হুব্বে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
, ২২ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৪ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ২৮ পৌষ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) মহিলাদের পাতা
খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন-
فَاِنْ اٰمَنُوْا بِـمِثْلِ مَا اٰمَنْتُمْ بِهٖ فَقَدِ اهْتَدَوْا.
অর্থাৎ আপনারা অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যেরূপ ঈমান মুবারক এনেছেন তদ্রƒপ যদি তারা (অন্য লোকেরা) ঈমান মুবারক গ্রহণ করে তাহলে তারা হিদায়েত মুবারক লাভ করতে পারবে। (পবিত্র সূরা বাক্বারাহ : আয়াত শরীফ ১৩৭)
এ লিখনীতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের বেমেছাল মহব্বত মুবারক প্রকাশের কতিপয় দৃষ্টান্ত উল্লেখ করা হবে। ইনশাআল্লাহ!
(২৪)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য নিজের পিঠকে ঢাল বানালেন
হযরত আবু দুজানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি একজন বীর যোদ্ধা ছিলেন। পবিত্র উহুদ জিহাদে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার একটি তলোয়ার মুবারক নূরুল মাগফিরাত মুবারক (হাত মুবারক)-এ নিয়ে বললেন- এ তরবারি মুবারকের হক্ব আদায় করে কে এর মর্যাদা রক্ষা করবেন? অনেকেই তখন এই তরবারি মুবারক গ্রহণ করার জন্য হাত উঠালেন। উনাদের মধ্যে হযরত আবু দুজানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনিও ছিলেন।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আবু দুজানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হাত মুবারকে এই সম্মানিত তরবারিখানা অর্পণ করলেন।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কর্তৃক প্রদত্ত এই মর্যাদাপূর্ণ তরবারি মুবারক লাভ করে হযরত আবু দুজানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ঈমানী বলে বলিয়ান হয়ে মাথায় পাগরী বেঁধে নিলেন। এরপর তিনি কবিতা আবৃত্তি করতে করতে রণাঙ্গনে আগমন করলেন-
أَنَا الَّذِي عَاهَدَنِي خَلِيلِي ... وَنَحْنُ بِالسَّفْحِ لَدَى النَّخِيلِ
أَلَّا أَقُومَ الدَّهْرَ فِي الْكَيُّولِ ... أَضْرِبُ بِسَيْفِ اللهِ وَالرَّسُولِ
অর্থ: আমি তো সেই ব্যক্তি, যার কাছ থেকে আমার প্রাণাধিক প্রিয় মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খেঁজুর বৃক্ষের নিচে পর্বত পাদদেশে প্রতিশ্রুতি নিয়েছেন। আমি শেষ কাতার পর্যন্ত লড়াই করতে থাকবো। মহান আল্লাহ পাক ও উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পবিত্র তলোয়ার চালিয়ে সামনে অগ্রসর হবো।
তিনি সীমাহীন বীরত্বের সাথে জিহাদ করলেন। বীরবিক্রমে কাফিরদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন। উনার বীরত্বে কুরাঈশ কাফির সৈন্যরা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে ময়দান ছেড়ে পালাতে লাগলো। জিহাদের ময়দানে দ্বিতীয় পর্বে শত্রুরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করার সুযোগ মনে করে চতুর্দিক থেকে তীর নিক্ষেপ করতে লাগলো। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চতুর্দিক বেষ্টন করে উনাদের জান কুরবান করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত গোলামী মুবারক উনার আনজাম দিতে লাগলেন।
হযরত আবু দুজানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি দূর থেকে লক্ষ্য করলেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উদ্দেশ্য করে কাফিররা বৃষ্টির ন্যায় তীর নিক্ষেপ করছে। এ দৃশ্য দেখে তিনি শঙ্কিত হলেন।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান ওজুদ মুবারক উনাকে লক্ষ্য করে কাফিরদের এই চরম বেয়াদবীপূর্ণ সীমা লঙ্ঘনের আস্ফালন দেখে তিনি সংকল্প করলেন, জীবন দিয়ে হলেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নিরাপত্তা গোলামী মুবারক উনার আনজাম দিবো। তাই তিনি দ্রুত এসে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মুখে ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন। তৎক্ষণাৎ উনার অন্তরে চিন্তার উদ্রেক হলো আমি যদি তীরের দিকে সিনা রেখে দাঁড়াই তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার পশ্চাতে পড়ে যাবেন। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পিছন দিয়ে দাঁড়ানো এটাও তো চরম বেয়াদবী। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ঘুরে সিনা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে দিয়ে পিঠ তীরের দিকে করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ!
হযরত আবু দুজানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বাহ্যিক নিরাপত্তার গোলামী মুবারক উনার আনজাম দেয়ার জন্য নিজের পিঠকে ঢাল বানিয়ে দিলেন। সমস্ত তীর, তরবারী ও বর্শার আঘাত নিজের পিঠ দিয়ে ঠেকাতে লাগলেন। যেন কোনো তীর, তরবারী ও বর্শা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুল মুজাসসাম মুবারক (মহাপবিত্র শরীর মুবারক)-এ স্পর্শ করতে না পারে।
তিনি তীর, তরবারী ও বর্শার আঘাতে নিজের পিঠ ক্ষত-বিক্ষত করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নিরাপত্তা গোলামী মুবারক উনার আনজাম দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
খুব চিন্তা ও ফিকিরের বিষয়, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা কত বেমেছালভাবে সীমাহীন মহব্বত মুবারক করেছেন। উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহব্বত মুবারকে, উনার সন্তুষ্টি মুবারকের লক্ষ্যে নিজেদের জীবনকে কুরবান করে দিতে এক মুহূর্তের জন্যও কুণ্ঠাবোধ করেননি, এক মুহূর্তের জন্যও উনারা চিন্তা করেননি। সুবহানাল্লাহ! উনারা চিন্তুা করেন নি যে, আমি যদি শাহাদাতী শান বরণ করি তাহলে আমার পিতা-মাতার কি হবে, আমার আহলিয়া-সন্তানদের কি হবে। সুবহানাল্লাহ! এমনই ছিলো উনাদের সম্মানিত ঈমান মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা ছিলেন সেই মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার পরিপূর্ণ মিছদাক্ব যেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন-
لاَ يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتّٰى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَّالِدِهٖ وَوَلَدِهٖ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ. وَفِيْ رِوَايَةٍ مِنْ مَّالِهٖ وَنَفْسِهٖ.
অর্থ: তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদারই হতে পারবে না যতক্ষণ না সে তার পিতা-মাতা, সন্তান-সন্তুতি এবং সমস্ত মানুষের চেয়ে অপর বর্ণনায় রয়েছে তার মাল-সম্পদ এমনকি নিজের জীবনের চেয়েও আমাকে সবচেয়ে বেশি মহব্বত না করবে। (বুখারী শরীফ)
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের নিকট নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহব্বত মুবারক ছিলেন সমস্ত কিছুর উর্ধ্বে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহব্বত মুবারকে উনারা উনাদের পিতা-মাতা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তানসহ সবকিছুকেই এমনকি নিজের জীবনকেও কুরবান করার জন্য সদা প্রস্তুত ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! উনার সুমহান মহব্বত মুবারক উনার নিকট অন্য সমস্ত কিছুই ছিলো অতি তুচ্ছ থেকে তুচ্ছ। সুবহানাল্লাহ!
যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ন্যায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সমস্ত কিছুর চেয়ে সবচেয়ে বেশি মহব্বত মুবারক করার এবং উনাদের ন্যায় পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়ার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন।
-মুহম্মদ আলমগীর হুসাইন মুরাদী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাছ দোয়া মুবারক পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম পবিত্র যাকাত আদায়
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
গাফলতি বা অসাবধানতা ও তার প্রতিকার
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (৮)
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পুরুষ ও মহিলার নামাযের পার্থক্য
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দুনিয়ার চাকচিক্যে মোহগ্রস্ত হয়ে বদ আমল করার কারণে মানুষকে পরকালে পাকড়াও হতে হবে (১)
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
তালাকদাতা ও তালাকপ্রার্থিনী উভয়ের জন্য রয়েছে অসন্তুষ্টি (৪)
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












