তাওবাতুন নাছূহা উনার পরিচিতি
তাওবাতুন নাছূহা ঐ তওবাকে বলা হয় যা অন্তর থেকে একাগ্রতার সহিত ও একনিষ্ঠভাবে করা হয়। তবে তাওবাতুন নাছূহা হওয়ার জন্য তিনটি শর্ত থাকা আবশ্যক।
(১) গুনাহ্ থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকা এবং তা পরিপূর্ণরূপে পরিত্যাগ করা।
(২) কৃত গুনাহের জন্য অন্তর থেকে অনুতপ্ত হওয়া এবং অনুশোচনা প্রকাশ করা।
(৩) আগামীতে গুনাহ্ না করার প্রতি দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হওয়া।
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে ‘তাওবাতুন নাছূহা’:
যিনি খালিক্ব, মালিক্ব, রব, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহাসম্মানিত কিতাব কালামুল্লাহ শরীফ উন বাকি অংশ পড়ুন...
এই সম্মানিত ও পবিত্র ১৮ খানা আয়াত শরীফ উনাদের অনেক তাফসীর অর্থাৎ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ রয়েছে। এখানে আক্বাইদের অনেক মাসয়ালা-মাসায়েল রয়েছে। সুবহানাল্লাহ! নি¤েœ সংক্ষিপ্ত তাফসীর মুবারক উল্লেখ করা হলো-
সংক্ষিপ্ত তাফসীর মুবারক:
প্রথমত যেটা বলা হচ্ছে-
وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى
ক্বসম তারকা সমূহের। যে তারকাগুলো তিনি অতিক্রম করে চলে গেলেন। যেগুলো অস্তমিত হয়ে গেলো। যেগুলো নিচে পড়ে গেলো। তিনি তারকাগুলো অতিক্রম করে চলে গেলেন। অর্থাৎ সম্মানিত ও পবিত্র আরশে আযীম শরীফ-এ তাশরীফ মুবারক নিলেন। সুবহানাল্লাহ!
مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَى
তোমাদের যিনি রসূ বাকি অংশ পড়ুন...
এরপর যিনি খ্বালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, আপনার তো অনেক শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরও অনেক শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত। এখানে প্রথমে মহাসম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান-মান প্রকাশ করে, অতপর উনাদের শান-মান প্রকাশ করলেন। প্রথমে বললেন কি?
تُرْجِي مَنْ تَشَاءُ مِنْهُنَّ وَتُؤْوِي إِلَيْكَ مَنْ تَشَاءُ
আপনি যাকে ইচ্ছা দূরে রাখতে পারেন, যাকে ইচ্ছা আপনি নিকটে রাখতে পারেন এটা আপনার ইখতিয়ার। এখানে আরেকটা বিষয় বলা হচ্ছে, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবী বাকি অংশ পড়ুন...
নিয়ত খালিছ বা বিশুদ্ধ হওয়া ফরয:
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
مَنْ كَانَ يُرِيْدُ حَرْثَ الْاٰخِرَةِ نَزِدْ لَهٗ فِي حَرْثِهِ ۖ وَمَنْ كَانَ يُرِيْدُ حَرْثَ الدُّنْـيَا نُـؤْتِهٖ مِنْـهَا وَمَا لَهٗ فِي الْاٰخِرَةِ مِنْ نَّصِيْبٍ
অর্থ: যে ব্যক্তি আখিরাতের ফসল কামনা করে তথা মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের জন্য আমল করে আমি তার ফসল তথা নিয়ামত বাড়িয়ে দেই। অর্থাৎ দুনিয়া ও আখিরাতের উভয় নিয়ামতে সমৃদ্ধশীল করি। আর যে ব্যক্তি কেবল দুনিয়ার ফসল তথা সম্পদ-সম্মান কামন বাকি অংশ পড়ুন...
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَلاَ تَقُولُواْ لِمَا تَصِفُ أَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ هَـذَا حَلاَلٌ وَهَـذَا حَرَامٌ لِّتَفْتَرُواْ عَلَى اللّهِ الْكَذِبَ إِنَّ الَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللّهِ الْكَذِبَ لاَ يُفْلِحُونَ
অর্থ: তোমাদের মুখ থেকে সাধারণত যেসব মিথ্যা বের হয়ে আসে। তেমনিভাবে তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে বলো না যে, এটা হালাল এবং ওটা হারাম। নিশ্চয়ই যারা মহান আল্লাহ পাক উনার বিরুদ্ধে মিথ্যা আরোপ করে, তারা কখনোই কামিয়াবী হাছিল করতে পারবে না। নাঊযুবিল্লাহ! (সূরা নাহল শরীফ: আয়াত শরীফ ১১৬)
মূলত যারা হালালকে হারাম আর হারামকে হালাল করবে তা বাকি অংশ পড়ুন...
নাম মুবারক স্মরণের মাধ্যমে রোগ মুক্তি
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নাম মুবারক এবং উনার পবিত্র নূরুল মাগফিরাহ মুবারক অর্থাৎ পবিত্র হাত মুবারক উনার শিফা মুবারকের পবিত্র ই’জায শরীফ ইসলামী ইতিহাসে অত্যন্ত মহামূল্যবান। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের জীবনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপস্থিতি কেবলমাত্র আত্মিক উজ্জীবনই নয়, শারীরিক আরোগ্যের মাধ্যমও ছিলো।
এ প্রসঙ্গে একটি বিস্ময়কর পবিত্র ই’জায শরীফ উনার ব বাকি অংশ পড়ুন...
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَلِلَّهِ الْعِزَّةُ وَلِرَسُولِهِ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَلَـٰكِنَّ الْمُنَافِقِينَ لَا يَعْلَمُونَ
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক তিনি ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের জন্য ইজ্জত-সম্মান মুবারক, আর মু’মিনদের জন্যও। কিন্তু মুনাফিকরা তা জানে না। (পবিত্র সূরা মুনাফিকুন : আয়াত শরীফ ৮)
বাকি অংশ পড়ুন...
যিনি খ্বালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করতেছেন-
خَالِصَةً لَّكَ مِنْ دُونِ الْمُؤْمِنِينَ
এটা আপনার জন্য খাছ করা হয়েছে, অন্য কারো জন্য না। এটা আপনার জন্য খাছ। এটা আপনার শান-মান, মর্যাদা। আর অন্য কারো জন্য নয়। এখানে বলা হচ্ছে, প্রত্যেক পুরুষ মু’মিনকে বিয়ে করতে হলে তাকে মহর দিতে হবে, সাক্ষী থাকতে হবে, ওলী থাকতে হবে ইত্যাদি। এছাড়া সে বিয়ে করতে পারবে না। কিন্তু মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে কোনটাই প্রয়োজন নেই। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূল বাকি অংশ পড়ুন...
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَلَكِنَّ اللَّهَ حَبَّبَ إِلَيْكُمُ الْإِيمَانَ وَزَيَّنَهُ فِي قُلُوبِكُمْ وَكَرَّهَ إِلَيْكُمُ الْكُفْرَ وَالْفُسُوقَ وَالْعِصْيَانَ أُولَئِكَ هُمُ الرَّاشِدُونَ
অর্থ: কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাদের অন্তর মুবারকে সম্মানিত ঈমান উনার মুহব্বত মুবারক সৃষ্টি করে দিয়েছেন এবং আপনাদের অন্তর মুবারকসমূহ সম্মানিত ঈমান উনার দ্বারা সৌন্দর্যম-িত করে দিয়েছেন। পক্ষান্তরে কুফরী, শিরকী, নাফরমানী ইত্যাদির প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করে দিয়েছেন। (হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম) উনারাই সঠিক পথপ্রাপ্ত। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা হু বাকি অংশ পড়ুন...












