৪০০ কোটি বছরের রহস্যের সমাধান করলো দুই বিজ্ঞানী
, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পাঁচ মিশালী
কেন জীবনের ক্ষেত্রে অণুর একটি ‘হাত’ বেছে নেওয়া হয়েছে বহু বছর ধরে বিজ্ঞানীদের কাছে এটি ছিলো বড় এক রহস্য। এবার সেই রহস্যের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশের সমাধান দিয়েছে দুইজন জাপানি বিজ্ঞানী।
তাদের গবেষণায় দেখানো হয়েছে, রাসায়নিক বিক্রিয়াকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, যাতে একই অণুর দুই দর্পণ-প্রতিবিম্বের মধ্যে কাক্সিক্ষত একটি রূপই প্রধানত, এমনকি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রায় সম্পূর্ণভাবে তৈরি হয়।
বিষয়টি বোঝা যায় মানুষের দুই হাতের উদাহরণে। ডান ও বাঁ হাত দেখতে প্রায় একই হলেও একটিকে অন্যটির ওপর বসিয়ে পুরোপুরি মেলানো যায় না। কিছু অণুর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। এই দুই ভিন্ন রূপকে বলা হয় এনানশিওমার।
অ্যামিনো অ্যাসিডের মতো জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনেক অণু এমন দুই রূপে থাকতে পারে। কিন্তু পৃথিবীর জীবিত প্রাণীরা সাধারণত এর একটি নির্দিষ্ট রূপই ব্যবহার করে। এই বৈশিষ্ট্যই হোমোকাইরালিটি নামে পরিচিত।
সাধারণ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় আবার প্রায়ই দুই ধরনের রূপ সমান অনুপাতে তৈরি হয়। ফলে প্রশ্ন ছিলো -প্রকৃতি কীভাবে একটি রূপকে বেছে নিলো?
এই প্রশ্নের উত্তর খুজতে ১৯৮০-র দশকের শুরুতে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধরনের অনুঘটক ব্যবহার করে রাসায়নিক বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি নিয়ে কাজ করে। এর মাধ্যমে দুই মিরর-ইমেজ অণুর মধ্যে একটি রূপ বেশি পরিমাণে তৈরি করা সম্ভব হয়।
পরে ১৯৯৫ সালে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রকাশ করা হয়। এরপর ২০০৩ সালে তারা এমন একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে সফল হয়, যেখানে সম্ভাব্য দুই কাইরাল রূপের মধ্যে কেবল একটি রূপ তৈরি করা সম্ভব হয়।
এই গবেষণাই পরবর্তীতে ‘সোয়াই রিঅ্যাকশন’ নামে পরিচিত হয়।
এই গবেষণার সবচেয়ে বড় প্রয়োগ ওষুধ তৈরিতে। একই রাসায়নিক সূত্রের দুই মিরর-ইমেজ মানবদেহে একেবারেই ভিন্ন আচরণ করতে পারে। একটি কাক্সিক্ষত চিকিৎসা-প্রভাব তৈরি করলেও অন্যটি অকার্যকর কিংবা ক্ষতিকর হতে পারে।
এর ভয়াবহ উদাহরণ থ্যালিডোমাইড। ১৯৫০-এর দশকে সন্তানসম্ভাবা নারীদের মর্নিং সিকনেসের চিকিৎসায় এটি ব্যবহার করা হয়েছিলো। পরে দেখা যায়, অণুটির একটি নির্দিষ্ট মিরর-ইমেজ গুরুতর জন্মগত ত্রুটির সঙ্গে সম্পর্কিত।
ফলে ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে শুধু সঠিক রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করাই নয়, তার সঠিক কাইরাল রূপ নিয়ন্ত্রণ করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ওষুধের পাশাপাশি সুগন্ধি ও বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্য তৈরিতেও এই প্রযুক্তির গুরুত্ব রয়েছে।
অণুর এই ‘ডান-বাঁ’ বৈশিষ্ট্যের রহস্যের সূত্র পাওয়া যায় উনিশ শতকের আরেক বিজ্ঞানীর গবেষণায়। টারটারিক অ্যাসিড নিয়ে কাজ করতে গিয়ে ওই বিজ্ঞানী দেখতে পায়, এর দুটি ভিন্ন রূপ রয়েছে এবং ব্যাকটেরিয়া এর একটি রূপকে গাঁজন করতে পারে, অন্যটিকে নয়।
সেই পর্যবেক্ষণ থেকেই বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারে, একই ধরনের রাসায়নিক অণুর দুই দর্পণ-প্রতিবিম্বের আচরণ ভিন্ন হতে পারে।
কিন্তু কাক্সিক্ষত রূপটি নিয়ন্ত্রিতভাবে তৈরি করা সম্ভব কি না এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে লেগেছে এক শতাব্দীরও বেশি সময়।
প্রকৃতিতে জীবনের মৌলিক অণুগুলো কীভাবে একটি নির্দিষ্ট ‘হাত’ বেছে নিয়েছে, বিজ্ঞানীরা তার একটি রাসায়নিক অনুকরণ গবেষণাগারে তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, প্রায় ৪০০ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে জীবনের সূচনার কোনো এক পর্যায়ে এই ধরনের কাইরাল নির্বাচনের ঘটনা ঘটেছিলো।
মানসিক চাপ কীভাবে ত্বকের ক্ষতি করে
জীবনের বড় কোনো পরিবর্তনের পর অনেকেরই হঠাৎ ব্রণ, একজিমা বা ত্বকের চুলকানির সমস্যা বেড়ে যেতে দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কাকতালীয় নয়; মানসিক চাপের সঙ্গে ত্বকের স্বাস্থ্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
মানসিক চাপের সময় মস্তিষ্ক থেকে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোন নিঃসৃত হয়। এসব হরমোন শরীরে প্রদাহ বাড়ায় এবং ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা স্তর দুর্বল করে দেয়। ফলে ত্বক আর্দ্রতা হারিয়ে শুষ্ক ও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে, একই সঙ্গে অ্যালার্জি ও সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে।
গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত মানসিক চাপ ত্বকের তৈলগ্রন্থিকে বেশি সিবাম উৎপাদনে উদ্দীপিত করে, যার কারণে লোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্রণের প্রকোপ বাড়তে পারে।
লন্ডনের সাইকোডার্মাটোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. আলিয়া আহমেদ এর মতে, ‘শারীরিক এবং মানসিক- এই দুই ধরনের চাপই আপনার ত্বকের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকের বাইরের প্রতিরক্ষামূলকর স্তর দুর্বল হয়ে পড়লে ত্বক তার আর্দ্রতা খুইয়ে ফেলে। ফলে পরাগরেণু ও সুগন্ধির মতো উত্তেজক ও অ্যালার্জেনিক পদার্থ (অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদান) শরীরে প্রবেশ করতে পারে যা ত্বককে শুষ্ক ও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে।
এ ছাড়া মানসিক চাপ একজিমা, সোরিয়াসিস, আমবাত ও দাদের মতো ত্বকের রোগের উপসর্গও তীব্র করে তুলতে পারে। স্ট্রেসের কারণে ত্বকে হিস্টামিন নিঃসরণ বাড়ে, যা চুলকানির অনুভূতি সৃষ্টি করে। চুলকাতে থাকলে ত্বকের আরও ক্ষতি হয়, ফলে আবারও চুলকানি বাড়ে-এভাবেই তৈরি হয় ‘ইচ-স্ক্র্যাচ’ নামে পরিচিত এক দুষ্টচক্র।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক চাপ ঘুমের ব্যাঘাতও ঘটায়, আর পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ত্বকের নিজেকে মেরামত করার স্বাভাবিক ক্ষমতা কমে যায়। তাই শুধু বাহ্যিক প্রসাধনী ব্যবহার নয়, মানসিক সুস্থতাও ত্বক ভালো রাখার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
লালমনিরহাটে রেলওয়ের বদলে যাওয়ার ইতিহাস
০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
চলনবিলে বিলুপ্তির পথে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য নল বড়শি
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বাংলা কিউআর কীভাবে ব্যবহার করবেন?
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসাগরে তাপ শোষণে নতুন রেকর্ড, এক বছরে মানুষের ব্যবহৃত শক্তির ৪০ গুণ
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
চোখের পাপড়ির কাজ কি?
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
কোন খাবার গ্যাসের সমস্যা বাড়ায়, কোনটা কমায়?
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মানচিত্রে দেশ নেই, আছে সেনা-সংসদ-মুদ্রা!
০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শিয়ালের গোশত, তক্ষক ও জোঁকের তেল, রোগ সারানোর সত্যতা কতটা?
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ডিসলেক্সিয়া সম্পর্কে জানেন, কেন হয়?
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
চাঁদের বুকে গড়ে উঠবে বসতি: কত দিন চলবে পানির ভা-ার?
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার কী ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে?
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ঋণ ও বন্ড বাজারে ধস : চরম সংকটের মুখে বিশ্ব অর্থনীতি
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












