ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
তাক্বওয়া হাছিল করার গুরুত্ব-ফযীলত (৪১)
, ১৫ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৯ সাদিস, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৭ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২২ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
যাই হোক, সেই ব্যক্তি বললেন, তাহলে চলুন হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার কাছে। উনি তো কাছেই আছেন। উনারা এসে বললেন, হুযূর! আপনি নাকি উনাকে প্রেরণ করেছেন উনার পছন্দমত একটা উট নেয়ার জন্য।
উনি বললেন যে, হ্যাঁ। তিনিতো প্রথম উটটা চান। উনি বললেন- দিয়ে দিন, তিনি যেটা চান। তিনি বললেন, তাহলে তো হুযূর এক হাজার উট চলে যাবে খাদ্যসহ। তিনি বললেন, চলে যাক। ঠিকই তিনি এক হাজার উট নিয়ে চলে গেলেন। হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি কোন চু-চেরা কিল-কাল করলেন না।
উনি বললেন, হে ব্যক্তি! আপনি কি জানেন, উনাকে কে প্রেরণ করেছেন? যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার কাছে সাহায্যের জন্য। উনাকে আমি কি করে ফিরাই। তিনি যদি আমাকে সহ চাইতেন আমাকে সহ আমি উনাকে দিয়ে দিতাম।
এখন চিন্তা ফিকির করেন, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি কতটুকু তাকওয়া, কতটুকু পরহেযগারী। মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যা বলেছেন চু-চেরা কিল-কাল করেননি, বলার সাথে সাথে সেটা তামীল করেছেন।
কাজেই হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের কতটুকু তাকওয়া, কতটুকু পরহেযগারী সেটা চিন্তা ফিকিরের বাইরে। মানুষ সেটা চিন্তা করতে পারবে না।
এজন্য মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, “আমার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে তোমরা খারাপ বলোনা, আমার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের এক মুদ বা অর্ধ মুদ (১৪ ছটাক সমান একমুদ, ৭ ছটাক অর্ধ মুদ ) গম দান করে, এতে যতটুকু ফযীলত হাছিল করতে পেরেছেন, তোমরা এক উহূদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ দান করলেও ততটুকু ফযীলত হাছিল করতে পারবে না। ”
আমার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের যে পরহেযগারী, যে তাকওয়া সেটা বলারই অপেক্ষা রাখে না।
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে কি ব্যবহার করেছেন, এ প্রসঙ্গে বলা হয়- হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ হযরত নবী-রসূল উনাদের সাথে যে আচার ব্যবহার করেছেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে বলা হয় তথা আকাঈদের কিতাবে লেখা হয়-
اَلْاَنْبِيَاءُ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ كُلُّهُمْ مُنَزَّهُونَ عَنِ الصَّغَائِرِ وَالْكَبَائِرِ وَالْكُفْرِ وَالْقَبَائِحِ
অর্থ: সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণ উনারা ছগীরা, কবীরা, কুফরী থেকে পবিত্র থেকে পবিত্রতম এবং কাবায়িহ অর্থাৎ অপছন্দনীয় কাজ থেকে উনারা পবিত্রতম। অপছন্দনীয় কাজ কাকে বলে অর্থাৎ যেটা তাকওয়ার খেলাফ সেটা থেকে উনারা পবিত্রতম।
যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার যারা বর্ণনাকারী (ছেক্বাহ রাবী) ছেক্বাহ রাবী কাদেরকে বলা হয়? সেটা আদালত আর জব্ত্। সেখানে তাকওয়ার প্রশ্ন রয়ে গেছে। যে রাবীর তাকওয়া যত বেশী উনি তত বিশুদ্ধ রাবী। তাকওয়ার ঘাটতি উনার বিশুদ্ধতার মধ্যে ঘাটতি। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে কি ব্যবহার করেছেন?
মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ব্যাপারে বলা হয়েছে যে, কাবায়িহ নবীগণ অপছন্দনীয় কাজ থেকে পবিত্রতম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত হানাফী মাযহাবে ছদক্বাতুল ফিতর উনার অকাট্য দলীল (৪)
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৪৩)
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৫)
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাফরমানীমূলক কাজ
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মু’তাকিফ ব্যক্তি উনাদের জন্য তিনটি সুসংবাদ
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত হানাফী মাযহাবে ছদক্বাতুল ফিতর উনার অকাট্য দলীল (৩)
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র সূরা দুখান শরীফে বর্ণিত লাইলাতুম মুবারকাই হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত; যে রাত্রি মুবারকে সমস্ত প্রজ্ঞাময় বিষয়সমূহের ফায়ছালা করা হয় (৭)
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












