যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (৭)
, ১৮রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১০ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৮ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ২৪ পৌষ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
যাকাতযোগ্য মাল-সম্পদের বিধান :
যে যে সম্পদ বা মালের যাকাত ফরয : যাকাত মুসলমান উনাদের প্রায় যাবতীয় মালেই ফরয, যদি তার নিছাব ও শর্ত পূরণ হয়। যেমন- সোনা-রূপা, নগদ অর্থ, যমীনে উৎপন্ন ফসল ও ফলফলাদি, যমীনে প্রাপ্ত গুপ্ত ধন, খণিতে প্রাপ্ত খণিজ দ্রব্য, ব্যবসায়ের পণ্যদ্রব্য, গৃহপালিত পশু, যেমন- উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া এসকল প্রকার মালেই যাকাত ফরয। (আল হিদায়া)
মাল-সম্পদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর্তাবলী :
১. মাল নিছাব (শরীয়ত নির্ধারিত) পরিমাণ হওয়া।
২. উক্ত মাল নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য ও স্থাবর মালের অন্তর্ভুক্ত না হওয়া।
৩. উক্ত মালের উপর পূর্ণ এক বছর অতিক্রান্ত হওয়া।
৪. মালের উপর ব্যক্তির পূর্ণ মালিকানা থাকা।
৫. মুদ্রা, টাকা বা ব্যবসায়ের পণ্য হওয়া।
৬. পশুর যাকাতের ক্ষেত্রে পশু সায়িমা তথা বিচরণশীল ও বর্ধনশীল হওয়া।
৭. ফসলের যাকাত তথা ওশরের ক্ষেত্রে, যমীনে উৎপাদিত ফসল কম-বেশি যাই হোক; (বিনা শ্রম ও সেচে) তার দশ ভাগের এক ভাগ অথবা (শ্রম ও সেচে) বিশ ভাগের এক ভাগ যাকাত দেয়া, আমাদের সম্মানিত হানাফী মাযহাবে ফসলের কোন নিছাব নেই।
যে সব মাল-সম্পদের উপর যাকাত ওয়াজিব নয় :
১. বসবাসের ঘর। ২. পরিধেয় বস্ত্র।
৩. ঘরের আসবাবপত্র। ৪. আরোহণের পশু বা যানবাহন।
৫. কাজের জন্যে ভাতা প্রদত্ত গোলাম-বাঁদী অথবা খাদিম-খাদিমা।
৬. ব্যবহারের হাতিয়ার বা যুদ্ধাস্ত্র। ৭. হারানো বা লোকসান যাওয়া মাল।
৮. সমুদ্রে ডুবে যাওয়া মাল। ৯. ছিনতাই করে নিয়ে গেছে এমন মাল।
১০. মাটিতে পটুতে রাখা মাল-সম্পদ যার স্থান স্মরণে নেই।
১১. ঋণ প্রদত্ত মাল যা গ্রহীতা বারবার অস্বীকার করেছে।
১২. লুণ্ঠিত মাল। ১৩. ব্যবসার অযোগ্য মাল।
১৪. স্থানান্তরের অযোগ্য ও স্থাবর ধন-সম্পদ।
১৫. এক বছর পূর্ণ হয়নি এমন মাল।
১৬. ইয়াতীম, অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও গোলাম-বাঁদীর মাল।
অবৈধ মালের যাকাত নেই : হারাম কামাই দ্বারা অর্জিত মালের কোন যাকাত নেই। যদি কেউ যাকাতের নিয়ত করে যাকাত দেয় তাহলে তার কবীরা গুনাহ হবে। বৈধ মনে করলে কুফরী হবে। (ফিকাহর কিতাবসমূহ)
খনিজ দ্রব্যের যাকাত : যমীনে গচ্ছিত গুপ্তধন ও ধনভান্ডারকে ‘কানয্’ বলে। খনিতে জাত সোনা, রূপা প্রভৃতি খনিজদ্রব্যকে ‘মাআদিন’ (মা’দানিয়ত) বলে এবং উভয়কে এক সাথে ‘রেকায’ বলে। কিতাবে উল্লেখ আছে, কানযকেও এক পঞ্চমাংশ যাকাতরূপে দিতে হয়। তাকেই সাধারণতঃ খুমুস বলে। (গনীমতের পঞ্চমাংশকেও খুমুস বলে।)
মণি-মুক্তা ও মূল্যবান পাথরের যাকাতের বিধান :
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عن حضرت على كرم الله وجهه عليه السلام مرفوعا لا زكوة فى اللؤلؤ.
অর্থ : হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন যে, মণি-মুক্তা তথা মূল্যবান পাথরের যাকাত নেই।
উল্লেখ্য যে, উক্ত মণি-মুক্তা ও মূল্যবান পাথরের ব্যবসা করলে মালে তিজারত হিসেবে ছহিবে নিছাব হলে অবশ্যই যাকাত আদায় করতে হবে। (ইবনে আবী শায়বা, আল হিদায়া)
সোনা-চান্দি ও নগদ টাকার যাকাত :
সাধারণভাবে স্বর্ণ, চান্দি ও টাকা-পয়সা ইত্যাদি নিছাব পরিমাণ এক বছর কারো মালিকানাধীনে থাকলে, তার উপর যাকাত ফরয হয়।
বর্তমানে সোনা ও রূপায় কোনটি নিছাব হিসেবে উত্তম : যাকাত যে সময়ে ফরয হয় সে সময়ে সাড়ে ৭ তোলা স্বর্ণের মূল্য সাড়ে ৫২ তোলা রূপার মূল্যের সমান ছিল বিধায় সোনা ও রূপা উভয়টিই নিছাবের মূল সূত্রের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তাই এ সূত্রানুসারে উভয়ের যে কোন একটির মূল্য ধরলেই চলবে। তবে বর্তমানে যেহেতু রূপার মূল্য সোনার মূল্য অপেক্ষা অনেক কম। তাই সতর্কতা ও পরহেযগারী হলো কম মূল্যটি অনুযায়ী নিছাব গ্রহণ করা। অর্থাৎ সোনা ও রূপা উভয়টির মধ্যে যেটাকে নিছাব হিসেবে গ্রহণ করলে গরীবের উপকার হয় সেটাকেই নিছাব হিসেবে গ্রহণ করা উত্তম ও তাক্বওয়ার অন্তর্ভুক্ত। এতে একদিকে যেমন যাকাতদাতার (ইবাদাতকারীর) সংখ্যা বাড়বে অন্যদিকে গরীবের বেশি উপকার হবে; যা যাকাত, ছদাকাত ও ইনফাকের মৌলিক চাহিদা। এটাই ইমাম ও মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের গ্রহণযোগ্য মত। (মুখতাছরুল কুদূরী, আল হিদায়া)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৩)
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (১৫৫)
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারকসমূহ যারা পালন করেন উনাদেরকে অনেক ফযীলত দেয়ার সাথে সাথে তিনটি বিশেষ ফযীলত হাদিয়া করা হয়-
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ওলীআল্লাহ উনাদের সম্পর্কে বদ আক্বীদা পোষণ এবং উনাদের বিরুদ্ধাচরণের কারণে কঠিন পরিণতি
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৫)
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মসজিদের মধ্যে উচ্চস্বরে কথা বলা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












