সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নছীহত মুবারক:
হজ্জে মাবরুর বা মকবুল হজ্জ পালন করতে হলে কি কি থাকা শর্ত (১)
, ০৭ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৬ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ১৩ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মহিলাদের পাতা
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ উনার ৯৭ নং পবিত্র আয়াত শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন-
وَلِلَّـهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا ۚ وَمَن كَفَرَ فَإِنَّ اللَّـهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ ﴿٩٧﴾
অর্থ মুবারক: “মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের লক্ষ্যে মানুষের জন্য হজ্জ ফরয করা হয়েছে যার বাইতুল্লাহ শরীফ যিয়ারত করার পাথেয় রয়েছে। আর যে ব্যক্তি অস্বীকার করবে, (সে যেন জেনে রাখে) নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত আলম বা কায়িনাত থেকে বেনিয়াজ।”
এই মহাসম্মানিত পবিত্র আয়াত শরীফে ২টি বিষয়ের কথা বলা হয়েছে। ১. لِلَّـهِ অর্থাৎ একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য হজ্জ করতে হবে এবং এতে কোন গাইরুল্লাহ থাকবে না। ২. যার সাবীল থাকবে তার জন্য হজ্জ ফরয।
সাবীল কি সে সম্পর্কে মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالى عَنْهُ قَالَ قِيْلَ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا السَّبِيْلُ اِلَيْهِ؟ قَالَ اَلزَّادُ وَالرَّاحِلَة.ُ (رواه الدارقطني)
অর্থ মুবারক: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, সাবিল কি? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, পাথেয় এবং বাহন।”
অন্য বর্ণনায় এসেছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عُمَر رَضِىَ اللهُ تَعَالى عَنْهُ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا يُوْجِبُ الْحَجَّ؟ قَالَ الزَّادُ وَالرَّاحِلَةُ. (رواه الترمذي وابن ماجه )
অর্থ মুবারক: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্নিত। একজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কোন জিনিস হজ্জকে ওয়াজিব করে? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, পাথেয় এবং বাহন।”
দুনিয়াবী বা মানুষের দৃষ্টিকোণ থেকে “زَّادُ” হলো, হজ্জে যাওয়া ও ফিরে আসা পর্যন্ত নিজের ও পরিবারবর্গের ভরণ-পোষণের সামর্থ থাকা। আর মহান আল্লাহ পাক উনার দৃষ্টিতে “زَّادُ” হলো তাক্বওয়া। এই তাক্বওয়া প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ ১৯৭ নং আয়াত শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন-
وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ يَعْلَمْهُ اللَّـهُ ۗ وَتَزَوَّدُوا فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَىٰ ۚ وَاتَّقُونِ يَا أُولِي الْأَلْبَابِ ﴿١٩٧﴾
অর্থ মুবারক: “তোমরা যতটুকু নেক আমল করো, তা মহান আল্লাহ পাক তিনি জানেন। তোমরা পাথেয় অর্জন করো। নিশ্চয়ই উত্তম পাথেয় হলো তাক্বওয়া।” হে জ্ঞানীগণ! তোমরা আমাকে ভয় করো।
জানার বিষয় হলো তাক্বওয়া কি? তাক্বওয়া হলো, মহান আল্লাহ পাক উনার ভয়ে যাবতীয় গুনাহ্র কাজ থেকে বেঁচে থাকা। আর সম্মানিত হজ্জের জন্য যেহেতু পাথেয় থাকা ফরয। তাই উত্তম পাথেয় অর্থাৎ তাক্বওয়া যতক্ষণ পর্যন্ত অর্জন করা না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত হজ্জ ফরয হওয়ার হুকুম বর্তাবে না।
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ উনার ১৯৭ নং আয়াত শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন-
فَمَن فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي الْحَجِّ
অর্থ মুবারক: হজ্জের মাসসমূহের মধ্যে যে ব্যক্তির উপর হজ্জ ফরয, সে যেন হজ্জের মধ্যে অশ্লীল-অশালীন কাজ, ফাসেকী বা নাফরমানীমূলক কাজ ও ঝগড়া-বিবাদ না করে।”
এই মহাসম্মানিত পবিত্র আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি হজ্জের মাসগুলোতে যে ব্যক্তির প্রতি হজ্জ ফরয তার জন্য رَفَثَ , فُسُوْقَ, جِدَالَনিষিদ্ধ করেছেন। সুতরাং, যে ব্যক্তি হজ্জ পালনের ক্ষেত্রে উপরোক্ত নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকবে না, সে মহান আল্লাহ পাক উনার বিদ্রোহী বা বিরোধিতাকারী।
আর মহান আল্লাহ পাক উনার বিরোধিতাকারীদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি সূরা তওবা শরীফ উনার ৬৩ নং পবিত্র আয়াত শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন-
أَلَمْ يَعْلَمُوا أَنَّهُ مَن يُحَادِدِ اللَّـهَ وَرَسُولَهُ فَأَنَّ لَهُ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدًا فِيهَا ۚ ذَٰلِكَ الْخِزْيُ الْعَظِيمُ ﴿٦٣﴾
অর্থ মুবারক: তারা কি জানেনা অর্থাৎ তারা যেন জেনে রাখে, যারা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের বিরোধিতা করবে তারা অনন্তকাল জাহান্নামে থাকবে। আর এটাই হল বড় ধরনের লাঞ্ছনা।
উল্লেখ্য, কোন ব্যক্তি যদি পাথেয় থাকার পরও হজ্জ না করে বা হজ্জকে অস্বীকার করে, তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন।
সাধারণত আমরা সবাই একে অপরের মুহতাজ। যেমন: একজন ডাক্তার রোগী ছাড়া চিকিৎসা করতে পারেনা, একজন বিচারক বাদী ছাড়া বিচার করতে পারে না, একজন বিক্রেতা ক্রেতা ছাড়া বিক্রি করতে পারে না, একজন যাকাত আদায়কারী গরিব-মিসকীন ছাড়া যাকাত আদায় করতে পারেনা। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি সবার থেকে বেনিয়াজ বা অমুখাপেক্ষী। সুবহানাল্লাহ!
(সংকলনে : মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ বালিকা মাদরাসা।)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পারিবারিক জীবনে একটি মারাত্মক ভুল যার সংশোধন নেই (২)
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
একজন উত্তম নারীর গুণাবলী
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
তওবা
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুসলমানদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণনা
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশ্তে প্রবেশ করবে না
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত তামাযির খুনসা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (১৩)
২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












