিভিন্ন বয়সের ছেলেমেয়েরা। এমনকি অনেক বয়স্ক ও অবসরপ্রাপ্তও এর মধ্যে আসছে। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে আমরা দেখেছি ৫০ লাখ মানুষ কীভাবে যেন এই অবৈধ জুয়ার সাইটগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। '
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য এটা ছিল জালিম সরকারের মন্ত্রীর স্বীকৃত হিসাবে আসলে তখনই অন লাইন জুয়ারীর সংখ্যা ছিলো প্রায় কোটির ঘরে। আর বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বিকার প্রশাসন আর বিপর্যস্থ অর্থনীতিতে দেশে অনলাইন জুয়ারীর সংখ্যা এখন কোটিরও বেশী অতিক্রম করছে।
মোবাইলের ছোট পর্দায় লোভনীয় বিজ্ঞাপন কৌতূহল জাগিয়ে তরুণদের অনলাইন জুয়ার জালে ফাঁসাচ্ছে। জেতার উত্তেজনা মুহূর্তের আনন্দ দেয়, কিন্তু পরবর্তী সময় সব হারানোর হতাশা পরিবার ও ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করছে। অনেক যুবক সংসারের টাকা খরচ করছে, ঋণের বোঝা সামলাতে গিয়ে চুরি, ছিনতাই ও হত্যাকা-ের পথ বেছে নিচ্ছে।
ময়মনসিংহের ত্রিশালের রিয়াজ হোসেন রাজ এমনই এক উদাহরণ। অনলাইন জুয়ার নেশায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। টাকার জোগান দিতে ব্যর্থ বাবা মোহাম্মদ আলী (৭০) ও মা বানোয়ারা বেগমকে (৬০) গত বৃহস্পতিবার হত্যার পর ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখে। স্বজন ও এলাকাবাসী বলছেন, অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছেলে টাকা না পেয়ে বাবাকে কুপিয়ে ও মাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। অনলাইন জুয়া ও মাদক বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।
ফরিদপুরের সদর উপজেলার এক তরুণ বলে, অনলাইন জুয়ার খোঁজ পেয়েছিলো একটা অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। পরে সেই তাদের বন্ধুদেরও জুয়ার এই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসে। কারণ বন্ধুদের রেফার করার পর সে পেয়েছে বোনাস। এভাবে তারা একটি চক্রে জড়িয়ে পড়েছে। এখন চেষ্টা করেও বের হয়ে আসতে পারছে না। লালমনিরহাটের আরেক তরুণ বলেছে, অনলাইন জুয়া এক ধরনের নেশা। এখান থেকে বের হওয়া খুব কঠিন। আমি আসক্ত, চাইলেও ছাড়তে পারছি না। জিতি, হারি আবার খেলি। এখান থেকে বের হওয়া খুব কঠিন।
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, অনলাইন জুয়া একটি ডিজিটাল নেশা। জেতার উত্তেজনা ও হারার হতাশা যুবসমাজকে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করে অপরাধে ঠেলে দেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক অধ্যাপক বলেন, অনলাইন জুয়া মানসিক নির্ভরতায় রূপ নিলে দিনে অন্তত একবার না খেললে স্বস্তি মেলে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
পুলিশ জানায়, তাদের সাইবার মনিটরিং ইউনিট অবৈধ জুয়ার বিরুদ্ধে কাজ করছে। অনলাইন জুয়া পরিবার, তরুণ প্রজন্ম ও দেশের অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ হুমকি। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সহায়তায় সন্দেহজনক ওয়েবসাইট ও অ্যাপ ব্লক করা হচ্ছে।
ওয়ার্ল্ড গ্যাম্বলিং মার্কেট রিপোর্ট অনুযায়ী, অনলাইন জুয়ায় বাজারমূল্যের গ্রাফ ক্রমে ঊর্ধ্বমুখী। ২০২৪ সালে শুধু অনলাইন জুয়ার বাজারমূল্য ছিল ৭৮.৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রতিবছর ২০৩০ সালে অনলাইন জুয়ার বাজার হবে ১৫৩.৫৭ বিলিয়ন ডলার। প্রতিবছর ব্যাপ্তি ১১.৯% হারে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘরবন্দি মানুষ সময় কাটাতে মোবাইলে ব্যাপক হারে অনলাইন জুয়ার নেশায় জড়িয়ে পড়ে। এখন রাজধানীর অভিজাত এলাকা ও জেলা শহরের গ-ি ছাড়িয়ে প্রত্যন্ত গ্রামেও এই নেশা ছড়িয়েছে। তরুণ থেকে মধ্য বয়সীরাও জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়া অনলাইন বেটিং সাইটগুলোর মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে। ওয়ানএক্সবেট, বেটবাজডট৩৬৫, ক্রিকেক্স, বেট৩৬৫এনআই ও মসবেটসহ বিভিন্ন জুয়ার সাইটের টাকা পাচার হচ্ছে। চক্রগুলো হুন্ডি, ক্রিপ্টোকারেন্সিসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতি বছর কয়েক হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে। চক্রগুলোর দেশীয় এজেন্টদের মাঝেমধ্যে গ্রেপ্তার করলেও সাইটগুলো দেশের বাইরে থেকে পরিচালনা করায় মূলহোতাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ তেমন কেনো ব্যবস্থা নিতে পারে না।
অনলাইন ভেরিফিকেশন ও মিডিয়া গবেষণা প্ল্যাটফর্ম ডিসমিসল্যাব। এই ডিসমিসল্যাবের সম্প্রতি এক গবেষণা বলছে, ১১টি সরকারি ওয়েবসাইটে তিন হাজারের বেশি বেটিং ওয়েবপেজের সন্ধান পাওয়া গেছে। বাংলাদেশে সর্বাধিক সার্চ হয় জেটবাজ ডটকম, এরপর জয়া৯ ডটকম ও ক্রিকেস ডটটিভি।
জুয়ায় আসক্তি থেকে খুনোখুনি : রাজধানী ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া হত্যাকা-, ছিনতাই ও চুরি অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। গত ২৬ মে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত মাহবুব নামের এক যুবক স্ত্রী আকলিমা আক্তারকে (১৯) হত্যা করেন। নিহতের ভাই সুমন বলে, তার বোনজামাই অনলাইনে জুয়ায় আসক্ত ছিলো। ঠিকমতো কাজও করতো না। সংসারে অভাব-অনটন শুরু হয়। অনলাইন জুয়া খেলতে বাধা দেওয়ায় আকলিমাকে হত্যা করা হয়। গত ২৮ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে ক্রিকেটে ‘অনলাইন জুয়া নিয়ে’ বিরোধে কথা কাটাকাটির জেরে আল আমিনের (৩৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত ১৩ আগস্ট বগুড়ায় অনলাইনে জুয়া খেলার টাকা লেনদেন দ্বন্দ্বে রাসেল আহমেদ (২৮) নামের এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে।
জুয়ার নেশা থেকে আত্মহত্যা : অনলাইন জুয়ায় হেরে যাওয়া অনেক যুবক মানসিক চাপের মধ্যে পড়ে। জুয়ার কারণে চুরি-ডাকাতির পাশাপাশি নিঃস্ব হয়ে হতাশায় আত্মহননের ঘটনাও ঘটছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর নোয়াখালী সদর উপজেলার অনলাইন জুয়ায় আসক্ত সোহাগ (২৮) গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে। স্বজনরা বলছে, তিনি ধারদেনা করে জুয়া খেলে আসছিলো। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আবারও জুয়া খেলতে শুরু করে। এরপর চাপে পড়ে আত্মহত্যা করে। গত ১২ সেপ্টেম্বর রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় অনলাইন জুয়ায় সর্বস্বান্ত আসিফ আলী (২০) কীটনাশক পানে আত্মহত্যা করেছে। গত ২৯ জুলাই যশোরে অনলাইন জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে হৃদয় (১৮) ও মনিরুল ইসলাম (৩০) আত্মহত্যা করে।
যেভাবে কাজ করে জুয়ার এজেন্টরা : জুয়ার দেশীয় মাস্টার এজেন্টরা তাদের সাব-এজেন্ট নিযুক্ত করে। সাব-এজেন্টরা মানুষকে শেখায় কীভাবে অনলাইনে জুয়ার অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। কীভাবে খেলে লাভ করা যায়। তারপর গ্রাহকরাই তখন প্রচার করে। এভাবে একে একে আস্তে আস্তে গ্রাহক বাড়তে থাকে। একজন এজেন্ট জানায়, একজন জুয়াড়ি জুয়া খেলতে যোগাযোগ করে একজন সাব-এজেন্টের সঙ্গে। জুয়াড়ি হলে তার অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া হয়। টাকার বিনিময়ে সাব-এজেন্ট জুয়াড়ির অ্যাকাউন্টে ডিজিটাল মুদ্রা জমা হয়। ডিজিটাল মুদ্রা সাব-এজেন্ট পায় মূলত মাস্টার এজেন্টের কাছ থেকে। মাস্টার এজেন্ট এই টাকা পাঠিয়ে দেয় দেশের বাইরে থাকা সুপার এজেন্টের কাছে। ১৫ কিংবা ৩০ সেকেন্ড সময় নিয়ে চলা প্রতিটি গেমে হাজার হাজার লোক জুয়া ধরে। এভাবে প্রতি ঘণ্টায় জুয়ায় কোটি কোটি টাকা চলে যায় দেশের বাইরে।
মাঠের খেলায় জুয়ার জোয়ার : প্রতিদিন ফুটবল ও ক্রিকেটসহ বিভিন্ন মাঠের খেলায় কোটি টাকার জুয়া হচ্ছে। বিশ্বকাপ ক্রিকেট, ফুটবল, জাতীয় লিগ, ইউরোপ নেশন্স কাপ-উয়েফা, স্পেনিশ লিগ, কোপা আমেরিকা, বিপিএল টুর্নামেন্টে বিনোদনের চেয়ে এখন জুয়া খেলায় মত্ত থাকে বাজিকররা। ওয়ান এক্স বেট, বেট থ্রি-সিক্সটি-ফাইভ, মোস্ট বেট বিডি, ৯ উইকেটসহ কয়েকশ সাইটে জুয়া চলছে। লেনদেন হচ্ছে বিকাশ, নগদ, রকেট বা ভিসা, মাস্টারকার্ডে। জুয়ার অর্থ ক্রেডিট কার্ড, ই-ব্যাংকিং ও হুন্ডির মাধ্যমে পাচার হচ্ছে।
জুয়া বন্ধে সরকারি অপ্রতুল পদক্ষেপ : গত কয়েক বছরে প্রায় ৫ হাজার জুয়ার সাইট বন্ধ করেছে সরকার। কিন্তু বিদেশ থেকে পরিচালিত জুয়ার সাইট এদেশে বন্ধ করলেও জুয়াড়িরা ভিপিএন বা অন্য উপায়ে ঠিকই সাইট ব্যবহার করে। জুয়া পরিচালনাকারী দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্র ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিজ্ঞাপন চালায়। সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয় ব্যক্তিদের ব্যবহার করছে প্রচারণায়। তবে অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সরকারের জোরালো পদক্ষেপ খুবই কম। জুয়ার বিজ্ঞাপন ও সেখানে প্রচার হওয়া মোবাইল নম্বর ধরে আসামিদের গ্রেপ্তারের পদক্ষেপও অপ্রতুল। জুয়ার ভয়াবহতা নিয়ে সরকারের সচেতনতামূলক প্রচারণাও নেই বললেই চলে।
বাবার আইডি দিয়ে জুয়ার অ্যাকাউন্ট
অনুসন্ধানে জানা যায়, শুধু ইমন একা নয়, ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সী অন্তত পাঁচজন কিশোর ফেঁসে আছে অনলাইন জুয়ার ফাঁদে। কেউ স্পোর্টস বেটিং সাইটে, কেউ ক্রেজি টাইম নামে অনলাইন লাইভ গেমে, আবার কেউবা লুডুর জুয়ায় আসক্ত। তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর নয় এমন বহু কিশোর এই অনলাইন জুয়ায় সব হারাচ্ছে। এটা প্রচলিত জুয়ার চাইতে আলাদা হওয়ায় প্রথমে কেউ বুঝতেই পারে না। তবে যতক্ষণে বুঝতে পারে, ততক্ষণে আটকে যায় টাকার নেশায়। জুয়া খেলে লাভবান হয়েছে- এমন তথ্য দিতে পারেনি তাদের কেউই।
নারায়ণগঞ্জ শহরের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশতিয়াক মায়ানের (১৭) প্রিয় খেলা ফুটবল। মেসির বর্তমান ক্লাব ইন্টার মিয়ামির খেলা টিভিতে না দেখালেও, কোন সাইটে খেলা দেখা যাবে তা সে ভালোই জানে। অনলাইন দুনিয়ায় এক্সপার্ট হয়ে ওঠা মায়ানও জড়িয়েছে ওয়ানএক্স নামের স্পোর্টস বেটিং সাইটে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিজ্ঞাপন থেকেই এই সাইটে যুক্ত সে। বাবার আইডি কার্ড ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট খুলেছে। ‘ম্যাচ প্রেডিকশন’ বেটিংয়ে এখন পর্যন্ত ২০ হাজার টাকারও বেশি নষ্ট করেছে। পরিবারে জানাজানি হওয়ার পর বিব্রত এই কিশোর। মা-বাবার সামনে কিংবা আত্মীয়-স্বজনের সামনে জুয়াড়ি হিসেবে কটাক্ষ শুনতে হচ্ছে মায়ানের।
মায়ানের পরিবার বেশ স্বচ্ছল। তার চাহিদা মেটাতে চাইলে ২/৩ হাজার টাকা দিতে দ্বিধাবোধ করতো না কেউ। সিগারেট কিংবা প্রকাশ্য বাজে অভ্যাস না থাকায় পরিবার বিশ্বাস করতো তাকে। কিন্তু অনবরত বাজিতে টাকা হারাতে থাকায় ঘর থেকে টাকা সরাতে শুরু করে সে। বিষয়টি তার মা টের পেতেই বেরিয়ে আসে অনলাইন বেটিংয়ে আসক্তির বিষয়টি।
কৌতূহলী তরুণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের মানুষ আকৃষ্ট হচ্ছেন বিভিন্ন জুয়ার সাইটে।
অনলাইন জুয়া/বেটিং ও হুন্ডির মাধ্যমে অর্থপাচার রোধসহ সব ধরনের অর্থপাচার রোধকল্পে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন-প্রয়োগকারী সংস্থা একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ব্যক্তিরা বলছে, এসব খেলা স্বাভাবিক গেমের মতো হওয়ায় প্রকাশ্যে খেলা হলেও আশপাশের মানুষ তা বুঝতে পারে না।
জুয়া বন্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর নানা তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোরও উদ্যোগ নিতে হবে। জুয়া বন্ধে ইসলামী মূল্যবোধের ব্যাপক বিস্তার করলে এবং বাস্তবায়ন করলেই মূলত সফলতা পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুসলমানকে ‘মুসলমানিত্ব’ বুঝতে হবে। ‘আশহাদু আন্না মুহম্মাদার রসূলুল্লাহ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাক্বীক্বীভাবে বলতে হবে ও আমলে আনতে হবে।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতি বছর শুধু অসুস্থতার কারণে প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রধানমন্ত্রী নিজেই ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেয়া শুরু করেছেন। বাতিল হয়েছে ‘রাষ্ট্রপতির’ সাথে ‘মহামান্য’ শব্দ ব্যবহারও।
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক ব্যয় গত দশকগুলোতে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি মূলত বেতন, স্থায়ী খরচ এবং চলমান পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সামরিক আধুনিকায়ন, সমরাস্ত্র ক্রয় এবং নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের জন্য মোট বাজেটের মাত্র ২-৪ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র পরিক্রমায় চললেই সে প্রজ্ঞা পাওয়া সম্ভব ইনশাআল্লাহ
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!!!!
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সরকারের ঋণের পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ কোটি টাকা
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
তবে কি সাবেক সরকারের অসমাপ্ত ষড়যন্ত্রের সমাপনীর পথেই হাঁটতে চাইছে বর্তমান সরকার?
০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুসলিম দেশগুলোর উচিৎ মক্কা চুক্তিকে আরো বিশুদ্ধ ও বিস্তৃত করা যাতে ভারতের গোস্বা এত বাড়ে যে তাদের গোস্বার অনলেই তারা জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












