পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে- তাওবাতুন নাছূহা (১)
, ১৯ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১১ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৯ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ২৫ পৌষ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
তাওবাতুন নাছূহা উনার পরিচিতি
তাওবাতুন নাছূহা ঐ তওবাকে বলা হয় যা অন্তর থেকে একাগ্রতার সহিত ও একনিষ্ঠভাবে করা হয়। তবে তাওবাতুন নাছূহা হওয়ার জন্য তিনটি শর্ত থাকা আবশ্যক।
(১) গুনাহ্ থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকা এবং তা পরিপূর্ণরূপে পরিত্যাগ করা।
(২) কৃত গুনাহের জন্য অন্তর থেকে অনুতপ্ত হওয়া এবং অনুশোচনা প্রকাশ করা।
(৩) আগামীতে গুনাহ্ না করার প্রতি দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হওয়া।
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে ‘তাওবাতুন নাছূহা’:
যিনি খালিক্ব, মালিক্ব, রব, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহাসম্মানিত কিতাব কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَـعْبُدُوْنَ أَوْ لِيَعْرِفُـوْنَ
অর্থ: “আমি জ্বীন এবং ইনসানকে একমাত্র আমার ইবাদত-বন্দেগী করার জন্য অর্থাৎ মুহব্বত-মা’রিফত অর্জন করার জন্য সৃষ্টি করেছি।” (পবিত্র সূরা জারিয়াত শরীফ: ৫৬)
এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মাধ্যমে স্পষ্টভাবে বুঝা যাচ্ছে, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মুহব্বত-মা’রিফত মুবারক অর্জন করার জন্য বান্দাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু শয়তান ও নফসের ওয়াসওয়াসার কারণে মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টির উদ্দেশ্য পূরণ করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যায় এবং ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় প্রতিনিয়ত গুনাহর কাজ সংঘটিত হয়। মূলত: শয়তান নিজে বিভ্রান্ত এবং সে মানুষকেও বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
قَالَ رَبِّ بِمَا أَغْوَيْـتَنِي لَأُزَيِّنَنَّ لَهُمْ فِي الْأَرْضِ وَلَأُغْوِيَـنَّـهُمْ أَجْمَعِينَ إِلَّا عِبَادَكَ مِنْـهُمُ الْمُخْلَصِينَ
অর্থ: “সে (শয়তান) বলে, হে আমার রব তায়ালা! আমি গোমরাহ্ হওয়ার কারণে আমি অবশ্যই দুনিয়াতে তাদের জন্য (মন্দ কাজগুলোকে) সৌন্দর্যমন্ডিত করবো এবং অবশ্যই তাদের সবাইকে গোমরাহ্ করবো। তাদের মধ্য থেকে আপনার মুখলাছ বান্দাগণ ব্যতীত।” নাউযুবিল্লাহ! (পবিত্র সূরা হিজর শরীফ: ৩৯-৪০)
এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, শয়তান মানুষকে গোমরাহ্ করার কসম করেছে এবং সে অবশ্যই মানুষদেরকে বিভিন্নভাবে গোমরাহ্ করার চেষ্টা করবে। কিন্তু সে মুখলাছ অর্থাৎ যাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইখলাছ দান করেছেন, যাদের অন্তর পবিত্র, গাইরুল্লাহ মুক্ত এবং অন্তরে যিকির থাকবে উনাদেরকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না।
উল্লেখ্য যে, শয়তানের ওয়াসওয়াসার কারণে কোনো গুনাহের কাজ সংঘটিত হলে তৎক্ষনাত মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।
উপরোল্লেখিত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যেও ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ الشَّيْطَانَ قَالَ وَعِزَّتِكَ يَا رَبِّي لَا أَبْرَحُ أُغْوِي عِبَادَكَ مَا دَامَتْ أَرْوَاحُهُمْ فِي أَجْسَادِهِمْ، قَالَ الرَّبُّ وَعِزَّتِي وَجَلَالِي لَا أَزَالُ أَغْفِرُ لَهُمْ مَا اسْتَغْفَرُونِي
অর্থ: “হযরত আবু সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই শয়তান বলে, হে আমার রব তায়ালা! আপনার ইয্যত-সম্মান মুবারক উনার কসম! আমি আপনার বান্দাদেরকে গোমরাহ্ করতে ক্ষান্ত হবো না, ছেড়ে দিবো না, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের দেহে প্রাণ থাকে। (অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের দেহে প্রাণ থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমি তাদেরকে গোমরাহ্ করতেই থাকবো) আর মহান রব তায়ালা তিনি বলেছেন, আর আমার ইয্যত ও জালালিয়াত মুবারক উনার কসম! আমি অবিরামভাবে তাদেরকে ক্ষমা করতে থাকবো, যতক্ষণ তারা আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে।” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমাদ: ১১২৩৭, মুসতাদারাকে হাকিম: ৭৬৭২, সিলসিতুছ ছহীহাহ্: ১০৪, আত্ তারগীব: ১৬১৭, সহীহ আল জামি’: ১৬৫০)
আর মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
نَـبِّئْ عِبَادِي أَنِّي أَنَا الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
“(হে আমার মহাসম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি আমার বান্দাদেরকে জানিয়ে দিন, নিশ্চয়ই আমি ক্ষমাশীল এবং পরম দয়ালু।” সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা হিজর শরীফ: ৪৯)
মূলত, মহান আল্লাহ পাক তিনি বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। বান্দা যদি যমীন থেকে আসমান পরিমাণ গুনাহ করে তারপর মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে ক্ষমা করে দেন। সুবহানাল্লাহ! (অসমাপ্ত)
-মুহম্মদ মুস্তাজীবুর রহমান ওয়াক্বী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
কোন মুসলমানের জন্য কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৬)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
যেখানে প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ক্বদরের রাত্রিতে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম যমীনে নাযিল হয়ে তিন ব্যক্তির উপর খাছ রহমত বর্ষণের দুআ করেন-
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আসমাউর রিজাল, জারাহ ওয়াত তা’দীল, উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
দুনিয়ার তাছীর বা ক্রিয়া থেকে প্রত্যেক ব্যক্তির সতর্ক থাকা আবশ্যক
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রোযা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












