‘আমরা মরে গেলাম ঋণের দায়ে আর খাওয়ার অভাবে’ -৪ মৃতদেহ উদ্ধার
, ২২ ছফর শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৮ ছালিছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৭ আগস্ট, ২০২৫ খ্রি:, ০২ ভাদ্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) তাজা খবর
রাজশাহী সংবাদদাতা:
সিলিং ফ্যানে ঝুলছিলো সে। পাশে বিছানায় পড়ে আছে বড় ছেলে। পাশের ঘরের বিছানায় স্ত্রী ও ছোট মেয়ে পড়ে আছে। তাদের সবাইকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহের পাশে পাওয়া একটি চিরকুটে লেখা আছে, ‘আমরা মরে গেলাম ঋণের দায়ে আর খাওয়ার অভাবে। ’
ঘটনা জানাজানি হয় গতকাল জুমুয়াবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে। তারপর দুপুরে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রাজশাহীর পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের বামুনশিকড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
মৃত ব্যক্তিরা হলো- ওই এলাকার বাসিন্দা মিনারুল ইসলাম (৩৫), স্ত্রী মনিরা বেগম (২৮) এবং তাদের ছেলে মাহিন (১৩) ও মেয়ে মিথিলা (২)। মাহিন খড়খড়ি উচ্চবিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। আর মিনারুল কৃষিকাজ করতো।
পরিবারের সদস্য, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিনারুল আগে একসময় জুয়া খেলতো। পরে ছেড়ে দেয়। এ জন্য সে ঋণগ্রস্ত ছিলো। দেড় বছর আগে বাবা রুস্তম আলী ধানিজমি বিক্রি করে ঋণের একটা অংশ দেড় লাখ টাকা পরিশোধ করে। এরপরও তার দুই লাখ টাকা ঋণ ছিল। এই ঋণের জন্য প্রতি সপ্তাহে তাকে ২ হাজার ৭০০ টাকার বেশি কিস্তি পরিশোধ করতে হতো। কিন্তু কিস্তি চালাতে পারছিলো না মিনারুল। বাবাকে মিনারুল আর কিছু জমি বিক্রি করে পুরো টাকা পরিশোধ করতে বলেছিলো। কিন্তু বাবা জমি বিক্রি করতে চাননি। এ নিয়ে মা-বাবার সঙ্গে মিনারুল কথা বলা বন্ধ করে দেয়। এমনকি ছেলেমেয়েদেরও মিশতে দিতো না।
মিনারুলের মেয়ে মিথিলা মাছ পছন্দ করে। সকালে মিনারুলের বাবা খড়খড়ি বাইপাস হাট থেকে মাছ কিনে আনে। এ জন্য দাদি আঞ্জুয়ারা বেগম নাতনিকে ডাকতে যান। অনেক ডাকাডাকির পরও কেউ সাড়া দিচ্ছিলেন না। সকাল পৌনে ৯টার দিকে লাগোয়া ঘরের পাশে ঘরের সিলিংয়ের ওপর দিয়ে ছেলেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে জানাজানি হলে প্রতিবেশীরা বাড়িতে আসেন। স্থানীয় পারিলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহেদ আলী পুলিশকে ফোন দেন। পরে পুলিশ এসে ঘরের দরজা খোলে।
মিনারুল ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিলো। ছেলে মাহিন বিছানায় পড়ে ছিল। তার গলার পাশে একটি গামছা পাওয়া যায়। সেখানে দুই পৃষ্ঠার একটি হাতে লেখা চিরকুট পড়ে ছিল। এই ঘরের একটিই দরজা। ঘরের ভেতরে দুটি কক্ষ। পরের কক্ষের বিছানায় স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ পাওয়া যায়। স্ত্রীর গলার পাশে মুঠোফোনের চার্জারের তার পাওয়া যায়। মিনারুলের পরের ঘরটি তার বড় ভাই রুহুলের। তারপরের কক্ষে থাকতো মা-বাবা।
একটা চিরকুট পাওয়া গেছে। দুই পৃষ্ঠার চিরকুটের ওপর লেখা ছিল, ‘আমরা চারজন পৃথিবী থেকে বিদায় নেব, আর দেখা হবে না খোদা হাফেজ। ’ এরপর লেখা ছিল, ‘আমি মিনারুল। নিচে যেসব লেখা লিখব, সব আমার নিজের কথা, এই কারণে লিখে যাচ্ছি, কারণ, রাতে আমরা চারজন মারা যাব। এই মরার জন্য কারও কোনো দোষ নেই। কারণ লিখে না গেলে পুলিশ কাকে না কাকে ফাঁসিয়ে টাকা খাবে। আমি মিনারুল প্রথমে আমার বউকে মেরেছি। তারপর আমার মাহিনকে মেরেছি। তারপর আমার মিথিলাকে মেরেছি। তারপর আমি গলায় ফাঁস দিয়ে মরেছি। আমাদের চারজনের মরা মুখ যেন বাপের বড় ছেলে ও তার বউ-বাচ্চা না দেখে এবং বড় ছেলে যেন জানাজায় না যায়। আমাদের চারজনকে কাফন দিয়ে ঢাকতে আমার বাবা যেন টাকা না দেয়। এটা আমার কসম। (ইতি মিনারুল, আসসালামু আলাইকুম)। ’
আরেক পৃষ্ঠায় লেখা ছিল, ‘আমি নিজ হাতে সবাইকে মারলাম এই কারণে যে আমি একা যদি মরে যাই, তাহলে আমার বউ, ছেলেমেয়ে কার আশায় বেঁচে থাকবে। কষ্ট আর দুঃখ ছাড়া দিতেই পারব না। আমরা মরে গেলাম ঋণের দায়ে আর খাওয়ার অভাবে। এত কষ্ট আর মেনে নিতে পারছি না। তাই আমাদের বেঁচে থাকার চেয়ে মরে গেলাম, সেই ভালো হলো। কারও কাছে কিছু চাইতে হবে না। আমার জন্য কাউকে মানুষের কাছে ছোট হতে হবে না। আমার বাবা আমার জন্য অনেক লোকের কাছে ছোট হয়েছে। আর হতে হবে না। চিরদিনের জন্য চলে গেলাম। আমি চাই, সবাই ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ। ’
মিনারুলের বাবা রুস্তম আলী বলেন, ছেলের কিছু ঋণ ছিল। সেটা খুব বেশি না। নতুন করে কোনো ঋণ আছে কি না, তা জানি না। আগে যেটা ঋণ করেছিল, সেটা ধানিজমি বিক্রি করে দিয়েছি। পরে আর কবে কবে ঋণ করেছিল, সেটা জানি না।
মিনারুলের মা আঞ্জুয়ারা বলেন, কোনো গন্ডগোল ছিল না। ভরণপোষণ আমিই দিই। ধারদেনা ছিল, মাটি (জমি) বিক্রি করে আমি দিয়েছি। আবার নতুন করে ধার করেছে। সকালে মাছ কিনে আনলে ডাকাডাকি করি। পরে দেখি ছেলে ঝুলে আছে। নাতিকে আমিই মানুষ করেছি। আমার ওখানেই থাকত। কীভাবে কী হয়ে গেল। ’ একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নাগালের বাইরে অ্যান্টিবায়োটিক-ইনসুলিনসহ অন্যান্য ওষুধের দাম, নেপথ্যে কী?
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রবাসীদের কল্যাণে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করেছে মন্ত্রণালয়
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল চায় রিহ্যাব
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
স্বর্ণের দামে ফের বড় পতন, ভরিতে কমলো কত?
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
যোদ্ধাদের মর্টার শেলের আঘাতের পর পুড়ে ধ্বংস হচ্ছে দখলদারদের যুদ্ধযান।
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ভোজ্যতেলের দাম এক ফোঁটাও বাড়বে না -বাণিজ্যমন্ত্রী
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মাদরাসা পাঠ্যবইয়ে আকিদা সংযোজনসহ ৬ দফা দাবি
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
তেল-গ্যাসবাহী ৬ জাহাজ চট্টগ্রামে, উদ্বেগ কাটার আশা
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
তৃতীয় টার্মিনালের কার্যক্রম দ্রুত শুরু করতে জাইকার সহযোগিতা কামনা
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঈদে ৭ দিনের সরকারি ছুটি পাবেন না যারা
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দায়িত্বরত পুলিশের এএসআই থেকে সরকারি পিস্তল ছিনতাই
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পাত্র বা ড্রামে তেল সরবরাহ বন্ধের নির্দেশনায় বিপাকে কৃষক
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












