পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
(রাজারবাগ শরীফ উনার সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার ওয়াজ শরীফ থেকে সংকলিত)
, ১১ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ৩০ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মহিলাদের পাতা
(ধারাবাহিক)
হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন-
جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُبَايِعُهُ عَلَى الْهِجْرَةِ، وَتَرَكَ أَبَوَيْهِ يَبْكِيَانِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: اِرْجِعْ إِلَيْهِمَا، وَأَضْحِكْهُمَا كَمَا أَبْكَيْتَهُمَا .
এক ব্যক্তি আসলেন, হিজরতের বাইয়াত করলেন, অর্থাৎ হিজরত করার জন্য বাইয়াত করলেন, সে ব্যক্তি বললো,
يَا رَسُولَ اللَّهِ يَا حَبِيبَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
আমি তো হিজরতের বাইয়াত গ্রহণ করলাম, কিন্তু আমি যখন আসতেছিলাম, তখন আমার পিতা-মাতা উভয়ে কাঁদতেছিলেন। এখন আমি কি করবো?
فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: اِرْجِعْ إِلَيْهِمَا، وَأَضْحِكْهُمَا كَمَا أَبْكَيْتَهُمَا.
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আপনি ফিরে যান। ফিরে গিয়ে তাদেরকে হাসি-খুশী করান, যেভাবে আপনি কাঁদায়েছেন, ঠিক সেইভাবে আপনি তাদেরকে হাসান আবার অর্থাৎ খুশি করান। আপনি কাঁদাবেন সেটা আপনার জন্য ভাল হবে না। আপনি আবার তাদের কাছে যান, গিয়ে তাদেরকে হাসান অর্থাৎ খুশি করান। এটা আপনার দায়িত্ব রয়েছে। কারণ সে ব্যক্তি ব্যতীত উনার পিতা-মাতার খেদমত করার মত কোন লোক ছিলেন না।
কাজেই যার যতটুকু দায়িত্ব রয়েছে, কর্তব্য রয়েছে, সেটা তাকে ঠিক ততটুকু যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে হবে, তাহলে তার জন্য কামিয়াবী, অন্যথায় তার জন্য কোন কামিয়াবী নেই। কারণ প্রত্যেক সন্তানের জন্য পিতা-মাতার হক্ব রয়েছে, আবার পিতা-মাতারও হক্ব রয়েছে সন্তানের প্রতি যথাযথ।
যেটা কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যে সন্তান তার পিতা-মাতার হক্ব যথাযথ আদায় করবে, তার সন্তানেরাও তার হক্ব যথাযথ আদায় করবে। যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতার হক্ব আদায় করবেনা, তার সন্তানেরাও তার হক্ব যথাযথ আদায় করবেনা।
মূলতঃ প্রত্যেকটা বিষয়ের মূল হচ্ছে, মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি। পিতা-মাতার হক্ব আদায় করলে, মহান আল্লাহ পাক তিনি সন্তুষ্ট হন, মহান আল্লাহ পাক উনার রাসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও সন্তুষ্ট হন।
পিতা-মাতার হক্ব প্রত্যেককে আদায় করতে হবে। আর আদায় যদি কেউ না করে, তাহলে সেটা অসন্তুষ্টির কারণ। আযাব এবং গযবের কারণ। কাজেই তা থেকে প্রত্যেকেরই বিরত থাকতে হবে।
যেহেতু যাদের পিতা-মাতা জিন্দা রয়েছে, তাদেরতো সহজ। আর যাদের অতীত হয়ে গেছে, তাদের জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার রাসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যাতে সহজে সে ব্যক্তি পিতা-মাতার সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে, সেটাও বর্ণনা করেছেন।
মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদের প্রত্যেককেই পিতা-মাতার হক্ব আদায় করার তৌফিক দান করেন, যারা জীবিত রয়েছেন আর যারা ইন্তেকাল করে গেছেন, তাদের হক্ব যেন আদায় করার তৌফিক দান করেন। যেটা আমরা আবার সামনে আলোচনা করবো।
পিতা-মাতার হক্ব এবং পিতা-মাতা ইন্তেকাল করার পর অনেক লোক এমনও রয়েছেন। যারা তাদের পিতা-মাতা থাকা অবস্থায় সৎব্যবহার করতে পারেননি। কিন্তু পরবর্তীতে তাদের বুঝ পয়দা হয়েছে, সমঝ এসেছে যে, পিতা-মাতার সাথে খারাপ ব্যবহার করা হয়েছিল, তখন জানা ছিলো না। কিন্তু যখন বুঝ পয়দা হয়েছে, তখন উনারা ইন্তেকাল করেছেন। এখন সে কি করে নেক সন্তান হবে বা পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করবে?
যাদের পিতা-মাতা ইন্তেকাল করেছেন তাদের জন্য সেটা জানারও দায়িত্ব রয়েছে, কর্তব্য রয়েছে। আমরা আলোচনা করবো, সামনে আবার মহান আল্লাহ পাক তিনি তৌফিক দান করলে। আমরা এটাই দোয়া করবো, “মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদের প্রত্যেককেই প্রত্যেকের পিতা-মাতার হক্ব আদায় করার তৌফিক দান করেন। ভুল-ত্রুটি মানুষের হবে, মহান আল্লাহ পাক যেন শোধরায়ে দেন। খালিছ তওবা নছীব করেন।”
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
একসাথে তিন তালাক দেয়ার শরয়ী হুকুম (৩)
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলতের অধিকারী
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
যিকিরের মাধ্যমে ইলমে তাসাউফ অর্জন করা ফরয (৩য় পর্ব)
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল উনার ইন্তিজামকারী বিনা হিসাবে সম্মানিত জান্নাতে প্রবেশ করবেন
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশতে প্রবেশ করবে না
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
একসাথে তিন তালাক দেয়ার শরয়ী হুকুম (২)
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












